আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাকা, স্বপ্ন ও বিশ্বাসের মাঝখানে একজন লেখক

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০০৫ পড়া হয়েছে
১০৭৩

শিরোনাম: টাকা, স্বপ্ন ও বিশ্বাসের মাঝখানে একজন লেখক

বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে একজন সংবেদনশীল লেখকের মনে বারবার একটি প্রশ্ন জাগে, টাকা ছাড়া কি আদৌ লেখক হওয়া যায়? এই প্রশ্নটি কেবল অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার নয়; এর গভীরে লুকিয়ে থাকে বহু না বলা কষ্ট, জমে থাকা অভিমান এবং ভেঙে যাওয়া বিশ্বাসের দীর্ঘশ্বাস।

একজন লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই উঠে আসে এই বাস্তবচিত্র। তিনি একটি সাহিত্য প্ল্যাটফর্মকে নিঃশর্তভাবে ভালোবেসেছিলেন। বিশ্বাস করেছিলেন, এখানে সাহিত্যই মুখ্য, ভালোবাসা ও সততাই পথচলার মূল শক্তি। সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই তিনি প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কোনো প্রত্যাশা নয়, কোনো হিসাব নয়।

পরবর্তীতে উক্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং কবিতা আহ্বান করা হয়। শুরুতে তিনি নিজের কবিতা দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু যখন কর্তৃপক্ষ নিজেরাই আগ্রহ প্রকাশ করে তার কাছে কবিতা চায়, তখন বিশ্বাসের জায়গা থেকেই তিনি কবিতা পাঠান। এটি ছিল স্বার্থের নয়, ছিল সম্পর্ক ও ভালোবাসার প্রকাশ।

পরিস্থিতির একপর্যায়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। হয়তো এমন ধারণা করা হয়েছিল, তিনি নির্বাচিত হলেও বইটির প্রিন্ট খরচ বহন করবেন না। অথচ বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার ভাষ্যমতে, কোনো লেখাই নির্বাচিত হলে নিজের অংশের প্রিন্ট খরচ বহন করা তিনি বরাবরই দায়িত্ব ও সম্মানের বিষয় বলে মনে করেন।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, শেষ পর্যন্ত সেই বইয়ে তার কবিতা মনোনীত হয়নি। এই বাদ পড়া কেবল একটি কবিতার বাদ পড়া নয়, এটি ছিল একটি স্বপ্নের ভাঙন, একফোঁটা বিশ্বাসের ক্ষয় এবং গভীর ভালোবাসার নীরব প্রত্যাখ্যান।

তবুও তিনি থেমে যাননি। হতাশা, অভিমান আর কষ্টের মধ্যেও কলম চলতেই থাকে। কারণ তার কাছে সাহিত্য কোনো হিসাবের খাতা নয়; সাহিত্যই তার আত্মার ভাষা, বেঁচে থাকার অবলম্বন এবং নীরব প্রতিবাদের শক্তি।

এই ঘটনা আবারও আমাদের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় একটি গভীর প্রশ্ন, বর্তমান সাহিত্যচর্চার পরিসরে লেখকের সম্মান, স্বচ্ছতা ও মানবিকতার জায়গাগুলো কতটা নিরাপদ? উত্তর হয়তো সময়ই দেবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, যতদিন একজন লেখক সত্য ও অনুভবের পক্ষে লিখে যাবেন, ততদিন কোনো প্রত্যাখ্যানই তার কলম থামাতে পারবে না।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

টাকা, স্বপ্ন ও বিশ্বাসের মাঝখানে একজন লেখক

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
১০৭৩

শিরোনাম: টাকা, স্বপ্ন ও বিশ্বাসের মাঝখানে একজন লেখক

বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে একজন সংবেদনশীল লেখকের মনে বারবার একটি প্রশ্ন জাগে, টাকা ছাড়া কি আদৌ লেখক হওয়া যায়? এই প্রশ্নটি কেবল অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার নয়; এর গভীরে লুকিয়ে থাকে বহু না বলা কষ্ট, জমে থাকা অভিমান এবং ভেঙে যাওয়া বিশ্বাসের দীর্ঘশ্বাস।

একজন লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই উঠে আসে এই বাস্তবচিত্র। তিনি একটি সাহিত্য প্ল্যাটফর্মকে নিঃশর্তভাবে ভালোবেসেছিলেন। বিশ্বাস করেছিলেন, এখানে সাহিত্যই মুখ্য, ভালোবাসা ও সততাই পথচলার মূল শক্তি। সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই তিনি প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কোনো প্রত্যাশা নয়, কোনো হিসাব নয়।

পরবর্তীতে উক্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং কবিতা আহ্বান করা হয়। শুরুতে তিনি নিজের কবিতা দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু যখন কর্তৃপক্ষ নিজেরাই আগ্রহ প্রকাশ করে তার কাছে কবিতা চায়, তখন বিশ্বাসের জায়গা থেকেই তিনি কবিতা পাঠান। এটি ছিল স্বার্থের নয়, ছিল সম্পর্ক ও ভালোবাসার প্রকাশ।

পরিস্থিতির একপর্যায়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। হয়তো এমন ধারণা করা হয়েছিল, তিনি নির্বাচিত হলেও বইটির প্রিন্ট খরচ বহন করবেন না। অথচ বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার ভাষ্যমতে, কোনো লেখাই নির্বাচিত হলে নিজের অংশের প্রিন্ট খরচ বহন করা তিনি বরাবরই দায়িত্ব ও সম্মানের বিষয় বলে মনে করেন।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, শেষ পর্যন্ত সেই বইয়ে তার কবিতা মনোনীত হয়নি। এই বাদ পড়া কেবল একটি কবিতার বাদ পড়া নয়, এটি ছিল একটি স্বপ্নের ভাঙন, একফোঁটা বিশ্বাসের ক্ষয় এবং গভীর ভালোবাসার নীরব প্রত্যাখ্যান।

তবুও তিনি থেমে যাননি। হতাশা, অভিমান আর কষ্টের মধ্যেও কলম চলতেই থাকে। কারণ তার কাছে সাহিত্য কোনো হিসাবের খাতা নয়; সাহিত্যই তার আত্মার ভাষা, বেঁচে থাকার অবলম্বন এবং নীরব প্রতিবাদের শক্তি।

এই ঘটনা আবারও আমাদের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় একটি গভীর প্রশ্ন, বর্তমান সাহিত্যচর্চার পরিসরে লেখকের সম্মান, স্বচ্ছতা ও মানবিকতার জায়গাগুলো কতটা নিরাপদ? উত্তর হয়তো সময়ই দেবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, যতদিন একজন লেখক সত্য ও অনুভবের পক্ষে লিখে যাবেন, ততদিন কোনো প্রত্যাখ্যানই তার কলম থামাতে পারবে না।