আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“অমর একুশে: আমাদের অস্তিত্ব ও চেতনার অবিনাশী শিখা” ​লিখেছেন এইচ.এম. জুনাইদুল ইসলাম

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৪০ পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

১৮০

অমর একুশে: আমাদের অস্তিত্ব ও চেতনার অবিনাশী শিখা
​— এইচ.এম. জুনাইদুল ইসলাম

​চেতনার বাতিঘর ২১শে ফেব্রুয়ারি
রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের দুয়ারে সমাগত। ২১শে ফেব্রুয়ারি মানেই মাতৃভাষার জন্য নির্ভয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দামাল ছেলেদের আত্মোৎসর্গের দিন। বাঙালির ইতিহাসে প্রথম বিজয়ের সোপান তৈরি হয়েছিল এই দিনেই। একুশ আমাদের শোকের দিন হলেও, সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার প্রেরণা জোগায় বীরত্বের উত্তরসূরিদের।

​ইতিহাসের অমর বীরগাথা
১৯৫২ সালের সেই ফাল্গুনী রাতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের আত্মত্যাগ কেবল একটি ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেনি, বরং রোপণ করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’—এই সুরের মূর্ছনায় যখন শহীদ মিনারে জনতার ঢল নামে, তখন প্রমাণিত হয় একুশ আমাদের জাতিসত্তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বায়ান্নর সেই প্রতিবাদী চেতনা থেকেই জন্ম নিয়েছিল একাত্তরের অদম্য সাহসিকতা।

​বিশ্বমঞ্চে বাঙালির গৌরব
আজ বাঙালির এই আত্মত্যাগ কেবল এ ভূখণ্ডের সীমানায় আবদ্ধ নেই; এটি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদায় অভিষিক্ত। একুশের চেতনার সঙ্গে মিশে আছে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের সেই জাতীয়তাবাদী চেতনাকে পুনরায় শাণিত করতে ফিরে আসে।

​বর্তমান সংকট ও আমাদের করণীয়
‘একুশ মানে মাথা নত না করা’—এই অমর বাণী আমাদের স্বকীয়তার পাঠ দিলেও বর্তমানে মাতৃভাষার প্রয়োগে এক ধরণের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সর্বস্তরে বাংলা চালুর আইন থাকলেও দাফতরিক কাজ, সাইনবোর্ড কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজির আধিক্য বাড়ছে। আমরা আন্তর্জাতিক ভাষা শিখব, কিন্তু নিজের মাতৃভাষার স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে নয়।

​শেষকথা
বাংলা হরফে ইংরেজি লেখা বা মিশ্রভাষার অপপ্রয়াস থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ভুল বানান ও ভুল উচ্চারণ থেকে রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। সরকার ও সাধারণ মানুষ—উভয়কেই মাতৃভাষা চর্চায় আরও যত্নশীল হতে হবে। এই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আমরা পালন করছি অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

“অমর একুশে: আমাদের অস্তিত্ব ও চেতনার অবিনাশী শিখা” ​লিখেছেন এইচ.এম. জুনাইদুল ইসলাম

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৮০

অমর একুশে: আমাদের অস্তিত্ব ও চেতনার অবিনাশী শিখা
​— এইচ.এম. জুনাইদুল ইসলাম

​চেতনার বাতিঘর ২১শে ফেব্রুয়ারি
রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের দুয়ারে সমাগত। ২১শে ফেব্রুয়ারি মানেই মাতৃভাষার জন্য নির্ভয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দামাল ছেলেদের আত্মোৎসর্গের দিন। বাঙালির ইতিহাসে প্রথম বিজয়ের সোপান তৈরি হয়েছিল এই দিনেই। একুশ আমাদের শোকের দিন হলেও, সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার প্রেরণা জোগায় বীরত্বের উত্তরসূরিদের।

​ইতিহাসের অমর বীরগাথা
১৯৫২ সালের সেই ফাল্গুনী রাতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের আত্মত্যাগ কেবল একটি ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেনি, বরং রোপণ করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’—এই সুরের মূর্ছনায় যখন শহীদ মিনারে জনতার ঢল নামে, তখন প্রমাণিত হয় একুশ আমাদের জাতিসত্তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বায়ান্নর সেই প্রতিবাদী চেতনা থেকেই জন্ম নিয়েছিল একাত্তরের অদম্য সাহসিকতা।

​বিশ্বমঞ্চে বাঙালির গৌরব
আজ বাঙালির এই আত্মত্যাগ কেবল এ ভূখণ্ডের সীমানায় আবদ্ধ নেই; এটি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদায় অভিষিক্ত। একুশের চেতনার সঙ্গে মিশে আছে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের সেই জাতীয়তাবাদী চেতনাকে পুনরায় শাণিত করতে ফিরে আসে।

​বর্তমান সংকট ও আমাদের করণীয়
‘একুশ মানে মাথা নত না করা’—এই অমর বাণী আমাদের স্বকীয়তার পাঠ দিলেও বর্তমানে মাতৃভাষার প্রয়োগে এক ধরণের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সর্বস্তরে বাংলা চালুর আইন থাকলেও দাফতরিক কাজ, সাইনবোর্ড কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজির আধিক্য বাড়ছে। আমরা আন্তর্জাতিক ভাষা শিখব, কিন্তু নিজের মাতৃভাষার স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে নয়।

​শেষকথা
বাংলা হরফে ইংরেজি লেখা বা মিশ্রভাষার অপপ্রয়াস থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ভুল বানান ও ভুল উচ্চারণ থেকে রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। সরকার ও সাধারণ মানুষ—উভয়কেই মাতৃভাষা চর্চায় আরও যত্নশীল হতে হবে। এই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আমরা পালন করছি অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।