
চাঁদখানা উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য সাহিত্যিক আয়োজন
নবীন লেখকদের সম্মাননা প্রদান ও ম্যাগাজিন প্রকাশনা
প্রতিবেদন | ৫ মে ২০২৬
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও সুপরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাঁদখানা উচ্চ বিদ্যালয়-এ ৫ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী, প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণামূলক সাহিত্যিক আয়োজন। নবীন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা এবং সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এক স্নিগ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এরপর অতিথি পরিচিতি, শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং সাহিত্যভিত্তিক আলোচনা পর্বে বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁরা বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানবিকতা, নৈতিকতা এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মোস্তাফিজ-উর-রহমান, শিক্ষক ও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদের প্রধান বিচারক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চাঁদখানা উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। তাঁদের সম্মিলিত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও গৌরবময় ও সার্থক করে তোলে।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নবীন লেখক-লেখিকাদের সামনে নিয়ে আসাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। সেই ধারাবাহিকতায় স্বপ্ন সাহিত্য বার্তা ম্যাগাজিনে চাঁদখানা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল প্রতিভা প্রকাশের একটি কার্যকর ও সম্মানজনক প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে ম্যাগাজিন ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ। কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই, সম্পূর্ণ আন্তরিকতা ও ভালোবাসা থেকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ, গর্ব ও আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য অনুভূতি সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে জানায়, এই স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নপূরণে নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
এই মহৎ আয়োজন বাস্তবায়নে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন নাসিম ভাই। তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা এবং সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চাঁদখানা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশের সাহিত্যাঙ্গনে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠবে। তাদের সৃজনশীলতা, মেধা ও মানবিকতা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই আয়োজনটি ছিল কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি ছিল স্বপ্ন জাগানোর, প্রতিভা বিকাশের এবং সাহিত্যের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য উদ্যোগ, যা নবীন প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যাবে আলোকিত ভবিষ্যতের পথে।
Reporter Name 




















