আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার অর্ধেক তুমি গল্পটি লিখেছেন লেখিকা জেরিন জাহান দিশা

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৬৯ পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

২১৬

আমার অর্ধেক তুমি
জেরিন জাহান দিশা

সাগর মালাকে চোখে হারায়ে ভালোবাসে। প্রেম করে বিয়ে করেছে। মালা পড়াশুনায় খুব ভালো, তাই সাগর সবসময় তার পাশে থেকে সাহায্য করত। তাঁর
ছোট্ট স্বপ্ন ছিল মালাকে একজন নামকরা জজ বানাবে। মালাও সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। আজ সে একজন বড় নামকরা জজ। আর সাগর একজন সাহসী সৈনিক ও নামকরা বক্সার।

তাদের ছয় বছরের ছেলে শাহিন দুষ্টু, আদুরে, আর
মায়ের কাছে সব সময় লেগে থাকে। বাবাকে সবসময় সে কাছে পায় না। কিন্তু তাঁর মাকে সবসময় কাছে পাই। মাকে খুব ভালোবাসে। একদিন
রাতের সময়, শাহিন মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে
পড়ল । মালা ধীরে ধীরে সাগরের পাশে বসল।

কিন্তু সাগরের মুখটা মলিন। মালা মৃদু গলায় বলল,
“কি হয়েছে? এভাবে চুপ করে আছো কেন? সাগর বলল, মালা তুমি কি আগের মতোই আমাকে ভালোবাসা ? তুমি তো আগে আমার কাপে চুমুক দিয়ে চা খেতে। আমাকে কত সুন্দর সময় কাটাতে।

মালার কথাটা শুনে লাজুক হাসি দিয়ে বলল, বুঝেছি তুমি অভিমান করেছো । মশাই আমাদের পাশে তো ছেলে আছে । কিভাবে তোমার সাথে সময়
কাটাবো। সাগর বলল, ঠিক বলেছো। মেয়েদের একটা বাচ্চা হয়ে গেলে। সন্তান কেই বেশি ভালোবাসে আর বরের ভালোবাসা ভুলে যায়।

সাগর রাগ করে দরজার খুলে বাইরে যেতে চাইলে,
মালা তাঁর হাত ধরে বলল , কোথায় যাচ্ছো ? অনেক রাত হয়েছে ঘুমাবে না, সাগর বলল, ঘুমাবো না, তুমি তো আমাকে আর ভালোবাস না। মালা বলল, “আমি সত্যিই তোমাকে খুব ভালোবাসি। আমি আজ যা হয়েছি সব তোমার জন্য।

এখন যদি মিছে আমাকে ভুল বুঝে চলে যাও। তাহলে আমি অন্য কোথাও চলে যাব। সাগর মালার
মুখ চেপে ধরে বলল, সরি ! আর কষ্ট দেব না তোমাকে । ধীরে ধীরে সাগর মালাকে বুকে টেনে নিল। মালা হাসি চেপে ধরে তার বুকের কাছে মাথা রাখল । ঘরটা শান্ত, ভালোবাসায় ভরে উঠলো।

পরের দিন দুপুরে, সবাই একসাথে খাচ্ছিল। মালা
খাওয়া শেষে পানি খাচ্ছিল। হঠাৎ শাহিন খুব সরল চোখে বাবাকে জিজ্ঞেস করল । “আব্বু তুমি কাকে বেশি ভালোবাসো ? আমাকে না আম্মুকে ?মালা পানি খেতে খেতে থেমে গেল। সাগর একবার ছেলের দিকে, একবার মালার দিকে তাকাল ।

তারপর হেসে বলল , “তোমার থেকে একটু বেশি তোমার আম্মুকে ভালোবাসি ।” মালা সাগর দিকে
বিস্ময় ভাবে তাকিয়ে বলল, “তুমি কি পাগল? ছেলের সামনে এটা বলতে হবে?” সাগর শান্তভাবে
বলল , “যা সত্যি তাই বলেছি। আমি তোমাকে যতটা
ভালোবাসি । সেটা শব্দে বোঝানো যায় না। শাহিন তো আমার সন্তান, কিন্তু তুমি আমার হৃদয়ের অর্ধেক।

শাহিন মুখ ছোট করে বলল , “মানে তুমি আমাকে কম ভালোবাসো ?” সাগর তাকে কোলে টেনে নিয়ে বলল, “না বাবা , তোমাকে আমি প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি । কিন্তু তোমার আম্মু আমার প্রেম , আমার জীবন , আমার স্বপ্ন তাকে একটু বেশিই ভালোবাসি । মালা বলল , এইসব কথা ছেলের সামনে বলো না , ও ছোট ভুল বুঝতে পারে।

সাগর হেসে বলল , না মালা, আমি চাই ও জানুক
মা – বাবার মধ্যে ভালোবাসা যত মজবুত হবে , সন্তান তত নিরাপদ থাকবে । আমি তোমাকে যত ভালোবাসি , তা ওর‌ও মনে শান্তি দেবে।”

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

আমার অর্ধেক তুমি গল্পটি লিখেছেন লেখিকা জেরিন জাহান দিশা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
২১৬

আমার অর্ধেক তুমি
জেরিন জাহান দিশা

সাগর মালাকে চোখে হারায়ে ভালোবাসে। প্রেম করে বিয়ে করেছে। মালা পড়াশুনায় খুব ভালো, তাই সাগর সবসময় তার পাশে থেকে সাহায্য করত। তাঁর
ছোট্ট স্বপ্ন ছিল মালাকে একজন নামকরা জজ বানাবে। মালাও সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। আজ সে একজন বড় নামকরা জজ। আর সাগর একজন সাহসী সৈনিক ও নামকরা বক্সার।

তাদের ছয় বছরের ছেলে শাহিন দুষ্টু, আদুরে, আর
মায়ের কাছে সব সময় লেগে থাকে। বাবাকে সবসময় সে কাছে পায় না। কিন্তু তাঁর মাকে সবসময় কাছে পাই। মাকে খুব ভালোবাসে। একদিন
রাতের সময়, শাহিন মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে
পড়ল । মালা ধীরে ধীরে সাগরের পাশে বসল।

কিন্তু সাগরের মুখটা মলিন। মালা মৃদু গলায় বলল,
“কি হয়েছে? এভাবে চুপ করে আছো কেন? সাগর বলল, মালা তুমি কি আগের মতোই আমাকে ভালোবাসা ? তুমি তো আগে আমার কাপে চুমুক দিয়ে চা খেতে। আমাকে কত সুন্দর সময় কাটাতে।

মালার কথাটা শুনে লাজুক হাসি দিয়ে বলল, বুঝেছি তুমি অভিমান করেছো । মশাই আমাদের পাশে তো ছেলে আছে । কিভাবে তোমার সাথে সময়
কাটাবো। সাগর বলল, ঠিক বলেছো। মেয়েদের একটা বাচ্চা হয়ে গেলে। সন্তান কেই বেশি ভালোবাসে আর বরের ভালোবাসা ভুলে যায়।

সাগর রাগ করে দরজার খুলে বাইরে যেতে চাইলে,
মালা তাঁর হাত ধরে বলল , কোথায় যাচ্ছো ? অনেক রাত হয়েছে ঘুমাবে না, সাগর বলল, ঘুমাবো না, তুমি তো আমাকে আর ভালোবাস না। মালা বলল, “আমি সত্যিই তোমাকে খুব ভালোবাসি। আমি আজ যা হয়েছি সব তোমার জন্য।

এখন যদি মিছে আমাকে ভুল বুঝে চলে যাও। তাহলে আমি অন্য কোথাও চলে যাব। সাগর মালার
মুখ চেপে ধরে বলল, সরি ! আর কষ্ট দেব না তোমাকে । ধীরে ধীরে সাগর মালাকে বুকে টেনে নিল। মালা হাসি চেপে ধরে তার বুকের কাছে মাথা রাখল । ঘরটা শান্ত, ভালোবাসায় ভরে উঠলো।

পরের দিন দুপুরে, সবাই একসাথে খাচ্ছিল। মালা
খাওয়া শেষে পানি খাচ্ছিল। হঠাৎ শাহিন খুব সরল চোখে বাবাকে জিজ্ঞেস করল । “আব্বু তুমি কাকে বেশি ভালোবাসো ? আমাকে না আম্মুকে ?মালা পানি খেতে খেতে থেমে গেল। সাগর একবার ছেলের দিকে, একবার মালার দিকে তাকাল ।

তারপর হেসে বলল , “তোমার থেকে একটু বেশি তোমার আম্মুকে ভালোবাসি ।” মালা সাগর দিকে
বিস্ময় ভাবে তাকিয়ে বলল, “তুমি কি পাগল? ছেলের সামনে এটা বলতে হবে?” সাগর শান্তভাবে
বলল , “যা সত্যি তাই বলেছি। আমি তোমাকে যতটা
ভালোবাসি । সেটা শব্দে বোঝানো যায় না। শাহিন তো আমার সন্তান, কিন্তু তুমি আমার হৃদয়ের অর্ধেক।

শাহিন মুখ ছোট করে বলল , “মানে তুমি আমাকে কম ভালোবাসো ?” সাগর তাকে কোলে টেনে নিয়ে বলল, “না বাবা , তোমাকে আমি প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি । কিন্তু তোমার আম্মু আমার প্রেম , আমার জীবন , আমার স্বপ্ন তাকে একটু বেশিই ভালোবাসি । মালা বলল , এইসব কথা ছেলের সামনে বলো না , ও ছোট ভুল বুঝতে পারে।

সাগর হেসে বলল , না মালা, আমি চাই ও জানুক
মা – বাবার মধ্যে ভালোবাসা যত মজবুত হবে , সন্তান তত নিরাপদ থাকবে । আমি তোমাকে যত ভালোবাসি , তা ওর‌ও মনে শান্তি দেবে।”