আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“সংগ্রাম থেকে স্বপ্নজয়” গল্পটি লিখেছেন নাইমুর রহমান সোহাগ

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ৯৯ পড়া হয়েছে
১৪৬

লেখার ধরন: ছোটগল্প
শিরোনাম: সংগ্রাম থেকে স্বপ্নজয়
কলমে: নাইমুর রহমান সোহাগ
ঠিকানা: ময়মনসিংহ

দূর গ্রামের মেয়ে মরিয়ম। ছোটবেলা থেকেই তার জীবন ছিল অভাব আর প্রতিকূলতায় ভরা। বাবা দিনমজুর, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। অনেকেই বলত, “মেয়েদের বেশি পড়াশোনার দরকার কী? একদিন তো সংসারই করতে হবে।” কিন্তু মরিয়মের চোখে ছিল অন্য স্বপ্ন—সে পড়বে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে, আর প্রমাণ করবে যে নারীর ক্ষমতা কোনো অংশে কম নয়।

প্রতিদিন ভোরে উঠে সে মাকে কাজে সাহায্য করত। তারপর কয়েক কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যেত। পথ সহজ ছিল না। কখনো অর্থের অভাব, কখনো মানুষের কটূকথা, আবার কখনো সমাজের অদৃশ্য বাধা তাকে থামাতে চাইত। তবু মরিয়ম থামেনি। তার বিশ্বাস ছিল—সংগ্রাম ছাড়া সফলতার আলো জ্বলে না।

স্কুলের শিক্ষকরা ধীরে ধীরে তার মেধা ও পরিশ্রম লক্ষ্য করলেন। তারা তাকে উৎসাহ দিলেন। অনেক সময় বই কেনার টাকাও জোগাড় হতো না, তখন শিক্ষকরা নিজেরাই সাহায্য করতেন। মরিয়ম রাত জেগে পড়ত, আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করত—একদিন সে এমন জায়গায় পৌঁছাবে, যেখানে দাঁড়িয়ে অন্য মেয়েদের জন্য পথ দেখাতে পারবে।

বছর কেটে গেল। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফলে মরিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেল। সেই খবর শুনে গ্রামের অনেক মানুষ অবাক হয়েছিল। যারা একসময় বলেছিল মেয়েদের দিয়ে কিছু হয় না, তারাই এখন গর্ব করে বলত—“মরিয়ম আমাদের গ্রামের মেয়ে।”

পড়াশোনা শেষ করে মরিয়ম একটি ভালো চাকরি পেল। কিন্তু সে শুধু নিজের সাফল্যে থেমে থাকেনি। সে গ্রামে ফিরে গিয়ে মেয়েদের পড়াশোনার জন্য একটি ছোট শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তোলে। সেখানে সে সবাইকে শেখাত—নারী মানে দুর্বলতা নয়, নারী মানে সম্ভাবনা, সাহস আর আলোর পথ।

মরিয়মের জীবনের গল্প ধীরে ধীরে আশপাশের মানুষকে বদলে দিতে শুরু করল। অনেক পরিবার তাদের মেয়েদের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দিল।

সেদিন মরিয়ম বুঝতে পারল—নারীর সংগ্রাম শুধু ব্যক্তিগত নয়; সেই সংগ্রাম একসময় সমাজের পথও আলোকিত করে। আর যেখানে নারী তার অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, সেখানেই জন্ম নেয় সত্যিকারের উন্নয়ন ও মানবতার জয়।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

“সংগ্রাম থেকে স্বপ্নজয়” গল্পটি লিখেছেন নাইমুর রহমান সোহাগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
১৪৬

লেখার ধরন: ছোটগল্প
শিরোনাম: সংগ্রাম থেকে স্বপ্নজয়
কলমে: নাইমুর রহমান সোহাগ
ঠিকানা: ময়মনসিংহ

দূর গ্রামের মেয়ে মরিয়ম। ছোটবেলা থেকেই তার জীবন ছিল অভাব আর প্রতিকূলতায় ভরা। বাবা দিনমজুর, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। অনেকেই বলত, “মেয়েদের বেশি পড়াশোনার দরকার কী? একদিন তো সংসারই করতে হবে।” কিন্তু মরিয়মের চোখে ছিল অন্য স্বপ্ন—সে পড়বে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে, আর প্রমাণ করবে যে নারীর ক্ষমতা কোনো অংশে কম নয়।

প্রতিদিন ভোরে উঠে সে মাকে কাজে সাহায্য করত। তারপর কয়েক কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যেত। পথ সহজ ছিল না। কখনো অর্থের অভাব, কখনো মানুষের কটূকথা, আবার কখনো সমাজের অদৃশ্য বাধা তাকে থামাতে চাইত। তবু মরিয়ম থামেনি। তার বিশ্বাস ছিল—সংগ্রাম ছাড়া সফলতার আলো জ্বলে না।

স্কুলের শিক্ষকরা ধীরে ধীরে তার মেধা ও পরিশ্রম লক্ষ্য করলেন। তারা তাকে উৎসাহ দিলেন। অনেক সময় বই কেনার টাকাও জোগাড় হতো না, তখন শিক্ষকরা নিজেরাই সাহায্য করতেন। মরিয়ম রাত জেগে পড়ত, আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করত—একদিন সে এমন জায়গায় পৌঁছাবে, যেখানে দাঁড়িয়ে অন্য মেয়েদের জন্য পথ দেখাতে পারবে।

বছর কেটে গেল। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফলে মরিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেল। সেই খবর শুনে গ্রামের অনেক মানুষ অবাক হয়েছিল। যারা একসময় বলেছিল মেয়েদের দিয়ে কিছু হয় না, তারাই এখন গর্ব করে বলত—“মরিয়ম আমাদের গ্রামের মেয়ে।”

পড়াশোনা শেষ করে মরিয়ম একটি ভালো চাকরি পেল। কিন্তু সে শুধু নিজের সাফল্যে থেমে থাকেনি। সে গ্রামে ফিরে গিয়ে মেয়েদের পড়াশোনার জন্য একটি ছোট শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তোলে। সেখানে সে সবাইকে শেখাত—নারী মানে দুর্বলতা নয়, নারী মানে সম্ভাবনা, সাহস আর আলোর পথ।

মরিয়মের জীবনের গল্প ধীরে ধীরে আশপাশের মানুষকে বদলে দিতে শুরু করল। অনেক পরিবার তাদের মেয়েদের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দিল।

সেদিন মরিয়ম বুঝতে পারল—নারীর সংগ্রাম শুধু ব্যক্তিগত নয়; সেই সংগ্রাম একসময় সমাজের পথও আলোকিত করে। আর যেখানে নারী তার অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, সেখানেই জন্ম নেয় সত্যিকারের উন্নয়ন ও মানবতার জয়।