আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু অধিকার সুরক্ষাসহ চার নির্বাচনী অঙ্গীকার ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির দাবি

  • MD TANZIMUL
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২০৬ পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

২৪৪

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

শিশু অধিকার সুরক্ষাসহ চার নির্বাচনী অঙ্গীকার ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির দাবি

ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, বুধবার

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে শিশুদের রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধ এবং পথশিশুদের সুরক্ষায় চার দফা নির্বাচনী অঙ্গীকার সব রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো), হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) এবং ঢাকা সেন্টার ফর ডায়ালগ (ডিসিডি)।
জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত আলোচনাসভায় সংগঠনগুলো জানান—
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় শিশু অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে দৃঢ় নীতিগত অবস্থান নেওয়া জরুরি।

চার দফা দাবি:

•কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল বা প্রচারণায় শিশুদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা

•নির্বাচনকালীন সময় রাস্তার ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া

•শিশু অধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকার সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা

•শিশুদের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধে দলগুলোর প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতিপত্রে স্বাক্ষর গ্রহণ

সভায় বক্তারা বলেন
“ভোট দেয় না বলে শিশুরা যেন ভোটের সময়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে না পড়েন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচনই অর্থবহ নয়। আমরা চাই, ২০২৬ সালের নির্বাচন হোক একটি শিশু–বান্ধব নির্বাচন।”

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অভিমত
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন,
“রাষ্ট্রকে মেরামত ও সংস্কার করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় শিশু ব্যবহারকারীদের সামাজিকভাবে বর্জন করতে হবে।”
তিনি বলেন, ভিক্ষুক বা পথশিশু পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগ টেকসই হতে পারেনি—পরবর্তী সরকারের উচিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া।

আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান
বলেন,
“শিশুরা রাজনৈতিক চরিত্র বোঝে না। তাই তাদের দিয়ে মিছিলে ফুল দেওয়া বা প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে—এটা নোংরামি ছাড়া কিছু নয়। আসন্ন নির্বাচনে শিশু ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।”

ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাসার বলেন,
“যে দেশে শিশু যথেষ্ট খাবার পায় না, সেই দেশে পথশিশুদের জন্য সংস্কার কমিশন করা জরুরি। প্রতিটি শিশু যেন খাদ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়—এটাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ওয়াসিফ তামি বলেন,
“ব্যবসায়ীরা এমনকি পথশিশুদের দিয়েও পণ্য বিক্রি করায়—এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। বিএনপি দল হিসেবে পথশিশুদের রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এশিয়ান টিভির সাবেক হেড অব নিউজ সিরাজুল ইসলাম বলেন,
“অনেক সময় পথশিশুরা নিজেরাই উৎসবে-মিছিলে অংশ নেয়, কারণ আমরা তাদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছি। পূর্বের নির্বাচনগুলোতে গোলাগুলিতে শিশু নিহত হয়েছিল—এ ইতিহাস যেন আর না ফিরে আসে।”

জামায়াতের ঢাকা–৬ প্রার্থী ড. আবদুল মান্নান বলেন,
“ছিন্নমূল শিশুদের জন্য জামায়াত দলীয়ভাবে শিক্ষা ও পোশাক সহায়তা দিয়ে থাকে। আগামীতে তাদের পরিবারকে স্বচ্ছলতায় আনার উদ্যোগ বাড়ানো হবে। নির্বাচনে কোনো শিশু ব্যবহার করা হবে না।”
এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ভিসি শাহজাহান খান বলেন,
“শিশুর জন্মের আগেই সে ঝুঁকিতে থাকে—এটাই আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইনি অধিকার বাস্তবে কার্যকর করতে হবে।”

এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল আলম বলেন,
“শিশুর প্রথম দায়িত্ব পরিবারকে নিতে হবে। এবি পার্টির ইশতেহারে শিশু অধিকার স্পষ্টভাবে থাকবে এবং কোনো শিশুকে নির্বাচনে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না।”

 

সভাপতির বক্তব্যে লিডোর নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা জনাব ফরহাদ হোসেন বলেন

আমরা অতীতে বারবার দেখেছি, যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে শিশুদের কল্যাণে অসংখ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—ক্ষমতার আসনে বসেই তারা সেই প্রতিশ্রুতিগুলো ভুলে গেছেন। নির্বাচনের পর শিশুদের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আমরা দেখতে পাইনি। এটি শুধু একটি ব্যর্থতা নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অন্যায়।

আমরা আশা করি, আগামীতে যারা এই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তারা যেন শিশুদের কল্যাণকে মুখের কথা বা ইশতেহারের পাতায় সীমাবদ্ধ না রাখেন। প্রতিটি প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তব রূপ পায়—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, বাসস্থান থেকে শুরু করে একটি সম্মানজনক জীবনের সব অধিকার নিশ্চিত হোক প্রতিটি শিশুর জন্য।

কারণ এই শিশুরাই আমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশ। এই শিশুরা শুধু ছিন্নমূল শিশু নয়—এরা আমার, আপনার, আমাদের সবার সন্তান। তাদের জন্য কাজ করা মানে দেশের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করা। আমরা চাই, রাষ্ট্র ও সমাজ মিলেই এমন একটি পরিবেশ তৈরি হোক যেখানে কোনো শিশু অবহেলার শিকার হবে না এবং প্রতিটি শিশু তার স্বপ্ন দেখার ও সেই স্বপ্ন পূরণের অধিকার পাবে।”

৫ম শ্রেণির ছাত্রী ছিন্নমূল শিশু মাহফুজা সুলতানা মুন্নী বলেন,
“নির্বাচন এলেই আমাদের দিয়ে ব্যানার ধরা, মিছিল করানো হয়। খাবার–টাকার লোভ দেখানো হয়। দুই পক্ষের মারামারিতে অনেক সময় আমরা পড়ে যাই। আর কোনো শিশুকে যেন এভাবে ব্যবহার করা না হয়।”

পথশিশুসহ দেশের সকল শিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও আইনি সুরক্ষা রাষ্ট্র–সমাজ–সরকারের যৌথ দায়িত্ব।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে শিশুদের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধে একটি শক্তিশালী অঙ্গীকারই পারে একটি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এমন টাই প্রত্যাশা করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

শিশু অধিকার সুরক্ষাসহ চার নির্বাচনী অঙ্গীকার ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
২৪৪

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

শিশু অধিকার সুরক্ষাসহ চার নির্বাচনী অঙ্গীকার ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির দাবি

ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, বুধবার

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে শিশুদের রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধ এবং পথশিশুদের সুরক্ষায় চার দফা নির্বাচনী অঙ্গীকার সব রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো), হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) এবং ঢাকা সেন্টার ফর ডায়ালগ (ডিসিডি)।
জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত আলোচনাসভায় সংগঠনগুলো জানান—
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় শিশু অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে দৃঢ় নীতিগত অবস্থান নেওয়া জরুরি।

চার দফা দাবি:

•কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল বা প্রচারণায় শিশুদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা

•নির্বাচনকালীন সময় রাস্তার ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া

•শিশু অধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকার সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা

•শিশুদের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধে দলগুলোর প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতিপত্রে স্বাক্ষর গ্রহণ

সভায় বক্তারা বলেন
“ভোট দেয় না বলে শিশুরা যেন ভোটের সময়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে না পড়েন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচনই অর্থবহ নয়। আমরা চাই, ২০২৬ সালের নির্বাচন হোক একটি শিশু–বান্ধব নির্বাচন।”

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অভিমত
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন,
“রাষ্ট্রকে মেরামত ও সংস্কার করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় শিশু ব্যবহারকারীদের সামাজিকভাবে বর্জন করতে হবে।”
তিনি বলেন, ভিক্ষুক বা পথশিশু পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগ টেকসই হতে পারেনি—পরবর্তী সরকারের উচিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া।

আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান
বলেন,
“শিশুরা রাজনৈতিক চরিত্র বোঝে না। তাই তাদের দিয়ে মিছিলে ফুল দেওয়া বা প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে—এটা নোংরামি ছাড়া কিছু নয়। আসন্ন নির্বাচনে শিশু ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।”

ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাসার বলেন,
“যে দেশে শিশু যথেষ্ট খাবার পায় না, সেই দেশে পথশিশুদের জন্য সংস্কার কমিশন করা জরুরি। প্রতিটি শিশু যেন খাদ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়—এটাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ওয়াসিফ তামি বলেন,
“ব্যবসায়ীরা এমনকি পথশিশুদের দিয়েও পণ্য বিক্রি করায়—এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। বিএনপি দল হিসেবে পথশিশুদের রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এশিয়ান টিভির সাবেক হেড অব নিউজ সিরাজুল ইসলাম বলেন,
“অনেক সময় পথশিশুরা নিজেরাই উৎসবে-মিছিলে অংশ নেয়, কারণ আমরা তাদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছি। পূর্বের নির্বাচনগুলোতে গোলাগুলিতে শিশু নিহত হয়েছিল—এ ইতিহাস যেন আর না ফিরে আসে।”

জামায়াতের ঢাকা–৬ প্রার্থী ড. আবদুল মান্নান বলেন,
“ছিন্নমূল শিশুদের জন্য জামায়াত দলীয়ভাবে শিক্ষা ও পোশাক সহায়তা দিয়ে থাকে। আগামীতে তাদের পরিবারকে স্বচ্ছলতায় আনার উদ্যোগ বাড়ানো হবে। নির্বাচনে কোনো শিশু ব্যবহার করা হবে না।”
এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ভিসি শাহজাহান খান বলেন,
“শিশুর জন্মের আগেই সে ঝুঁকিতে থাকে—এটাই আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইনি অধিকার বাস্তবে কার্যকর করতে হবে।”

এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল আলম বলেন,
“শিশুর প্রথম দায়িত্ব পরিবারকে নিতে হবে। এবি পার্টির ইশতেহারে শিশু অধিকার স্পষ্টভাবে থাকবে এবং কোনো শিশুকে নির্বাচনে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না।”

 

সভাপতির বক্তব্যে লিডোর নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা জনাব ফরহাদ হোসেন বলেন

আমরা অতীতে বারবার দেখেছি, যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে শিশুদের কল্যাণে অসংখ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—ক্ষমতার আসনে বসেই তারা সেই প্রতিশ্রুতিগুলো ভুলে গেছেন। নির্বাচনের পর শিশুদের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আমরা দেখতে পাইনি। এটি শুধু একটি ব্যর্থতা নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অন্যায়।

আমরা আশা করি, আগামীতে যারা এই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তারা যেন শিশুদের কল্যাণকে মুখের কথা বা ইশতেহারের পাতায় সীমাবদ্ধ না রাখেন। প্রতিটি প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তব রূপ পায়—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, বাসস্থান থেকে শুরু করে একটি সম্মানজনক জীবনের সব অধিকার নিশ্চিত হোক প্রতিটি শিশুর জন্য।

কারণ এই শিশুরাই আমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশ। এই শিশুরা শুধু ছিন্নমূল শিশু নয়—এরা আমার, আপনার, আমাদের সবার সন্তান। তাদের জন্য কাজ করা মানে দেশের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করা। আমরা চাই, রাষ্ট্র ও সমাজ মিলেই এমন একটি পরিবেশ তৈরি হোক যেখানে কোনো শিশু অবহেলার শিকার হবে না এবং প্রতিটি শিশু তার স্বপ্ন দেখার ও সেই স্বপ্ন পূরণের অধিকার পাবে।”

৫ম শ্রেণির ছাত্রী ছিন্নমূল শিশু মাহফুজা সুলতানা মুন্নী বলেন,
“নির্বাচন এলেই আমাদের দিয়ে ব্যানার ধরা, মিছিল করানো হয়। খাবার–টাকার লোভ দেখানো হয়। দুই পক্ষের মারামারিতে অনেক সময় আমরা পড়ে যাই। আর কোনো শিশুকে যেন এভাবে ব্যবহার করা না হয়।”

পথশিশুসহ দেশের সকল শিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও আইনি সুরক্ষা রাষ্ট্র–সমাজ–সরকারের যৌথ দায়িত্ব।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে শিশুদের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধে একটি শক্তিশালী অঙ্গীকারই পারে একটি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এমন টাই প্রত্যাশা করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে।