আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভালো ছেলের শিক্ষা, গল্পটি লিখেছেন লেখিকা জেরিন জাহান দিশা

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ২২১ পড়া হয়েছে
২২৯

 

খলিশাকুন্ডি গ্রামের এক কোণে বাস করতেন জিনারুল মিয়া। তিনি গ্রামের একমাত্র মুদি দোকানদার। সৎভাবে ব্যবসা করেই সংসার চালাতেন তিনি। জিনারুল মিয়ার একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ, ক্লাস থ্রিতে পড়ে। বয়সে ছোট হলে ও গ্রামের সবাই তাকে ভালোবাসত।

পড়াশোনায় মনোযোগী, বড়দের সম্মান করে আর ছোটদের ভালোবাসে এমন ছেলে খুব কমই পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে বাবাকে সাহায্য করে স্কুলে যেত সে। পথে যার সাথেই দেখা হতো, সবাইকে সালাম দিতো। শিক্ষকরা বলতেন, আব্দুল্লাহ বড় হয়ে নিশ্চয়ই একদিন বাবা-মায়ের
গর্ব হবে।

একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে আব্দুল্লাহ রাস্তার পাশে একটি মানিব্যাগ পড়ে পেল। ভিতরে অনেক টাকা আর একটি পরিচয়পত্র ছিল। সে মুহূর্তে তাঁর মনে ও লোভ জাগল এই টাকা দিয়ে নতুন ব্যাগ কিনতে পারবে! কিন্তু পরে ভাবল, এটা তো আমার নয়, হারানো জিনিস ফেরত দেওয়া উচিত।

স্কুল ছুটির পর সে মানিব্যাগটি নিয়ে থানায় গেল। পুলিশ পরিচয়পত্র দেখে মালিককে খবর দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃদ্ধ এক ভদ্রলোক এসে কৃতজ্ঞ চোখে আব্দুল্লাহর মাথায় হাত রাখলেন। তিনি বললেন, বাবা, আজ তুমি আমাকে শুধু টাকা নয়, সততার মূল্য ও ফিরিয়ে দিলে।

সেদিন থেকে আব্দুল্লাহর নাম গ্রামের গর্ব হয়ে গেল। সবাই তার গল্প ছেলেমেয়েদের শেখাত সৎ কাজ কখনো বৃথা
যায় না, ছোটরা ও বড় শিক্ষা দিতে পারে। তাঁর সততা ও
ভদ্র আচরণ দেখে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে সততার পুরস্কার দেন।পুরো গ্রামে আনন্দের হাওয়া ব‌ইতে থাকে।

আব্দুল্লাহ প্রতিজ্ঞা করে আমি বড় হয়ে মানুষের উপকার করব, কাউকে কষ্ট দেব না।সত্যিই, ভালো মানুষ হ‌ওয়ার
শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই শুরু হয়।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

ভালো ছেলের শিক্ষা, গল্পটি লিখেছেন লেখিকা জেরিন জাহান দিশা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
২২৯

 

খলিশাকুন্ডি গ্রামের এক কোণে বাস করতেন জিনারুল মিয়া। তিনি গ্রামের একমাত্র মুদি দোকানদার। সৎভাবে ব্যবসা করেই সংসার চালাতেন তিনি। জিনারুল মিয়ার একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ, ক্লাস থ্রিতে পড়ে। বয়সে ছোট হলে ও গ্রামের সবাই তাকে ভালোবাসত।

পড়াশোনায় মনোযোগী, বড়দের সম্মান করে আর ছোটদের ভালোবাসে এমন ছেলে খুব কমই পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে বাবাকে সাহায্য করে স্কুলে যেত সে। পথে যার সাথেই দেখা হতো, সবাইকে সালাম দিতো। শিক্ষকরা বলতেন, আব্দুল্লাহ বড় হয়ে নিশ্চয়ই একদিন বাবা-মায়ের
গর্ব হবে।

একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে আব্দুল্লাহ রাস্তার পাশে একটি মানিব্যাগ পড়ে পেল। ভিতরে অনেক টাকা আর একটি পরিচয়পত্র ছিল। সে মুহূর্তে তাঁর মনে ও লোভ জাগল এই টাকা দিয়ে নতুন ব্যাগ কিনতে পারবে! কিন্তু পরে ভাবল, এটা তো আমার নয়, হারানো জিনিস ফেরত দেওয়া উচিত।

স্কুল ছুটির পর সে মানিব্যাগটি নিয়ে থানায় গেল। পুলিশ পরিচয়পত্র দেখে মালিককে খবর দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃদ্ধ এক ভদ্রলোক এসে কৃতজ্ঞ চোখে আব্দুল্লাহর মাথায় হাত রাখলেন। তিনি বললেন, বাবা, আজ তুমি আমাকে শুধু টাকা নয়, সততার মূল্য ও ফিরিয়ে দিলে।

সেদিন থেকে আব্দুল্লাহর নাম গ্রামের গর্ব হয়ে গেল। সবাই তার গল্প ছেলেমেয়েদের শেখাত সৎ কাজ কখনো বৃথা
যায় না, ছোটরা ও বড় শিক্ষা দিতে পারে। তাঁর সততা ও
ভদ্র আচরণ দেখে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে সততার পুরস্কার দেন।পুরো গ্রামে আনন্দের হাওয়া ব‌ইতে থাকে।

আব্দুল্লাহ প্রতিজ্ঞা করে আমি বড় হয়ে মানুষের উপকার করব, কাউকে কষ্ট দেব না।সত্যিই, ভালো মানুষ হ‌ওয়ার
শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই শুরু হয়।