
“ব্যবধানের একবছর”
কলমে- ইরি অতনু
আকাশের কোণে আতশবাজির রোশনাই জানান দিচ্ছে নীলয় ফুরিয়ে আসছে। নীলয় ৩১শে ডিসেম্বরের সেই শেষ প্রহর, যার গায়ে লেগে আছে সারা বছরের ক্লান্তি আর বিদায়ের সুর। আর তুলি ঠিক তার বিপরীতে—১লা জানুয়ারির এক উজ্জ্বল, সতেজ সকাল।
নীলয় তুলির দিকে তাকিয়ে ম্লান হাসল। তাদের মাঝে দূরত্ব মাত্র কয়েক মুহূর্তের, অথচ কী দুর্লঙ্ঘ্য সেই দেয়াল! নীলয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “তুলি, আমি চাইলেই তোমাকে ছুঁতে পারি। আমার ফুরিয়ে যাওয়ার ঠিক পরের কদমেই তুমি দাঁড়িয়ে। কিন্তু তোমার জন্য আমি বড্ড দামী। আমাকে আবার ফিরে পেতে তোমাকে পাড়ি দিতে হবে ৩৬৪টি দীর্ঘ দিন, শত শত বিনিদ্র রাত।”
তুলির চোখে জল টলমল করছিল। সে জানে, নীলয় যখন তার সবটুকু উজাড় করে দিয়ে বিদায় নেবে, তখনই তার (তুলির) জন্ম হবে। নীলয়ের অস্তিত্বের শেষেই তুলির শুরু।
রাত বারোটা বাজার সাথে সাথে নীলয় অতীতে হারিয়ে গেল। তুলি নতুন বছরে পা রাখল ঠিকই, কিন্তু পেছনে ফেলে আসা প্রিয় মানুষটিকে পাওয়ার জন্য তার সামনে এখন এক দীর্ঘ অপেক্ষার পথ। এক দিন আর এক বছরের এই অদ্ভুত ব্যবধানে দাঁড়িয়ে তুলি অনুভব করল—ভালোবাসা মানে হয়তো কাছে পাওয়া নয়, বরং এক বছর ধরে একজনকে পাওয়ার তীব্র প্রতীক্ষা।
MD TANZIMUL 




















