আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৭:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিকল্পিত হামলায় প্রাণ হারালেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদি

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

১৯০

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অকুতোভয় সংগ্রামী শরীফ ওসমান হাদির ইন্তেকাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় সংগ্রামী, ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র এবং প্রতিবাদী রাজনীতির এক সাহসী কণ্ঠ শরীফ ওসমান হাদি আর নেই।
(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ঘোষণায় তাঁর ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

ইনকিলাব মঞ্চের শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়,
“ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামে অবিচল মহান বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।”
এই শোকসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়।

এর আগে, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় অবস্থানকালে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান হাদি। মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে জানা গেছে, এই হামলার আগে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর নিয়মিত চলাচল, বাসা ও অফিসের রুট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত এবং কোন স্বার্থান্বেষী মহল এর নেপথ্যে রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।

তদন্তে আরও উঠে আসে, হামলার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল আগারগাঁওয়ে তাঁর বোনের বাসায় আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে শুটার ফয়সাল ও মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, তারা বর্তমানে প্রতিবেশী একটি দেশে অবস্থান করছেন।

এদিকে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ তানজিমুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন,
“শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, নির্ভীক ও আত্মত্যাগী এক সংগ্রামী মানুষ। তাঁর সাহসী ভূমিকা ও আদর্শ এ দেশের প্রতিবাদী রাজনীতিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

শরীফ ওসমান হাদির ইন্তেকালে তাঁর সহযোদ্ধা, অনুসারী ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদ মহান এই সংগ্রামী ব্যক্তিত্বের রূহের মাগফিরাত কামনা করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

পরিকল্পিত হামলায় প্রাণ হারালেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদি

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৫৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
১৯০

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অকুতোভয় সংগ্রামী শরীফ ওসমান হাদির ইন্তেকাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় সংগ্রামী, ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র এবং প্রতিবাদী রাজনীতির এক সাহসী কণ্ঠ শরীফ ওসমান হাদি আর নেই।
(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ঘোষণায় তাঁর ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

ইনকিলাব মঞ্চের শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়,
“ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামে অবিচল মহান বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।”
এই শোকসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়।

এর আগে, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় অবস্থানকালে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান হাদি। মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে জানা গেছে, এই হামলার আগে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর নিয়মিত চলাচল, বাসা ও অফিসের রুট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত এবং কোন স্বার্থান্বেষী মহল এর নেপথ্যে রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।

তদন্তে আরও উঠে আসে, হামলার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল আগারগাঁওয়ে তাঁর বোনের বাসায় আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে শুটার ফয়সাল ও মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, তারা বর্তমানে প্রতিবেশী একটি দেশে অবস্থান করছেন।

এদিকে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ তানজিমুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন,
“শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, নির্ভীক ও আত্মত্যাগী এক সংগ্রামী মানুষ। তাঁর সাহসী ভূমিকা ও আদর্শ এ দেশের প্রতিবাদী রাজনীতিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

শরীফ ওসমান হাদির ইন্তেকালে তাঁর সহযোদ্ধা, অনুসারী ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদ মহান এই সংগ্রামী ব্যক্তিত্বের রূহের মাগফিরাত কামনা করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।