
আমাদের সবার জিবনে বিদ্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়,
বরং স্কুল থেকে আমরা আচার ব্যবহার ভদ্রতা
শিখতে পারি।একটি স্কুল জীবন গড়ার প্রেরণার উৎস।এই প্রতিষ্ঠান সকল শিক্ষার্থীদের মনকে আলোকিত করে। তাঁদের বিবেক জাগ্রত হয়।
আমার বিদ্যালয়ের আমার জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ,যেখান থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমার কাছে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, বরং
আমার বেড়ে ওঠার ভিত্তিস্থল। আমার বিদ্যালয়ের খলিশাকুন্ডি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।বিদ্যালয়টি আমাদের খলিশাকুন্ডি
ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে অবস্থিত।
আমাদের বিদ্যালয়ের চারপাশে সবুজ গাছপালা,
ফুলের বাগান,দুটি নারিকেল গাছ আছে।একটি
বিজ্ঞানাগার আছে, লাইব্রেরী রুম আছে, কম্পিউটার রুম আছে। আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক
সকল ছাত্রীদের নিজ হাতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আমাদের বিদ্যালয়টি দুইতলা ভবনের। আমাদের বিদ্যালয়টি সিসি ক্যামেরা আছে।
প্রতিটি রুমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা আছে। একটা
বড় মাঠ আছে যেখানে আমরা বিভিন্ন ধরনের
খেলা করতে থাকি। আমাদের বিদ্যালয়ের ভিতর
একটি মসজিদ আছে। আমাদের প্রধান শিক্ষক
একজন অত্যন্ত দয়ালু মনের।তিনি শৃঙ্খলাপরায়ণ
ব্যক্তি। তিনি আমাদের খুবই উৎসাহিত করেন। এবং আমাদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের
বীজ বপন করে।
শিক্ষক -শিক্ষিকারা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই প্রদান
করেন না,বরং জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করেন। আমাদের বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল ,
ধর্মীয় শিক্ষা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সহ
বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হয়।
আমরা কোন বিষয় বুজতে না পারলে বারবার
জিজ্ঞেস করলে তাঁরা সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দেই।
আমাদের খুবই ভালোবাসে শিক্ষক -শিক্ষিকারা।
আমাদের বিদ্যালয়ের পাঠদানের পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে নবীনদের বরণ এবং
বড় আপুদের বিদায়ী অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
তাছাড়া ২৬ শে মার্চে ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা,বিতর্ক
প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়।
এছাড়াও ব্যাডমিন্টন,নাচ, গান, কৌতুক এর মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিভা প্রকাশ করি।
১৬ই ডিসেম্বর ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আমাদের বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকালে জাতীয় পতাক উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত গাওয়ার
মাধ্যমে দিন শুরু হয়।এই কার্যক্রম শিক্ষাথীদের মধ্যে দেশপ্রেম মনোভাব জাগায়। শিক্ষার্থীদের
নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী
হতে উৎসাহিত করেন।
কোন শিক্ষার্থী নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে স্থায়ীভাবে
সংশোধন করা হয়,যাতে সে ভবিষ্যতে আর ও
দায়িত্বশীল হয়।আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
পরীক্ষাগুলোতে, যেমন জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট
(জেএসসি) এবং সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ফলাফল করে।প্রতিবছর আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
উচ্চ গ্রেড অর্জন করে।
এবং অনেকে মেধা তালিকায় স্থান করে নেয়।
আমার এই সফলতার পেছনে আমাদের শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রম ও আমাদের অধ্যবসায় রয়েছে। তাঁরা শুধু আমাদের শিক্ষার আলোর পথ দেখান না, বরং জীবনের প্রতিটি ধাপে আমাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। আমাদের বিদ্যালয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষকরা আমাদের আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে সদা সচেষ্ট থাকেন।
বিদ্যালয়ের পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম ও শিক্ষাবান্ধব। এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা, সময়নিষ্ঠা ও সহমর্মিতার মূল্যবোধ শেখানো হয়। আমরা একে অপরকে সাহায্য করি, সম্মান করি এবং সবসময় শৃঙ্খলা বজায় রাখি।
আমার বিদ্যালয়ের স্মৃতি আমার জীবনে অমূল্য। এখানে কাটানো প্রতিটি দিন আমার জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে। বন্ধুদের সাথে ক্লাস করা, খেলাধুলা, আয়োজিত নানা প্রতিযোগিতা সবই আমার মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
আমি গর্বিত যে আমি খলিশাকুন্ডি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। ভবিষ্যতে আমি যাই হই না কেন, এই বিদ্যালয়ের অবদান কখনো ভুলব না। আমার প্রিয় বিদ্যালয় সর্বদা ভালো থাকুক, আরও উন্নতি করুক এই কামনাই করি।
এই বিদ্যালয় শুধু আমার জ্ঞানের ভাণ্ডারই নয়, বরং আমার স্বপ্ন বুনে নেওয়ার প্রথম ধাপ। এখানেই আমি শিখেছি কীভাবে জীবনকে ভালোবাসতে হয়, কিভাবে লক্ষ্য ঠিক করে পরিশ্রম করতে হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকারা আমাদের জীবনের আলোকবর্তিকা।
তাঁদের প্রতি আমার চিরন্তন কৃতজ্ঞতা। বিদ্যালয়টির প্রতিটি কোণ আমার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে আমি সাফল্যের যেখানেই পৌঁছি না কেন, আমার শেকড় এই বিদ্যালয়েই রয়ে যাবে। আমার প্রিয় বিদ্যালয় দীর্ঘজীবী হোক এই শুভকামনা রইল।
আমার বিদ্যালয় আমার জীবনের গর্ব। এখানেই আমি জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার শিক্ষা পেয়েছি। ভবিষ্যতে যেখানেই যাই, বিদ্যালয়ের অবদান কখনো ভুলব না।আমার বিদ্যালয় আমার গর্ব, ভবিষ্যতে ও এই স্মৃতি রয়ে যাবে।আমার প্রিয় বিদ্যালয়।
Reporter Name 



















