আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমাদের গ্রাম’ গল্পটি লিখছেন মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৯৪ পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

১২৮

আমাদের গ্রাম
মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক টুকরো সবুজ স্বপ্ন-নাম তার বাউনী। এই গ্রামকে শুধু গ্রাম বললে ভুল হবে, যেন প্রকৃতির আঁচলে বাঁধা এক মমতার সংসার। ভোরের প্রথম সূর্যের আলো যখন ধানের ক্ষেতে সোনালি রঙ মেখে দেয়, তখন মনে হয় যেন কেউ নিঃশব্দে আশীর্বাদ ছড়িয়ে দিয়েছে চারদিকে।

বাউনী গ্রামের সকাল শুরু হয় আজানের সুরে। কুয়াশা ভেজা বাতাসে মিশে থাকে এক অপার্থিব শান্তি। পাখিদের ডাক, গরুর ঘণ্টার শব্দ, আর মাটির গন্ধ সব মিলিয়ে যেন এক অদৃশ্য সংগীত বেজে ওঠে। এই গ্রামের প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি পথ যেন একে অপরের আপন।

গ্রামের চারদিকে সবুজের এমন সমারোহ যে চোখ জুড়িয়ে যায়। ধান, পাট, শাকসবজি মাটির সাথে মানুষের সম্পর্ক এখানে রক্তের মতো গভীর। কৃষকের ঘামে ভেজা জমি যেন সন্তানসম। বাউনীর মাটি শুধু ফসলই জন্মায় না, জন্ম দেয় ভালোবাসা, ঐক্য আর জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

গ্রামের এক প্রান্তে বয়ে চলেছে ছোট্ট পারুলী খাল। কিন্তু এই খাল শুধু পানি নয়, এটি যেন আমাদের শৈশবের স্মৃতির ভান্ডার। বর্ষা এলেই খালটি যেন নিজের রূপ পাল্টে ফেলে একসময়কার শান্ত খাল তখন হয়ে ওঠে এক উচ্ছল নদী। স্রোতের শব্দে, ঢেউয়ের খেলায়, মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই আনন্দে মাতোয়ারা।

শৈশবের সেই দিনগুলো আজও চোখে ভাসে। আমরা বন্ধুরা মিলে ছুটে যেতাম সেই খালের পাড়ে। নির্মল আনন্দে ভরা সেই সময় ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে একে অপরকে চ্যালেঞ্জ করতাম, কে আগে লাফ দেবে। তারপর এক ঝাঁপে নেমে যেতাম পানির বুকে। কলাগাছ কেটে বানানো ভেলায় চড়ে আমরা ভেসে যেতাম দূর দূরান্তে মাইলের পর মাইল। তখন কোনো ভয় ছিল না, কোনো হিসাব ছিল না ছিল শুধু আনন্দ, আর একরাশ স্বপ্ন।

বাউনী গ্রামের শিক্ষার আলোও কম নয়। এখানে রয়েছে একটি মহিলা উচ্চ বিদ্যালয় এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়গুলো শুধু শিক্ষা দেয় না, গড়ে তোলে মানুষ। গ্রামের ছেলে-মেয়েরা এখান থেকেই শিখে নেয় জীবনের প্রথম পাঠ মানবতা, সম্মান আর দায়িত্ববোধ।

গ্রামের প্রতিটি পাড়ায় একটি করে মসজিদ। আজানের ধ্বনি যখন চারদিক থেকে ভেসে আসে, তখন মনে হয় যেন পুরো গ্রাম একসাথে প্রার্থনায় মগ্ন। ধর্ম এখানে বিভেদ নয়, বরং একতার সেতুবন্ধন। এরই প্রমাণ গ্রামের শেষ প্রান্তের সেই হিন্দু পাড়া। ধর্ম আলাদা হলেও হৃদয়ের বন্ধন এক। ঈদে তারা আসে আমাদের বাড়িতে, দুর্গাপূজায় আমরা যাই তাদের আনন্দে শরিক হতে। এই মিলনই বাউনীর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।

গ্রামের কেন্দ্রীয় মাঠটি যেন আমাদের শৈশবের প্রাণ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই মাঠেই কেটেছে কত বিকেল। ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল কোন খেলাটা খেলিনি আমরা? জয়ের উল্লাস, পরাজয়ের কষ্ট সবকিছুই ভাগ করে নিয়েছি একসাথে। সেই মাঠে শুধু খেলা হয়নি, গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব, তৈরি হয়েছে অটুট সম্পর্ক।

কিন্তু সময় বদলেছে। এখনকার শিশুদের হাতে বলের বদলে মোবাইল ফোন। মাঠ ফাঁকা পড়ে থাকে, আর ভার্চুয়াল জগতে ডুবে থাকে নতুন প্রজন্ম। ফেইসবুক, ইউটিউব আর রাজনীতির আলোচনায় তারা ব্যস্ত, কিন্তু হারিয়ে ফেলছে সেই নির্মল শৈশব, সেই মাটির গন্ধ।

গ্রামের শেষ দিকে গড়ে উঠেছে একটি বাজার, যা আজ পুরো গ্রামের প্রাণকেন্দ্র। এখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। কেউ আসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে, কেউ আসে আড্ডা দিতে, কেউবা আসে খবর নিতে। এই বাজার থেকেই ছড়িয়ে পড়ে খবর, আলোচনা, কখনো রাজনীতি, কখনো কূটনীতি সবকিছুই যেন এখান থেকে প্রবাহিত হয়ে পৌঁছে যায় প্রতিটি ঘরে।

বাউনী গ্রামের মানুষও নানা পেশায় নিয়োজিত। কেউ চাকুরিজীবী, কেউ আইনজীবী, কেউ শিক্ষক, কেউ কবি, কেউ প্রবাসী শ্রমিক। আবার আছে ছাত্র, আছে কৃষক। কিন্তু এত ভিন্নতার মাঝেও তাদের একটাই পরিচয় তারা বাউনীর মানুষ।

এই গ্রামের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য। কোনো বিপদ এলে সবাই এক হয়ে দাঁড়ায়। কারো বাড়িতে আগুন লাগলে পুরো গ্রাম ছুটে আসে, কারো অসুখ হলে সবাই পাশে থাকে। এখানে মানুষ শুধু নিজের জন্য বাঁচে না, বাঁচে অন্যের জন্যও।

একবার গ্রামের এক দরিদ্র কৃষকের ঘর ঝড়ে ভেঙে গিয়েছিল। রাতারাতি পুরো গ্রাম এক হয়ে সেই ঘর আবার তৈরি করে দিয়েছিল। কেউ টাকা দিয়েছে, কেউ শ্রম দিয়েছে, কেউ খাবার নিয়ে এসেছে। সেই দিন বুঝেছিলাম গ্রাম মানে শুধু জায়গা নয়, গ্রাম মানে এক বিশাল পরিবার।

বাউনীর আকাশও যেন অন্যরকম। রাতে যখন তারারা জ্বলে ওঠে, তখন মনে হয় যেন আকাশ নেমে এসেছে মাটির কাছে। শহরের মতো এখানে কোলাহল নেই, আছে শুধু নিঃশব্দ শান্তি।

তবে এই গ্রামেরও কিছু দুঃখ আছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু বদলে যাচ্ছে। মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়ছে, সম্পর্কগুলো ধীরে ধীরে আলগা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তবুও কোথাও না কোথাও সেই পুরনো বাউনী এখনও বেঁচে আছে মানুষের হৃদয়ে, স্মৃতির ভাঁজে।

একদিন হয়তো আমরা সবাই ছড়িয়ে পড়বো পৃথিবীর নানা প্রান্তে। কেউ শহরে, কেউ বিদেশে। কিন্তু যখনই চোখ বন্ধ করবো, মনে পড়বে সেই ছোট্ট গ্রাম বাউনী। মনে পড়বে পারুলী খালের জল, সেই মাঠ, সেই বাজার, সেই মানুষগুলো।

কারণ, গ্রাম শুধু জন্মস্থান নয় এটা আমাদের আত্মার ঠিকানা।

বাউনী আমাদের শিখিয়েছে ভালোবাসতে, শিখিয়েছে একসাথে বাঁচতে, শিখিয়েছে মানুষ হতে। তাই যত দূরেই যাই না কেন, এই গ্রামের টান কখনো শেষ হবে না।

শেষ বিকেলের রোদ যখন ধীরে ধীরে মাটির কোলে মিশে যায়, তখন বাউনী গ্রামটিকে দেখে মনে হয় এ যেন এক জীবন্ত কবিতা। যেখানে প্রতিটি শব্দে আছে মমতা, প্রতিটি লাইনে আছে স্মৃতি, আর প্রতিটি নিঃশ্বাসে আছে ভালোবাসা।
এই গ্রামই আমাদের গর্ব, আমাদের শিকড়, আমাদের চিরন্তন আশ্রয়।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

nadira akter

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

‘আমাদের গ্রাম’ গল্পটি লিখছেন মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
১২৮

আমাদের গ্রাম
মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক টুকরো সবুজ স্বপ্ন-নাম তার বাউনী। এই গ্রামকে শুধু গ্রাম বললে ভুল হবে, যেন প্রকৃতির আঁচলে বাঁধা এক মমতার সংসার। ভোরের প্রথম সূর্যের আলো যখন ধানের ক্ষেতে সোনালি রঙ মেখে দেয়, তখন মনে হয় যেন কেউ নিঃশব্দে আশীর্বাদ ছড়িয়ে দিয়েছে চারদিকে।

বাউনী গ্রামের সকাল শুরু হয় আজানের সুরে। কুয়াশা ভেজা বাতাসে মিশে থাকে এক অপার্থিব শান্তি। পাখিদের ডাক, গরুর ঘণ্টার শব্দ, আর মাটির গন্ধ সব মিলিয়ে যেন এক অদৃশ্য সংগীত বেজে ওঠে। এই গ্রামের প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি পথ যেন একে অপরের আপন।

গ্রামের চারদিকে সবুজের এমন সমারোহ যে চোখ জুড়িয়ে যায়। ধান, পাট, শাকসবজি মাটির সাথে মানুষের সম্পর্ক এখানে রক্তের মতো গভীর। কৃষকের ঘামে ভেজা জমি যেন সন্তানসম। বাউনীর মাটি শুধু ফসলই জন্মায় না, জন্ম দেয় ভালোবাসা, ঐক্য আর জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

গ্রামের এক প্রান্তে বয়ে চলেছে ছোট্ট পারুলী খাল। কিন্তু এই খাল শুধু পানি নয়, এটি যেন আমাদের শৈশবের স্মৃতির ভান্ডার। বর্ষা এলেই খালটি যেন নিজের রূপ পাল্টে ফেলে একসময়কার শান্ত খাল তখন হয়ে ওঠে এক উচ্ছল নদী। স্রোতের শব্দে, ঢেউয়ের খেলায়, মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই আনন্দে মাতোয়ারা।

শৈশবের সেই দিনগুলো আজও চোখে ভাসে। আমরা বন্ধুরা মিলে ছুটে যেতাম সেই খালের পাড়ে। নির্মল আনন্দে ভরা সেই সময় ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে একে অপরকে চ্যালেঞ্জ করতাম, কে আগে লাফ দেবে। তারপর এক ঝাঁপে নেমে যেতাম পানির বুকে। কলাগাছ কেটে বানানো ভেলায় চড়ে আমরা ভেসে যেতাম দূর দূরান্তে মাইলের পর মাইল। তখন কোনো ভয় ছিল না, কোনো হিসাব ছিল না ছিল শুধু আনন্দ, আর একরাশ স্বপ্ন।

বাউনী গ্রামের শিক্ষার আলোও কম নয়। এখানে রয়েছে একটি মহিলা উচ্চ বিদ্যালয় এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়গুলো শুধু শিক্ষা দেয় না, গড়ে তোলে মানুষ। গ্রামের ছেলে-মেয়েরা এখান থেকেই শিখে নেয় জীবনের প্রথম পাঠ মানবতা, সম্মান আর দায়িত্ববোধ।

গ্রামের প্রতিটি পাড়ায় একটি করে মসজিদ। আজানের ধ্বনি যখন চারদিক থেকে ভেসে আসে, তখন মনে হয় যেন পুরো গ্রাম একসাথে প্রার্থনায় মগ্ন। ধর্ম এখানে বিভেদ নয়, বরং একতার সেতুবন্ধন। এরই প্রমাণ গ্রামের শেষ প্রান্তের সেই হিন্দু পাড়া। ধর্ম আলাদা হলেও হৃদয়ের বন্ধন এক। ঈদে তারা আসে আমাদের বাড়িতে, দুর্গাপূজায় আমরা যাই তাদের আনন্দে শরিক হতে। এই মিলনই বাউনীর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।

গ্রামের কেন্দ্রীয় মাঠটি যেন আমাদের শৈশবের প্রাণ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই মাঠেই কেটেছে কত বিকেল। ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল কোন খেলাটা খেলিনি আমরা? জয়ের উল্লাস, পরাজয়ের কষ্ট সবকিছুই ভাগ করে নিয়েছি একসাথে। সেই মাঠে শুধু খেলা হয়নি, গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব, তৈরি হয়েছে অটুট সম্পর্ক।

কিন্তু সময় বদলেছে। এখনকার শিশুদের হাতে বলের বদলে মোবাইল ফোন। মাঠ ফাঁকা পড়ে থাকে, আর ভার্চুয়াল জগতে ডুবে থাকে নতুন প্রজন্ম। ফেইসবুক, ইউটিউব আর রাজনীতির আলোচনায় তারা ব্যস্ত, কিন্তু হারিয়ে ফেলছে সেই নির্মল শৈশব, সেই মাটির গন্ধ।

গ্রামের শেষ দিকে গড়ে উঠেছে একটি বাজার, যা আজ পুরো গ্রামের প্রাণকেন্দ্র। এখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। কেউ আসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে, কেউ আসে আড্ডা দিতে, কেউবা আসে খবর নিতে। এই বাজার থেকেই ছড়িয়ে পড়ে খবর, আলোচনা, কখনো রাজনীতি, কখনো কূটনীতি সবকিছুই যেন এখান থেকে প্রবাহিত হয়ে পৌঁছে যায় প্রতিটি ঘরে।

বাউনী গ্রামের মানুষও নানা পেশায় নিয়োজিত। কেউ চাকুরিজীবী, কেউ আইনজীবী, কেউ শিক্ষক, কেউ কবি, কেউ প্রবাসী শ্রমিক। আবার আছে ছাত্র, আছে কৃষক। কিন্তু এত ভিন্নতার মাঝেও তাদের একটাই পরিচয় তারা বাউনীর মানুষ।

এই গ্রামের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য। কোনো বিপদ এলে সবাই এক হয়ে দাঁড়ায়। কারো বাড়িতে আগুন লাগলে পুরো গ্রাম ছুটে আসে, কারো অসুখ হলে সবাই পাশে থাকে। এখানে মানুষ শুধু নিজের জন্য বাঁচে না, বাঁচে অন্যের জন্যও।

একবার গ্রামের এক দরিদ্র কৃষকের ঘর ঝড়ে ভেঙে গিয়েছিল। রাতারাতি পুরো গ্রাম এক হয়ে সেই ঘর আবার তৈরি করে দিয়েছিল। কেউ টাকা দিয়েছে, কেউ শ্রম দিয়েছে, কেউ খাবার নিয়ে এসেছে। সেই দিন বুঝেছিলাম গ্রাম মানে শুধু জায়গা নয়, গ্রাম মানে এক বিশাল পরিবার।

বাউনীর আকাশও যেন অন্যরকম। রাতে যখন তারারা জ্বলে ওঠে, তখন মনে হয় যেন আকাশ নেমে এসেছে মাটির কাছে। শহরের মতো এখানে কোলাহল নেই, আছে শুধু নিঃশব্দ শান্তি।

তবে এই গ্রামেরও কিছু দুঃখ আছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু বদলে যাচ্ছে। মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়ছে, সম্পর্কগুলো ধীরে ধীরে আলগা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তবুও কোথাও না কোথাও সেই পুরনো বাউনী এখনও বেঁচে আছে মানুষের হৃদয়ে, স্মৃতির ভাঁজে।

একদিন হয়তো আমরা সবাই ছড়িয়ে পড়বো পৃথিবীর নানা প্রান্তে। কেউ শহরে, কেউ বিদেশে। কিন্তু যখনই চোখ বন্ধ করবো, মনে পড়বে সেই ছোট্ট গ্রাম বাউনী। মনে পড়বে পারুলী খালের জল, সেই মাঠ, সেই বাজার, সেই মানুষগুলো।

কারণ, গ্রাম শুধু জন্মস্থান নয় এটা আমাদের আত্মার ঠিকানা।

বাউনী আমাদের শিখিয়েছে ভালোবাসতে, শিখিয়েছে একসাথে বাঁচতে, শিখিয়েছে মানুষ হতে। তাই যত দূরেই যাই না কেন, এই গ্রামের টান কখনো শেষ হবে না।

শেষ বিকেলের রোদ যখন ধীরে ধীরে মাটির কোলে মিশে যায়, তখন বাউনী গ্রামটিকে দেখে মনে হয় এ যেন এক জীবন্ত কবিতা। যেখানে প্রতিটি শব্দে আছে মমতা, প্রতিটি লাইনে আছে স্মৃতি, আর প্রতিটি নিঃশ্বাসে আছে ভালোবাসা।
এই গ্রামই আমাদের গর্ব, আমাদের শিকড়, আমাদের চিরন্তন আশ্রয়।