আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“বিশ্বাসঘাতকতা” গল্পটি লিখেছেন -এম এ রহমান

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ৪৬৪ পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

৫১৯

বিশ্বাসঘাতকতা
‎ -এম এ রহমান

‎নির্জন বারান্দাটা শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, তবুও যেন সব শব্দ এসে জমা হতো এখানে। সন্ধ্যার আলো ম্লান হয়ে এলে, বারান্দার রেলিংয়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম আমি। এই জায়গাটাই ছিল আমাদের – আমার আর তার।

‎তার চোখে ছিল আলোর আবেশ, এমন এক দীপ্তি যা প্রথম দেখাতেই বিশ্বাস জাগায়। আমি ভাবতাম, মানুষটা অন্যরকম। তার প্রতিটি কথা, প্রতিটি হাসি, এমনকি নীরবতাও ছিল যেন গভীর কোনো সত্যের বহিঃপ্রকাশ।

‎ধীরে ধীরে আমি তার জগতে ঢুকে পড়লাম। সে আমার কবিতা পড়ত, আমার গানের লাইন শুনে চুপ করে থাকত, তারপর বলত, “তুমি আলাদা।” সেই একটি শব্দেই আমি নিজেকে খুঁজে পেতাম নতুন করে।

‎তার পরিবারও আমাকে আপন করে নিয়েছিল। একসময় মনে হয়েছিল, এটাই হয়তো সেই সম্পর্ক, যেটা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে। যেখানে কোনো অভিনয় নেই, নেই কোনো ছলনা। কিন্তু মানুষকে চেনা কি এত সহজ?

একদিন, হঠাৎ করেই কিছু অদ্ভুত পরিবর্তন চোখে পড়তে শুরু করল। তার কথাগুলো আর আগের মতো লাগত না। কিছু শব্দে যেন কৃত্রিমতা ছিল, কিছু হাসিতে লুকানো ছিল অস্বস্তি। আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি। নিজের মনকেই দোষ দিয়েছিলাম।

‎তারপর এক সন্ধ্যায়, সেই নির্জন বারান্দায় দাঁড়িয়ে, আমি তার ফোনে দেখা কিছু মেসেজ গুনতে শুরু করলাম। প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সবই ছিল আমার কাছে বলা কথাগুলোর প্রতিলিপি, শুধু মানুষটা আলাদা। মুহূর্তটা যেন থেমে গিয়েছিল।
আমি বুঝতে পারলাম, যে ভালোবাসাকে আমি সত্য ভেবেছিলাম, সেটাই ছিল তার সবচেয়ে নিখুঁত অভিনয়। আমার জন্য লেখা প্রতিটি শব্দ ছিল পূর্বনির্ধারিত প্রতারণার মঞ্চায়ন। সেদিন কিছু বলিনি আমি। শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম বারান্দায়, আকাশের দিকে তাকিয়ে। মনে হচ্ছিল, বুকের ভেতর কিছু একটা ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে।
বিশ্বাস। হ্যাঁ, বিশ্বাসটাই।

তারপর বুঝলাম, বিশ্বাস হারালে শুধু মন ভাঙে না, হৃদয়ের প্রতিটি রক্তকণা কাঁদে। প্রতিটি স্মৃতি বিষ হয়ে ওঠে, প্রতিটি মুহূর্ত প্রশ্ন হয়ে ফিরে আসে।
‎সেদিনের পর থেকে আমি আর আগের মানুষটা নেই।

এখনও মাঝে মাঝে সেই বারান্দায় যাই। দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু এখন আর কাউকে খুঁজি না। কারণ আমি শিখে গেছি–
‎সব আলো আলো নয়, কিছু আলো শুধু অন্ধকারকে সুন্দর করে তুলে ধরে।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

“বিশ্বাসঘাতকতা” গল্পটি লিখেছেন -এম এ রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
৫১৯

বিশ্বাসঘাতকতা
‎ -এম এ রহমান

‎নির্জন বারান্দাটা শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, তবুও যেন সব শব্দ এসে জমা হতো এখানে। সন্ধ্যার আলো ম্লান হয়ে এলে, বারান্দার রেলিংয়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম আমি। এই জায়গাটাই ছিল আমাদের – আমার আর তার।

‎তার চোখে ছিল আলোর আবেশ, এমন এক দীপ্তি যা প্রথম দেখাতেই বিশ্বাস জাগায়। আমি ভাবতাম, মানুষটা অন্যরকম। তার প্রতিটি কথা, প্রতিটি হাসি, এমনকি নীরবতাও ছিল যেন গভীর কোনো সত্যের বহিঃপ্রকাশ।

‎ধীরে ধীরে আমি তার জগতে ঢুকে পড়লাম। সে আমার কবিতা পড়ত, আমার গানের লাইন শুনে চুপ করে থাকত, তারপর বলত, “তুমি আলাদা।” সেই একটি শব্দেই আমি নিজেকে খুঁজে পেতাম নতুন করে।

‎তার পরিবারও আমাকে আপন করে নিয়েছিল। একসময় মনে হয়েছিল, এটাই হয়তো সেই সম্পর্ক, যেটা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে। যেখানে কোনো অভিনয় নেই, নেই কোনো ছলনা। কিন্তু মানুষকে চেনা কি এত সহজ?

একদিন, হঠাৎ করেই কিছু অদ্ভুত পরিবর্তন চোখে পড়তে শুরু করল। তার কথাগুলো আর আগের মতো লাগত না। কিছু শব্দে যেন কৃত্রিমতা ছিল, কিছু হাসিতে লুকানো ছিল অস্বস্তি। আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি। নিজের মনকেই দোষ দিয়েছিলাম।

‎তারপর এক সন্ধ্যায়, সেই নির্জন বারান্দায় দাঁড়িয়ে, আমি তার ফোনে দেখা কিছু মেসেজ গুনতে শুরু করলাম। প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সবই ছিল আমার কাছে বলা কথাগুলোর প্রতিলিপি, শুধু মানুষটা আলাদা। মুহূর্তটা যেন থেমে গিয়েছিল।
আমি বুঝতে পারলাম, যে ভালোবাসাকে আমি সত্য ভেবেছিলাম, সেটাই ছিল তার সবচেয়ে নিখুঁত অভিনয়। আমার জন্য লেখা প্রতিটি শব্দ ছিল পূর্বনির্ধারিত প্রতারণার মঞ্চায়ন। সেদিন কিছু বলিনি আমি। শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম বারান্দায়, আকাশের দিকে তাকিয়ে। মনে হচ্ছিল, বুকের ভেতর কিছু একটা ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে।
বিশ্বাস। হ্যাঁ, বিশ্বাসটাই।

তারপর বুঝলাম, বিশ্বাস হারালে শুধু মন ভাঙে না, হৃদয়ের প্রতিটি রক্তকণা কাঁদে। প্রতিটি স্মৃতি বিষ হয়ে ওঠে, প্রতিটি মুহূর্ত প্রশ্ন হয়ে ফিরে আসে।
‎সেদিনের পর থেকে আমি আর আগের মানুষটা নেই।

এখনও মাঝে মাঝে সেই বারান্দায় যাই। দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু এখন আর কাউকে খুঁজি না। কারণ আমি শিখে গেছি–
‎সব আলো আলো নয়, কিছু আলো শুধু অন্ধকারকে সুন্দর করে তুলে ধরে।