আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামে নারীর অধিকার ও মর্যাদা “উম্মি হুরায়েরা বিলু”

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৮৬ পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

১১৩

ইসলামে নারীর অধিকার ও মর্যাদা
উম্মি হুরায়েরা বিলু

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা মানবজাতির জন্য শান্তি, ন্যায় ও মর্যাদার শিক্ষা দেয়। এই ধর্ম নারী ও পুরুষ উভয়কেই সম্মানিত করেছে এবং তাদের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে। ইতিহাসে দেখা যায়, ইসলাম আগমনের পূর্বে পৃথিবীর অনেক সমাজে নারীরা ছিল অবহেলিত ও অধিকারবঞ্চিত। কিন্তু ইসলাম এসে নারীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। কুরআন ও হাদিসে নারীর মর্যাদা সম্পর্কে বহু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষ উভয়েই মানবিক মর্যাদায় সমান। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন,
“হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি প্রাণ থেকে, আর তা থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা নিসা: ১)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে নারী ও পুরুষ একই উৎস থেকে সৃষ্টি। তাই আল্লাহর কাছে মর্যাদার দিক থেকে তারা সমান। মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় তার তাকওয়া ও সৎকর্মের ভিত্তিতে।

ইসলাম নারীদের জ্ঞান অর্জনের অধিকারও দিয়েছে। জ্ঞান অর্জন করা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.) বলেছেন,
“জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।” (ইবনে মাজাহ)
এখানে মুসলিম বলতে নারী ও পুরুষ উভয়কেই বোঝানো হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে অনেক নারী জ্ঞান অর্জন করে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

সম্পদের ক্ষেত্রেও ইসলাম নারীদের অধিকার স্বীকার করেছে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন,
“পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজন যা রেখে যায়, তাতে পুরুষের অংশ আছে এবং নারীরও অংশ আছে।” (সূরা নিসা: ৭)
এই আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম নারীদের উত্তরাধিকার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে, যা অনেক সমাজে আগে স্বীকৃত ছিল না।

বিবাহের ক্ষেত্রেও ইসলাম নারীর মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। নারীর সম্মতি ছাড়া কোনো বিবাহ বৈধ নয়। নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,
“বিধবা নারীর অনুমতি ছাড়া তার বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী নারীর সম্মতি ছাড়া তার বিয়ে দেওয়া যাবে না।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
এটি প্রমাণ করে যে ইসলাম নারীর স্বাধীন মতামতকে সম্মান করে।

ইসলামে মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উঁচু। এক ব্যক্তি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন,
“ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার ভালো ব্যবহার পাওয়ার সবচেয়ে বেশি অধিকার কার?”
নবী (সা.) বললেন, “তোমার মা।” তিনি তিনবার এ কথা বলার পর চতুর্থবার বললেন, “তারপর তোমার বাবা।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে ইসলামে মায়ের মর্যাদা কত উচ্চ।

এছাড়া নারীদের সাথে সদাচরণ করার জন্য ইসলাম বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছে। নবী (সা.) বলেছেন,
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করে।” (তিরমিজি)

পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীদের সম্মান, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কুরআন ও হাদিসে নারীর অধিকার সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। নারীকে মা, মেয়ে, বোন ও স্ত্রী—সব অবস্থাতেই ইসলাম সম্মানের আসনে বসিয়েছে। তাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুসরণ করলে সমাজে নারীর মর্যাদা রক্ষা হবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

ইসলামে নারীর অধিকার ও মর্যাদা “উম্মি হুরায়েরা বিলু”

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
১১৩

ইসলামে নারীর অধিকার ও মর্যাদা
উম্মি হুরায়েরা বিলু

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা মানবজাতির জন্য শান্তি, ন্যায় ও মর্যাদার শিক্ষা দেয়। এই ধর্ম নারী ও পুরুষ উভয়কেই সম্মানিত করেছে এবং তাদের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে। ইতিহাসে দেখা যায়, ইসলাম আগমনের পূর্বে পৃথিবীর অনেক সমাজে নারীরা ছিল অবহেলিত ও অধিকারবঞ্চিত। কিন্তু ইসলাম এসে নারীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। কুরআন ও হাদিসে নারীর মর্যাদা সম্পর্কে বহু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষ উভয়েই মানবিক মর্যাদায় সমান। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন,
“হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি প্রাণ থেকে, আর তা থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা নিসা: ১)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে নারী ও পুরুষ একই উৎস থেকে সৃষ্টি। তাই আল্লাহর কাছে মর্যাদার দিক থেকে তারা সমান। মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় তার তাকওয়া ও সৎকর্মের ভিত্তিতে।

ইসলাম নারীদের জ্ঞান অর্জনের অধিকারও দিয়েছে। জ্ঞান অর্জন করা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.) বলেছেন,
“জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।” (ইবনে মাজাহ)
এখানে মুসলিম বলতে নারী ও পুরুষ উভয়কেই বোঝানো হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে অনেক নারী জ্ঞান অর্জন করে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

সম্পদের ক্ষেত্রেও ইসলাম নারীদের অধিকার স্বীকার করেছে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন,
“পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজন যা রেখে যায়, তাতে পুরুষের অংশ আছে এবং নারীরও অংশ আছে।” (সূরা নিসা: ৭)
এই আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম নারীদের উত্তরাধিকার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে, যা অনেক সমাজে আগে স্বীকৃত ছিল না।

বিবাহের ক্ষেত্রেও ইসলাম নারীর মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। নারীর সম্মতি ছাড়া কোনো বিবাহ বৈধ নয়। নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,
“বিধবা নারীর অনুমতি ছাড়া তার বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী নারীর সম্মতি ছাড়া তার বিয়ে দেওয়া যাবে না।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
এটি প্রমাণ করে যে ইসলাম নারীর স্বাধীন মতামতকে সম্মান করে।

ইসলামে মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উঁচু। এক ব্যক্তি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন,
“ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার ভালো ব্যবহার পাওয়ার সবচেয়ে বেশি অধিকার কার?”
নবী (সা.) বললেন, “তোমার মা।” তিনি তিনবার এ কথা বলার পর চতুর্থবার বললেন, “তারপর তোমার বাবা।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে ইসলামে মায়ের মর্যাদা কত উচ্চ।

এছাড়া নারীদের সাথে সদাচরণ করার জন্য ইসলাম বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছে। নবী (সা.) বলেছেন,
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করে।” (তিরমিজি)

পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীদের সম্মান, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কুরআন ও হাদিসে নারীর অধিকার সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। নারীকে মা, মেয়ে, বোন ও স্ত্রী—সব অবস্থাতেই ইসলাম সম্মানের আসনে বসিয়েছে। তাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুসরণ করলে সমাজে নারীর মর্যাদা রক্ষা হবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।