আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৭:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীর বিচার দাবি

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৫৩ পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

৩০০

কিশোরগঞ্জে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীর বিচার দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট: মোঃ দুলাল মিয়া

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েও চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী প্রার্থী।

রবিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল হালিম। তিনি একই এলাকার মোঃ সহিদুল ইসলামের পুত্র।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল হালিম জানান, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির আলোকে তিনি আবেদন করেন এবং নির্ধারিত সকল ধাপ, শারীরিক ফিটনেস ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সফলভাবে উত্তীর্ণ হন।

তিনি দাবি করেন, নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত ফলাফলে তাকে মনোনীত করা হয়। এতে তিনি নিয়োগপত্র পাওয়ার আশায় ছিলেন।

কিন্তু নিয়োগপত্র গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করলে তিনি অনিয়মের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। তার ভাষ্যমতে, উপজেলা পরিষদের ফুয়াদ এবং ইউএনও অফিসের কর্মচারী মুকুল হোসেন তার কাছে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পরবর্তীতে তাকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, শারীরিক ফিটনেস পরীক্ষায় অযোগ্য ঘোষিত মজিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে পরবর্তীতে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউএনও তার আবেদনে ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন বলে জানান তিনি। তবে অযোগ্য প্রার্থী কীভাবে নিয়োগ পেলেন, এ প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর তিনি পাননি।

নিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলেও তাকে কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও এ বিষয়ে অবগত নন বলে তাকে জানিয়েছেন।

চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান যাদু বলেন,
“আব্দুল হালিম নামে একজন প্রার্থী শারীরিক ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন, এ পর্যন্তই আমার জানা আছে। তবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বা কেউ যোগদান করেছে কিনা, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।”

এ ঘটনায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী বলেন,
“যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে যদি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অন্যায়ের দৃষ্টান্ত।”

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“গ্রাম পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপূর্ণ পদ। এখানে অনিয়ম হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

একজন প্রবীণ ব্যক্তি মন্তব্য করেন,
“সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা উচিত।”

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হালিম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ঘুষ দিতে না পারায় আমি চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমার কোনো প্রভাবশালী আত্মীয়-স্বজন না থাকায় আমি ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি চাই।”

তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে তাকে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হোক।

এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বদলীকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের মতে, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

—সমাপ্ত—

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

কিশোরগঞ্জে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীর বিচার দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
৩০০

কিশোরগঞ্জে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীর বিচার দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট: মোঃ দুলাল মিয়া

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েও চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী প্রার্থী।

রবিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল হালিম। তিনি একই এলাকার মোঃ সহিদুল ইসলামের পুত্র।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল হালিম জানান, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির আলোকে তিনি আবেদন করেন এবং নির্ধারিত সকল ধাপ, শারীরিক ফিটনেস ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সফলভাবে উত্তীর্ণ হন।

তিনি দাবি করেন, নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত ফলাফলে তাকে মনোনীত করা হয়। এতে তিনি নিয়োগপত্র পাওয়ার আশায় ছিলেন।

কিন্তু নিয়োগপত্র গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করলে তিনি অনিয়মের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। তার ভাষ্যমতে, উপজেলা পরিষদের ফুয়াদ এবং ইউএনও অফিসের কর্মচারী মুকুল হোসেন তার কাছে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পরবর্তীতে তাকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, শারীরিক ফিটনেস পরীক্ষায় অযোগ্য ঘোষিত মজিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে পরবর্তীতে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউএনও তার আবেদনে ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন বলে জানান তিনি। তবে অযোগ্য প্রার্থী কীভাবে নিয়োগ পেলেন, এ প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর তিনি পাননি।

নিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলেও তাকে কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও এ বিষয়ে অবগত নন বলে তাকে জানিয়েছেন।

চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান যাদু বলেন,
“আব্দুল হালিম নামে একজন প্রার্থী শারীরিক ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন, এ পর্যন্তই আমার জানা আছে। তবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বা কেউ যোগদান করেছে কিনা, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।”

এ ঘটনায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী বলেন,
“যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে যদি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অন্যায়ের দৃষ্টান্ত।”

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“গ্রাম পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপূর্ণ পদ। এখানে অনিয়ম হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

একজন প্রবীণ ব্যক্তি মন্তব্য করেন,
“সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা উচিত।”

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হালিম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ঘুষ দিতে না পারায় আমি চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমার কোনো প্রভাবশালী আত্মীয়-স্বজন না থাকায় আমি ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি চাই।”

তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে তাকে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হোক।

এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বদলীকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের মতে, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

—সমাপ্ত—