আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থার্টি ফার্স্ট নাইট ও অনিয়ন্ত্রিত উচ্ছ্বাস —রফিক আতা—

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

৩৪০

থার্টি ফার্স্ট নাইট ও অনিয়ন্ত্রিত উচ্ছ্বাস
—রফিক আতা—

 

প্রতি ইংরেজি বছরের শেষ রাতে বিশ্বের বহু দেশে জাঁকজমক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’। অনেক তরুণ-তরুণী এ রাতটিকে আনন্দ-উল্লাসের উপলক্ষ মনে করে নানা উচ্ছৃঙ্খলতায় মেতে ওঠে। আনন্দ উদযাপনের নামে মদ, নারী ও অবাধ আচরণের মধ্য দিয়ে সমাজজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে নৈতিক অবক্ষয়ের দুর্গন্ধ। অশালীন গান-বাজনা আর অনিয়ন্ত্রিত উচ্ছ্বাসে ঢাকা পড়ে যায় চারদিক। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকার অবিরাম শব্দে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি, আতঙ্কে মারা যাচ্ছে পাখি-প্রাণী; দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে শিশু, কিশোর।

পত্রিকার শিরোনামে চোখ পড়লেই শীতল স্রোতের মতো কেঁপে ওঠে সারা দেহ—

১. থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজির শব্দে কাঁপছিল উমায়ের; পরদিন মৃত্যু।
২. আতশবাজির ঝলকানি ও শব্দে মৃত্যু শত শত পশুপাখির।
৩. থার্টি ফার্স্ট নাইটে প্রেমিকাকে ধর্ষণ করল প্রেমিক।
৪. আতশবাজি-পটকার তাণ্ডব ঠেকানো গেল না— ঘটল অগ্নিকাণ্ড।

সময় মানুষের জন্য অতিমূল্যবান। মৃত্যুর পর প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব নিয়েই আমাদের প্রভুর কাছে দাঁড়াতে হবে। একটি বছরের সমাপ্তি মানে জীবনের একটি অমূল্য অংশের অবসান— যা আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না। বছরের শেষ প্রান্তর আমাদের শেখাতে পারে কীভাবে ভেঙে পড়া জীবন নতুন করে গড়ে তুলতে হয়। কিন্তু সেক্যুলার সংস্কৃতির এই উচ্ছৃঙ্খল ঢেউয়ে ভেসে আমরা অনেকেই ভুলে যাই— আমরা মুসলিম; আমাদের সামনে রয়েছে বিচারের দিন, হায়াতের প্রতিটি ক্ষণের হিসাব।

আমি যে শিরোনামগুলো উল্লেখ করেছি— এগুলো বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পত্রিকা থেকেই নেওয়া। এভাবেই অসংখ্য উমায়ের বুকভরা যন্ত্রণায় বিদায় নেয় এই অপসংস্কৃতির দমবন্ধ করা পৃথিবী থেকে। অসহায় পাখিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিথর হয়ে পড়ে থাকে।

তাহলে দায়ী কে? দায় আমাদেরই।
আমাদের সমাজ, পরিবার এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে আমরা কেউই এই অবক্ষয়ের দায় থেকে মুক্ত নই। তাই আসুন—প্রবৃত্তির পূজা থেকে বের হয়ে আসি। নিজেকে ও সমাজকে ফিরিয়ে আনি পরিচ্ছন্ন জীবনের পথে। বর্জন করি সেক্যুলার অপসংস্কৃতিকে। একটি সুন্দর, নৈতিক সমাজ গঠনে আমরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করি।

শুধু নিজে দূরে থাকলেই প্রভুর সন্তুষ্টি লাভ করা যায় না। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন—

تَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَتَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ
“তোমরা সৎকর্মের আদেশ দেবে এবং অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখবে।”

অর্থাৎ আমি নিজে বাঁচলেই সমাজ সুন্দর হবে না—অন্যকেও বাঁচাতে হবে, ভুল থেকে নিবৃত্ত করতে হবে। তাই এ দিনে আমরা বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ ত্যাগ করে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, আত্মসমালোচনা, দ্বীনি পাঠচক্র ও সৎকর্মে দ্বিগুণ মনোযোগী হই।

তবেই আমরা যেমন ব্যক্তিগত জীবনকে শোধরাতে পারব, তেমনি সামগ্রিক সমাজকেও এক উত্তম পথে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব—ইনশা’আল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সেক্যুলার অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়ে আত্মশুদ্ধি ও সমাজ-শুদ্ধির অগ্রণী পথিক হওয়ার তাওফিক দান করুন। এবং ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’-এর মতো বিজাতীয় সংস্কৃতিকে ‘না’ বলে একটি শুদ্ধ ইসলামী সাংস্কৃতিক জীবন গড়ে তোলার শক্তি প্রদান করুন। আমিন।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

থার্টি ফার্স্ট নাইট ও অনিয়ন্ত্রিত উচ্ছ্বাস —রফিক আতা—

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
৩৪০

থার্টি ফার্স্ট নাইট ও অনিয়ন্ত্রিত উচ্ছ্বাস
—রফিক আতা—

 

প্রতি ইংরেজি বছরের শেষ রাতে বিশ্বের বহু দেশে জাঁকজমক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’। অনেক তরুণ-তরুণী এ রাতটিকে আনন্দ-উল্লাসের উপলক্ষ মনে করে নানা উচ্ছৃঙ্খলতায় মেতে ওঠে। আনন্দ উদযাপনের নামে মদ, নারী ও অবাধ আচরণের মধ্য দিয়ে সমাজজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে নৈতিক অবক্ষয়ের দুর্গন্ধ। অশালীন গান-বাজনা আর অনিয়ন্ত্রিত উচ্ছ্বাসে ঢাকা পড়ে যায় চারদিক। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকার অবিরাম শব্দে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি, আতঙ্কে মারা যাচ্ছে পাখি-প্রাণী; দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে শিশু, কিশোর।

পত্রিকার শিরোনামে চোখ পড়লেই শীতল স্রোতের মতো কেঁপে ওঠে সারা দেহ—

১. থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজির শব্দে কাঁপছিল উমায়ের; পরদিন মৃত্যু।
২. আতশবাজির ঝলকানি ও শব্দে মৃত্যু শত শত পশুপাখির।
৩. থার্টি ফার্স্ট নাইটে প্রেমিকাকে ধর্ষণ করল প্রেমিক।
৪. আতশবাজি-পটকার তাণ্ডব ঠেকানো গেল না— ঘটল অগ্নিকাণ্ড।

সময় মানুষের জন্য অতিমূল্যবান। মৃত্যুর পর প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব নিয়েই আমাদের প্রভুর কাছে দাঁড়াতে হবে। একটি বছরের সমাপ্তি মানে জীবনের একটি অমূল্য অংশের অবসান— যা আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না। বছরের শেষ প্রান্তর আমাদের শেখাতে পারে কীভাবে ভেঙে পড়া জীবন নতুন করে গড়ে তুলতে হয়। কিন্তু সেক্যুলার সংস্কৃতির এই উচ্ছৃঙ্খল ঢেউয়ে ভেসে আমরা অনেকেই ভুলে যাই— আমরা মুসলিম; আমাদের সামনে রয়েছে বিচারের দিন, হায়াতের প্রতিটি ক্ষণের হিসাব।

আমি যে শিরোনামগুলো উল্লেখ করেছি— এগুলো বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পত্রিকা থেকেই নেওয়া। এভাবেই অসংখ্য উমায়ের বুকভরা যন্ত্রণায় বিদায় নেয় এই অপসংস্কৃতির দমবন্ধ করা পৃথিবী থেকে। অসহায় পাখিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিথর হয়ে পড়ে থাকে।

তাহলে দায়ী কে? দায় আমাদেরই।
আমাদের সমাজ, পরিবার এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে আমরা কেউই এই অবক্ষয়ের দায় থেকে মুক্ত নই। তাই আসুন—প্রবৃত্তির পূজা থেকে বের হয়ে আসি। নিজেকে ও সমাজকে ফিরিয়ে আনি পরিচ্ছন্ন জীবনের পথে। বর্জন করি সেক্যুলার অপসংস্কৃতিকে। একটি সুন্দর, নৈতিক সমাজ গঠনে আমরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করি।

শুধু নিজে দূরে থাকলেই প্রভুর সন্তুষ্টি লাভ করা যায় না। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন—

تَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَتَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ
“তোমরা সৎকর্মের আদেশ দেবে এবং অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখবে।”

অর্থাৎ আমি নিজে বাঁচলেই সমাজ সুন্দর হবে না—অন্যকেও বাঁচাতে হবে, ভুল থেকে নিবৃত্ত করতে হবে। তাই এ দিনে আমরা বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ ত্যাগ করে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, আত্মসমালোচনা, দ্বীনি পাঠচক্র ও সৎকর্মে দ্বিগুণ মনোযোগী হই।

তবেই আমরা যেমন ব্যক্তিগত জীবনকে শোধরাতে পারব, তেমনি সামগ্রিক সমাজকেও এক উত্তম পথে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব—ইনশা’আল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সেক্যুলার অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়ে আত্মশুদ্ধি ও সমাজ-শুদ্ধির অগ্রণী পথিক হওয়ার তাওফিক দান করুন। এবং ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’-এর মতো বিজাতীয় সংস্কৃতিকে ‘না’ বলে একটি শুদ্ধ ইসলামী সাংস্কৃতিক জীবন গড়ে তোলার শক্তি প্রদান করুন। আমিন।