আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রিয় শৈশব নিয়ে লিখেছেন হাফিজুর রহমান 

১৯০

প্রিয় শৈশব 

হাফিজুর রহমান 

 

শৈশবের কথা মনে পড়লেই হৃদয়ের গভীরে এক অনাবিল আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়। জীবন যতই ব্যস্ত হয়ে উঠুক, সেই দিনগুলোর স্মৃতি এখনো মনের আকাশে রঙধনুর মতো ভেসে বেড়ায়। আমি তখন ছোট্ট শিশু। আমাদের কয়েকজনের একটি দল ছিল। ভালোবাসায় টইটম্বুর ছিল একে অপরের প্রতি। বন্ধুত্বের বাঁধনে গাঁথা ছিলাম আমরা সবাই। কারো সঙ্গে কারো রূঢ় আচরণ করার প্রশ্নই আসত না

দিনভর আমাদের খেলার ধুম। কখনো সবাই মিলে নদীতে নেমে মাছ ধরা, কখনো গাছপালার ভেতরে লুকিয়ে পাখির বাসা খোঁজা। সূর্য ডুবে গেলে অনশন অবস্থায় ক্লান্ত পাখির ন্যায় ফিরে আসতাম ঘরে। আম্মুর বকাঝকা তখন নিত্যদিনের ব্যাপার ছিল। কিন্তু সেই বকা যেন ছিল মায়ের মমতারই আরেক রূপ। শেষে তিনি নিজ হাতে আমাদের হাত মুখ ধুয়ে খেতে দিতেন, আর আমরা একটু পরেই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যেতাম।

ভোরের আলো ফুটবার আগেই আবার ঘুম ভাঙত। তখন দৌড়ে ছুটে যেতাম বন্ধুদের সঙ্গে বুড়োই টুকানোয়। সেখানে পৌঁছাতেই দেখা মিলত আমাদের ছোট্ট দলের। চারদিকে ভোরের নিস্তব্ধতা, আর তার মাঝেই কানে ভেসে আসত জরাজীর্ণ দাদুর কাঁপা কণ্ঠে গুনগুন করে কোরআন তেলাওয়াত। উচ্চারণে শুদ্ধতা না থাকলেও সেই সুরেলা আওয়াজে মন ভরে যেত প্রশান্তিতে। আজ আর সেই কণ্ঠ শোনা যায় না, আর মক্তবেও একসঙ্গে যাওয়া হয় না।

শৈশব তুমি এখন কেবল স্মৃতি। তবুও তুমি চিরকাল থাকবে হৃদয়ের খাতায় সোনালী অক্ষরে। জীবনের সব আনন্দ, দুঃখ, হাসি কান্নার ভিড়েও তোমার স্মৃতি কখনো শেষ হবার নয়।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

প্রিয় শৈশব নিয়ে লিখেছেন হাফিজুর রহমান 

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
১৯০

প্রিয় শৈশব 

হাফিজুর রহমান 

 

শৈশবের কথা মনে পড়লেই হৃদয়ের গভীরে এক অনাবিল আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়। জীবন যতই ব্যস্ত হয়ে উঠুক, সেই দিনগুলোর স্মৃতি এখনো মনের আকাশে রঙধনুর মতো ভেসে বেড়ায়। আমি তখন ছোট্ট শিশু। আমাদের কয়েকজনের একটি দল ছিল। ভালোবাসায় টইটম্বুর ছিল একে অপরের প্রতি। বন্ধুত্বের বাঁধনে গাঁথা ছিলাম আমরা সবাই। কারো সঙ্গে কারো রূঢ় আচরণ করার প্রশ্নই আসত না

দিনভর আমাদের খেলার ধুম। কখনো সবাই মিলে নদীতে নেমে মাছ ধরা, কখনো গাছপালার ভেতরে লুকিয়ে পাখির বাসা খোঁজা। সূর্য ডুবে গেলে অনশন অবস্থায় ক্লান্ত পাখির ন্যায় ফিরে আসতাম ঘরে। আম্মুর বকাঝকা তখন নিত্যদিনের ব্যাপার ছিল। কিন্তু সেই বকা যেন ছিল মায়ের মমতারই আরেক রূপ। শেষে তিনি নিজ হাতে আমাদের হাত মুখ ধুয়ে খেতে দিতেন, আর আমরা একটু পরেই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যেতাম।

ভোরের আলো ফুটবার আগেই আবার ঘুম ভাঙত। তখন দৌড়ে ছুটে যেতাম বন্ধুদের সঙ্গে বুড়োই টুকানোয়। সেখানে পৌঁছাতেই দেখা মিলত আমাদের ছোট্ট দলের। চারদিকে ভোরের নিস্তব্ধতা, আর তার মাঝেই কানে ভেসে আসত জরাজীর্ণ দাদুর কাঁপা কণ্ঠে গুনগুন করে কোরআন তেলাওয়াত। উচ্চারণে শুদ্ধতা না থাকলেও সেই সুরেলা আওয়াজে মন ভরে যেত প্রশান্তিতে। আজ আর সেই কণ্ঠ শোনা যায় না, আর মক্তবেও একসঙ্গে যাওয়া হয় না।

শৈশব তুমি এখন কেবল স্মৃতি। তবুও তুমি চিরকাল থাকবে হৃদয়ের খাতায় সোনালী অক্ষরে। জীবনের সব আনন্দ, দুঃখ, হাসি কান্নার ভিড়েও তোমার স্মৃতি কখনো শেষ হবার নয়।