আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বাসঘাতকদের চরম পরিণতি (রাবিয়ান সুলতান চৌধুরী)

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • ১১৭ পড়া হয়েছে
১৬৪

বিশ্বাসঘাতকদের চরম পরিণতি
(রাবিয়ান সুলতান চৌধুরী)

বিশ্বাস মানুষের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র—সব জায়গাতেই বিশ্বাস ছাড়া কোনো সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। কিন্তু যখন কেউ সেই বিশ্বাস ভেঙে দেয়, তখন শুধু একটি সম্পর্ক নয়, পুরো একটি বন্ধনের ভিত নড়ে যায়। বিশ্বাসঘাতকতা তাই শুধু একটি কাজ নয়; এটি একটি গভীর ক্ষত, যা মানুষ ও ইতিহাস কখনো সহজে ভুলে যায় না।
ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, ফেরাউন ছিল অহংকার ও ক্ষমতার মোহে অন্ধ এক শাসক। সে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, আল্লাহর নিদর্শন দেখেও অবাধ্যতার সীমা ছাড়িয়েছিল এবং হযরত মূসা (আ.)-এর প্রতি সীমাহীন জুলুম চালিয়েছিল। অবশেষে সে যখন সমুদ্রের বুকের দিকে ধাবিত হলো, তখন মৃত্যু নিশ্চিত জেনে চিৎকার করে উঠেছিল—“আমি মূসার রবের প্রতি ঈমান আনলাম।” কিন্তু তখন তাকে জানিয়ে দেওয়া হলো—এখন আর সময় নেই। তার অহংকার ও বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি তাকে এমন এক ধ্বংসে পৌঁছে দিল, যা কিয়ামত পর্যন্ত অন্যায়কারীদের জন্য এক নিঃশব্দ সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।
ইতিহাসের আরেক অধ্যায়ে বাংলার আকাশ কালো হয়ে আছে মীর জাফরের নাম নিয়ে। ব্যক্তিগত লোভ ও ক্ষমতার মোহে তিনি নিজের নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন এবং বিদেশি শক্তির হাতে দেশের ভাগ্য তুলে দেন। ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরে সেই বিশ্বাসঘাতকতার ছায়াই স্বাধীন বাংলার সূর্যকে ম্লান করে দেয়। ক্ষমতা পেয়েও তিনি শান্তি পাননি, সম্মান পাননি, পাননি মানুষের হৃদয়ে কোনো স্থান। আজ “মীর জাফর” শুধু একজন মানুষ নয়—এটি বিশ্বাসঘাতকতার চিরন্তন প্রতীক, ঘৃণার এক ইতিহাস।
ইতিহাস সাক্ষী—যারা নিজের মাটি, মানুষ ও জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করে, তারা হয়তো সাময়িকভাবে কিছু লাভ পায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমুদ্রের মৎস্য থেকে শুরু করে গর্তের পিপিলিকা পর্যন্তও তাদের ঘৃণা করে! কারণ মজলুমের আর্তনাদ কখনো বৃথা যায় না।
সাম্প্রতিক বাংলাদেশের ইতিহাসও আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। যখন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের জুলুম-নির্যাতন সীমা অতিক্রম করে, যখন মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়, তখন মানুষ প্রতিবাদে জেগে ওঠে। তখন হিন্দু-মুসলিম, দল-মত, সংগঠন—সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ এক কাতারে দাঁড়ায়। কেউ জমিয়ত, কেউ জামায়াত, কেউ বিএনপি, কেউ চরমোনাই—কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবার কণ্ঠ এক হয়ে যায়।
সেই ময়দানে বাংলার দামাল যুবক আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধরা বুক টান করে গেয়ে ওঠে—
“এই যে বুক পেতে দিলাম পারলে গুলি কর
দেশের তরে জীবন বিলিয়ে মোদের ওমর কর।”
দেশের জন্য আত্মত্যাগকারীরা কখনো হারিয়ে যায় না। তারা ইতিহাস হয়ে বেঁচে থাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। একটি বীজ থেকে যেমন শত বৃক্ষ জন্ম নেয়, তেমনি একজন সাহসী শহীদের রক্ত থেকে জন্ম নেয় হাজারো নতুন প্রতিবাদী কণ্ঠ।
আজও যদি কেউ এই দেশ, মাটি ও মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চায়, তবে মনে রাখতে হবে—এই বাংলার মাটিতে সাহস কখনো মরে না। একজন আবু সাঈদ, একজন মীর, একজন হাদীর আত্মত্যাগ থেকে জন্ম নেবে লক্ষ নতুন সাহসী তরুণ, যারা দেশ ও সত্যের জন্য আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত থাকবে।
আবারও জীবন দেবে… আবারও… আবারও…!

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

বিশ্বাসঘাতকদের চরম পরিণতি (রাবিয়ান সুলতান চৌধুরী)

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
১৬৪

বিশ্বাসঘাতকদের চরম পরিণতি
(রাবিয়ান সুলতান চৌধুরী)

বিশ্বাস মানুষের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র—সব জায়গাতেই বিশ্বাস ছাড়া কোনো সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। কিন্তু যখন কেউ সেই বিশ্বাস ভেঙে দেয়, তখন শুধু একটি সম্পর্ক নয়, পুরো একটি বন্ধনের ভিত নড়ে যায়। বিশ্বাসঘাতকতা তাই শুধু একটি কাজ নয়; এটি একটি গভীর ক্ষত, যা মানুষ ও ইতিহাস কখনো সহজে ভুলে যায় না।
ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, ফেরাউন ছিল অহংকার ও ক্ষমতার মোহে অন্ধ এক শাসক। সে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, আল্লাহর নিদর্শন দেখেও অবাধ্যতার সীমা ছাড়িয়েছিল এবং হযরত মূসা (আ.)-এর প্রতি সীমাহীন জুলুম চালিয়েছিল। অবশেষে সে যখন সমুদ্রের বুকের দিকে ধাবিত হলো, তখন মৃত্যু নিশ্চিত জেনে চিৎকার করে উঠেছিল—“আমি মূসার রবের প্রতি ঈমান আনলাম।” কিন্তু তখন তাকে জানিয়ে দেওয়া হলো—এখন আর সময় নেই। তার অহংকার ও বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি তাকে এমন এক ধ্বংসে পৌঁছে দিল, যা কিয়ামত পর্যন্ত অন্যায়কারীদের জন্য এক নিঃশব্দ সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।
ইতিহাসের আরেক অধ্যায়ে বাংলার আকাশ কালো হয়ে আছে মীর জাফরের নাম নিয়ে। ব্যক্তিগত লোভ ও ক্ষমতার মোহে তিনি নিজের নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন এবং বিদেশি শক্তির হাতে দেশের ভাগ্য তুলে দেন। ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরে সেই বিশ্বাসঘাতকতার ছায়াই স্বাধীন বাংলার সূর্যকে ম্লান করে দেয়। ক্ষমতা পেয়েও তিনি শান্তি পাননি, সম্মান পাননি, পাননি মানুষের হৃদয়ে কোনো স্থান। আজ “মীর জাফর” শুধু একজন মানুষ নয়—এটি বিশ্বাসঘাতকতার চিরন্তন প্রতীক, ঘৃণার এক ইতিহাস।
ইতিহাস সাক্ষী—যারা নিজের মাটি, মানুষ ও জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করে, তারা হয়তো সাময়িকভাবে কিছু লাভ পায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমুদ্রের মৎস্য থেকে শুরু করে গর্তের পিপিলিকা পর্যন্তও তাদের ঘৃণা করে! কারণ মজলুমের আর্তনাদ কখনো বৃথা যায় না।
সাম্প্রতিক বাংলাদেশের ইতিহাসও আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। যখন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের জুলুম-নির্যাতন সীমা অতিক্রম করে, যখন মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়, তখন মানুষ প্রতিবাদে জেগে ওঠে। তখন হিন্দু-মুসলিম, দল-মত, সংগঠন—সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ এক কাতারে দাঁড়ায়। কেউ জমিয়ত, কেউ জামায়াত, কেউ বিএনপি, কেউ চরমোনাই—কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবার কণ্ঠ এক হয়ে যায়।
সেই ময়দানে বাংলার দামাল যুবক আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধরা বুক টান করে গেয়ে ওঠে—
“এই যে বুক পেতে দিলাম পারলে গুলি কর
দেশের তরে জীবন বিলিয়ে মোদের ওমর কর।”
দেশের জন্য আত্মত্যাগকারীরা কখনো হারিয়ে যায় না। তারা ইতিহাস হয়ে বেঁচে থাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। একটি বীজ থেকে যেমন শত বৃক্ষ জন্ম নেয়, তেমনি একজন সাহসী শহীদের রক্ত থেকে জন্ম নেয় হাজারো নতুন প্রতিবাদী কণ্ঠ।
আজও যদি কেউ এই দেশ, মাটি ও মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চায়, তবে মনে রাখতে হবে—এই বাংলার মাটিতে সাহস কখনো মরে না। একজন আবু সাঈদ, একজন মীর, একজন হাদীর আত্মত্যাগ থেকে জন্ম নেবে লক্ষ নতুন সাহসী তরুণ, যারা দেশ ও সত্যের জন্য আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত থাকবে।
আবারও জীবন দেবে… আবারও… আবারও…!