
রাফি: বেশ কিছুদিন আগে হুমায়ূন আহমেদের ছায়াসঙ্গী বইটা পড়েছিলাম। সেখানে একটা লাইন আমাকে মারাত্মকভাবে নাড়া দেয়। লাইনটা ছিল, “ঈশ্বর মানুষের কাতর আহ্বানে সাধারণত বিচলিত হন না”।
আকাশ: সেটা উনি কীভাবে জানলেন?
রাফি: তা তো জানি না। তবে বিপদে পড়লে আমরা সবাই নিজেদের সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করি কিন্তু ফল কি তাৎক্ষণিক পাই বল?
আকাশ: তুই কি বলতে চাচ্ছিস যে সৃষ্টিকর্তা আমাদের বিপদে সাহায্য করেন না?
রাফি: আমার তো মনে হয় না। সেদিন রেজাল্টের আগে কত করে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকলাম এবারের মতো যেন পাশ করে যাই। কিন্তু তা আর হলো কই? ওই ইংরেজিতেই ফেল করলাম।
আকাশ: তার অর্থ তো এই না যে সৃষ্টিকর্তা তোকে সাহায্য করেননি। বরং তুই সারাবছর পড়িসনি, পড়ার পেছনে শ্রম দিসনি তাই পরীক্ষায় ফেল করেছিস। এখানে সৃষ্টিকর্তা কি করবে?
রাফি: উনি তো চাইলেই পারতো আমাকে পাশ করিয়ে দিতে। কিন্তু দিলো না তো?
আকাশ: হ্যাঁ পারতো। কিন্তু তোর ফেল করাটাই সঙ্গত ছিল। কারণ তুই পড়ার পেছনে কোনো শ্রম দিসনি। তোর কর্ম অনুযায়ী তুই ফল পেয়েছিস। একটা কথা কি জানিস, সৃষ্টিকর্তা প্রতিনিয়ত তোকে নানাভাবে সাহায্য করে চলেছে কিন্তু তুই সেটা অনুধাবন করতে পারছিস না। তাই যতটুকু ভালো আছিস ততটুকুর জন্য শুকরিয়া আদায় কর। কিন্তু তা না করে তুই তোর সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করছিস। এটা কি ঠিক হচ্ছে?
রাফি: আরে অস্বীকার কখন করলাম। আমি তো শুধু বললাম যে সৃষ্টিকর্তা চাইলেই আমাকে পাশ করিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।
আকাশ: প্রত্যেক মানুষকেই তাঁর কর্মফল ভোগ করতে হবে। তুই যদি ভালো করে পড়তি তাহলে তোর রেজাল্টও ভালো হতো। তুই পড়িসনি বলেই ফেল করেছিস।
রাফি: হুম।
আকাশ: আমি জানি এই মুহূর্তে তোর মনে অনেকগুলো প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের উত্তরগুলো খুব জটিল। মূলত আমাদের জীবনটাই একটা জটিল রেখায় আবর্তিত। কিন্তু আমরা তার একাংশও সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারি না।
রাফি: ঠিক বলেছিস।
আকাশ: শোন পৃথিবীতে যা কিছুই হয়ে যাক না কেন সবসময় সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস আর আনুগত্য রেখে কাজ করবি। এটা একটা শক্তি। এই শক্তিতে সবাই বলীয়ান হতে পারে না। তোর ঈমান অনেক নড়বড়ে হয়ে গেছে। সেটাকে শক্ত করতে হবে। আর এই ধরণের লেখা পড়িস না। কখন আবার তুইও নাস্তিক হয়ে যাস বলা যায় না।
রাফি: আরে না। এমন কিছুই হবে না।
আকাশ: কিয়ামতের আগে এমন কিছুই হবে। মানুষ আস্তিক থেকে নাস্তিক হয়ে যাবে। কিছু নাস্তিকরা মানুষদের বিভ্রান্ত করার জন্য এমন লেখা লেখে। আর তা পড়ে কিছু মানুষ স্রষ্টাকে ভুলে যাচ্ছে।
রাফি: হুম।
আকাশ: মাগরিবের আযান দিয়েছে। চল মসজিদে যাই।
রাফি: আকাশ আমার একটা কাজ আছে এখন যেতে পারবো না।
আকাশ: কাজ তো পরেও করতে পারবি রাফি আগে মসজিদে চল। নামাজ পড়ে আসি।
রাফি: আচ্ছা চল।
আকাশ: দেখলি বিশ্বাসেই মুক্তি, তর্কে বহুদূর।
মোঃ তানজিমুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদ 




















