আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“এপ্রিল ফুলের অন্তরালে করুণ ইতিহাস” লিখেছেন জনি সিদ্দিক*

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • ৫৫৪৫ পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

৬০১৯

*প্রবন্ধ*
*এপ্রিল ফুলের অন্তরালে করুণ ইতিহাস—জনি সিদ্দিক*

বন্ধুরা! তোমরা নিশ্চয়ই আশ্চর্য হয়েছো এই ভেবে যে, ‘এপ্রিল ফুল’ আবার কেমন ফুল? এটা কোনো ফুলের নাম হতে পারে? আসলে এটা কোনো সুগন্ধি ফুল নয়। বরং ‘এপ্রিল ফুল’ একটি করুণ ট্রাজেডি! এর পেছনের গল্পে লুকিয়ে আছে এক পৈশাচিক বিশ্বাসঘাতকতা আর কান্নার ইতিহাস। এই ইতিহাস শুনলে তোমার কলম থেমে যাবে, আর মনের ভেতর জেগে উঠবে এক সাগর যন্ত্রণা। চোখ দিয়ে অশ্রুও ঝরতে পারে। বন্ধুরা, তোমরা হয়তো ভাবছো যে ফুলের সাথে আবার বিশ্বাসঘাতকতা আর কান্নার সম্পর্ক কেন? হ্যাঁ বন্ধুরা, ‘এপ্রিল ফুল’ তো আর যেমন-তেমন ফুল নয়; এটা হলো ‘April Fool’ বা এপ্রিলের বোকা। আর ইতিহাসের সেই বোকা বানানো মানুষগুলো ছিলাম আমরা— মুসলমানরা। এ বিষয়ে জানতে হলে তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে সেই ১২/ ১৩ শত বছর পূর্বের সময়ে।
*স্পেনে মুসলিম শাসনের সোনালী অতীত*
আজ থেকে প্রায় ১৩শত বছর আগের কথা। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মহাবীর তারিক বিন জিয়াদ মাত্র বার হাজারের মতো মর্দে মুজাহিদ সৈন্য নিয়ে স্পেন জয় করেন। দীর্ঘ আটশ বছর সেখানে মুসলিম শাসন চলে। সে সময় স্পেন ছিল জ্ঞান, বিজ্ঞান আর সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র। তৎকালীন সময়ে মুসলমানরা এমন এক বিস্ময়কর উন্নতি সাধন করেছিল, যার প্রমাণ আজও স্পেনে গেলে চোখে পড়ে— যেমন রাজকীয় আল-হামরা প্রাসাদ ও গ্রানাডা শহর। কিন্তু দীর্ঘ শাসন ও সমৃদ্ধির একপর্যায়ে মুসলমানরা ভোগ-বিলাসিতায় মত্ত হয়ে পড়ে এবং নিজেদের ঐক্য হারিয়ে ফেলে। তখন পরাজয়ের নিশান পত পত করে উড়তে থাকে। অতীত বর্তমান ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, যখন কোন শাসক বা রাজাধিরাজ নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে যায় আর লোভ লালসা ও বিলাসিতায় মগ্ন হয়ে যায় তখন তাদের পরাজয় ঘটে। তেমনি ঘটেছিল স্পেনের মুসলিম শাসকদের বেলাতেও।
*পতনের কালো মেঘ ও রাজকীয় ষড়যন্ত্র*
মুসলিম উম্মাহর এই অনৈক্য আর গাফিলতির সুযোগ নেয় পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পরাজিত খ্রিষ্টান শক্তি। স্পেন হারানোর শোক তাদেরকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যন্ত্রণার আগুনে পোড়াচ্ছিল। ব্রিটানিকা তথ্য কোষ অনুযায়ী জানা যায় যে, আরগন রাজ্যের খ্রিষ্টান রাজা ফার্ডিনান্ড ও কাস্তালিয়ার পর্তুগীজ রানী ইসাবেলা যৌথভাবে মুসলিমদের সমূলে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা উভয়ে মুসলিমদেরকে সমূলে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এবং মুসলমানদেরকে ধ্বংস করার জন্য বিভিন্ন অজুহাত খুঁজতে থাকেন। এমন এক মুহূর্তে ঘটনা প্রসঙ্গে মুসলমানরা আত্মঘাতী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
ফার্ডিন্যান্ড ও রাণী ইসাবেলা মুসলমানদের এই আত্মঘাতী গৃহযুদ্ধের সুযোগ গ্রহণ করে গ্রাম-গঞ্জের নিরীহ মুসলিম নারী-পুরুষকে হত্যা করে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিতে দিতে ছুটে আসে শহরের দিকে। অতঃপর রাজধানী গ্রানাডা অবরোধ করে। এতক্ষণে টনক নড়ে মুসলিম সেনাবাহিনীর। তারা গা ঝাড়া দিয়ে উঠে। তাতে ভড়কে যায় সম্মিলিত কাপুরুষ খ্রীষ্টান বাহিনী। সম্মুখ যুদ্ধে নির্ঘাত পরাজয় বুঝতে পেরে তারা ভিন্ন পথ অবলম্বন করে। তারা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় শহরের বাইরের সকল শস্য খামার এবং বিশেষ করে শহরের খাদ্য সরবরাহের প্রধান উৎস ‘ভেগা’ উপত্যকা। ফলে অচিরেই দুর্ভিক্ষ নেমে আসে শহরে। খাদ্যাভাবে সেখানে হাহাকার দেখা দেয়। (মাসিক আত তাহরীক-মার্চ ২০১৭ সংখ্যা)
ঈমানদীপ্ত মুজাহিদরা প্রাণপণে যুদ্ধ করলেও খাদ্যাভাব আর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে ছিল না।
*বিশ্বাসের অমর্যাদা ও বিশ্বাসঘাতকতা*
মুসলমানদের সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত করা কঠিন দেখে গ্রানাডা দখল করার পথে তুমুল যুদ্ধের একপর্যায়ে রাজা ফার্ডিনান্ড ও রানী ইসাবেলা মুসলমানদের এক অভাবনীয় প্রস্তাব দেয়। তারা ঘোষণা করে— “হে মুসলমানরা! তোমরা যদি বাঁচতে চাও, তবে অস্ত্র ফেলে দিয়ে গ্রানাডার বড় মসজিদে এবং আমাদের বন্দরে থাকা জাহাজগুলোতে আশ্রয় নাও। সেখানে তোমরা নিরাপদ থাকবে।” অসহায় মুসলমানরা শত্রুর সেই কপট ওয়াদায় বিশ্বাস করে প্রাণ বাঁচানোর জন্য মসজিদে ও জাহাজগুলোতে আশ্রয় নেয়।
ঠিক তখনই ফার্ডিনান্ড তার আসল রূপ প্রকাশ করে। সব মসজিদের দরজায় তালা লাগিয়ে বাইরে থেকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে মাঝসাগরে জাহাজগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হয়। অগণিত নারী, পুরুষ ও শিশুর আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস কেঁপে ওঠে। আহ! কি সেই বীভৎস দৃশ্য! অসহায় নারী পুরুষের কি করুণ আর্তনাদ! মুসলমানদের এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে সেই শয়তান ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা অট্টহাসি দিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে— “Oh Muslim, how fool you are!” অর্থাৎ— “হায় মুসলমান, তোমরা কত বড় বোকা!”
*আমাদের করুণ পরিণতি ও বর্তমান শিক্ষা*
আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সেই দিনটি ছিল ১৪৯২ সালের এপ্রিলের ১ তারিখ। পরবর্তীকালে ইউরোপীয় দেশগুলো এই দিনটিকে ‘এপ্রিল ফুল’ বা মজা করার দিন হিসেবে উদযাপন করতে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আজকের অনেক মুসলমান এই ইতিহাসের কথা না জেনে আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে নিজেদের পূর্বপুরুষদের সেই শোচনীয় মৃত্যুকে উপহাস করে।
আমাদের মনে রাখা উচিত, মুসলমানরা যখন তাদের আদর্শ আর ভ্রাতৃত্ব ভুলে যায়, তখনই তাদের ওপর এমন বিপর্যয় নেমে আসে। গ্রানাডার পতন কেবল একটি ভূখণ্ড হারানো নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর অনৈক্যের এক জ্বলন্ত দলিল।

বন্ধুরা, পরিশেষে বলবো, এসো আমরা শপথ করি—আমরা না জেনে আর কখনো এই বিজাতীয় দিবস পালন করব না। বরং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ঈমান ও ঐক্যকে আরও মজবুত করব। এসো, আমরা স্পেনের সেই শহিদদের জন্য মন থেকে দোয়া করি এবং লোভ লালসা ও বিলাসিতা ত্যাগ করে সত্যের পথে ফিরে আসি। জ্ঞানে বিজ্ঞানে আমরা আবারো গ্রানাডার মতো দৃষ্টান্ত তৈরি করি।

 

তথ্যসূত্র: মাসিক আত তাহরীক, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা ও ব্রিটানিকা।

 

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

“এপ্রিল ফুলের অন্তরালে করুণ ইতিহাস” লিখেছেন জনি সিদ্দিক*

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
৬০১৯

*প্রবন্ধ*
*এপ্রিল ফুলের অন্তরালে করুণ ইতিহাস—জনি সিদ্দিক*

বন্ধুরা! তোমরা নিশ্চয়ই আশ্চর্য হয়েছো এই ভেবে যে, ‘এপ্রিল ফুল’ আবার কেমন ফুল? এটা কোনো ফুলের নাম হতে পারে? আসলে এটা কোনো সুগন্ধি ফুল নয়। বরং ‘এপ্রিল ফুল’ একটি করুণ ট্রাজেডি! এর পেছনের গল্পে লুকিয়ে আছে এক পৈশাচিক বিশ্বাসঘাতকতা আর কান্নার ইতিহাস। এই ইতিহাস শুনলে তোমার কলম থেমে যাবে, আর মনের ভেতর জেগে উঠবে এক সাগর যন্ত্রণা। চোখ দিয়ে অশ্রুও ঝরতে পারে। বন্ধুরা, তোমরা হয়তো ভাবছো যে ফুলের সাথে আবার বিশ্বাসঘাতকতা আর কান্নার সম্পর্ক কেন? হ্যাঁ বন্ধুরা, ‘এপ্রিল ফুল’ তো আর যেমন-তেমন ফুল নয়; এটা হলো ‘April Fool’ বা এপ্রিলের বোকা। আর ইতিহাসের সেই বোকা বানানো মানুষগুলো ছিলাম আমরা— মুসলমানরা। এ বিষয়ে জানতে হলে তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে সেই ১২/ ১৩ শত বছর পূর্বের সময়ে।
*স্পেনে মুসলিম শাসনের সোনালী অতীত*
আজ থেকে প্রায় ১৩শত বছর আগের কথা। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মহাবীর তারিক বিন জিয়াদ মাত্র বার হাজারের মতো মর্দে মুজাহিদ সৈন্য নিয়ে স্পেন জয় করেন। দীর্ঘ আটশ বছর সেখানে মুসলিম শাসন চলে। সে সময় স্পেন ছিল জ্ঞান, বিজ্ঞান আর সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র। তৎকালীন সময়ে মুসলমানরা এমন এক বিস্ময়কর উন্নতি সাধন করেছিল, যার প্রমাণ আজও স্পেনে গেলে চোখে পড়ে— যেমন রাজকীয় আল-হামরা প্রাসাদ ও গ্রানাডা শহর। কিন্তু দীর্ঘ শাসন ও সমৃদ্ধির একপর্যায়ে মুসলমানরা ভোগ-বিলাসিতায় মত্ত হয়ে পড়ে এবং নিজেদের ঐক্য হারিয়ে ফেলে। তখন পরাজয়ের নিশান পত পত করে উড়তে থাকে। অতীত বর্তমান ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, যখন কোন শাসক বা রাজাধিরাজ নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে যায় আর লোভ লালসা ও বিলাসিতায় মগ্ন হয়ে যায় তখন তাদের পরাজয় ঘটে। তেমনি ঘটেছিল স্পেনের মুসলিম শাসকদের বেলাতেও।
*পতনের কালো মেঘ ও রাজকীয় ষড়যন্ত্র*
মুসলিম উম্মাহর এই অনৈক্য আর গাফিলতির সুযোগ নেয় পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পরাজিত খ্রিষ্টান শক্তি। স্পেন হারানোর শোক তাদেরকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যন্ত্রণার আগুনে পোড়াচ্ছিল। ব্রিটানিকা তথ্য কোষ অনুযায়ী জানা যায় যে, আরগন রাজ্যের খ্রিষ্টান রাজা ফার্ডিনান্ড ও কাস্তালিয়ার পর্তুগীজ রানী ইসাবেলা যৌথভাবে মুসলিমদের সমূলে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা উভয়ে মুসলিমদেরকে সমূলে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এবং মুসলমানদেরকে ধ্বংস করার জন্য বিভিন্ন অজুহাত খুঁজতে থাকেন। এমন এক মুহূর্তে ঘটনা প্রসঙ্গে মুসলমানরা আত্মঘাতী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
ফার্ডিন্যান্ড ও রাণী ইসাবেলা মুসলমানদের এই আত্মঘাতী গৃহযুদ্ধের সুযোগ গ্রহণ করে গ্রাম-গঞ্জের নিরীহ মুসলিম নারী-পুরুষকে হত্যা করে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিতে দিতে ছুটে আসে শহরের দিকে। অতঃপর রাজধানী গ্রানাডা অবরোধ করে। এতক্ষণে টনক নড়ে মুসলিম সেনাবাহিনীর। তারা গা ঝাড়া দিয়ে উঠে। তাতে ভড়কে যায় সম্মিলিত কাপুরুষ খ্রীষ্টান বাহিনী। সম্মুখ যুদ্ধে নির্ঘাত পরাজয় বুঝতে পেরে তারা ভিন্ন পথ অবলম্বন করে। তারা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় শহরের বাইরের সকল শস্য খামার এবং বিশেষ করে শহরের খাদ্য সরবরাহের প্রধান উৎস ‘ভেগা’ উপত্যকা। ফলে অচিরেই দুর্ভিক্ষ নেমে আসে শহরে। খাদ্যাভাবে সেখানে হাহাকার দেখা দেয়। (মাসিক আত তাহরীক-মার্চ ২০১৭ সংখ্যা)
ঈমানদীপ্ত মুজাহিদরা প্রাণপণে যুদ্ধ করলেও খাদ্যাভাব আর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে ছিল না।
*বিশ্বাসের অমর্যাদা ও বিশ্বাসঘাতকতা*
মুসলমানদের সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত করা কঠিন দেখে গ্রানাডা দখল করার পথে তুমুল যুদ্ধের একপর্যায়ে রাজা ফার্ডিনান্ড ও রানী ইসাবেলা মুসলমানদের এক অভাবনীয় প্রস্তাব দেয়। তারা ঘোষণা করে— “হে মুসলমানরা! তোমরা যদি বাঁচতে চাও, তবে অস্ত্র ফেলে দিয়ে গ্রানাডার বড় মসজিদে এবং আমাদের বন্দরে থাকা জাহাজগুলোতে আশ্রয় নাও। সেখানে তোমরা নিরাপদ থাকবে।” অসহায় মুসলমানরা শত্রুর সেই কপট ওয়াদায় বিশ্বাস করে প্রাণ বাঁচানোর জন্য মসজিদে ও জাহাজগুলোতে আশ্রয় নেয়।
ঠিক তখনই ফার্ডিনান্ড তার আসল রূপ প্রকাশ করে। সব মসজিদের দরজায় তালা লাগিয়ে বাইরে থেকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে মাঝসাগরে জাহাজগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হয়। অগণিত নারী, পুরুষ ও শিশুর আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস কেঁপে ওঠে। আহ! কি সেই বীভৎস দৃশ্য! অসহায় নারী পুরুষের কি করুণ আর্তনাদ! মুসলমানদের এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে সেই শয়তান ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা অট্টহাসি দিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে— “Oh Muslim, how fool you are!” অর্থাৎ— “হায় মুসলমান, তোমরা কত বড় বোকা!”
*আমাদের করুণ পরিণতি ও বর্তমান শিক্ষা*
আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সেই দিনটি ছিল ১৪৯২ সালের এপ্রিলের ১ তারিখ। পরবর্তীকালে ইউরোপীয় দেশগুলো এই দিনটিকে ‘এপ্রিল ফুল’ বা মজা করার দিন হিসেবে উদযাপন করতে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আজকের অনেক মুসলমান এই ইতিহাসের কথা না জেনে আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে নিজেদের পূর্বপুরুষদের সেই শোচনীয় মৃত্যুকে উপহাস করে।
আমাদের মনে রাখা উচিত, মুসলমানরা যখন তাদের আদর্শ আর ভ্রাতৃত্ব ভুলে যায়, তখনই তাদের ওপর এমন বিপর্যয় নেমে আসে। গ্রানাডার পতন কেবল একটি ভূখণ্ড হারানো নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর অনৈক্যের এক জ্বলন্ত দলিল।

বন্ধুরা, পরিশেষে বলবো, এসো আমরা শপথ করি—আমরা না জেনে আর কখনো এই বিজাতীয় দিবস পালন করব না। বরং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ঈমান ও ঐক্যকে আরও মজবুত করব। এসো, আমরা স্পেনের সেই শহিদদের জন্য মন থেকে দোয়া করি এবং লোভ লালসা ও বিলাসিতা ত্যাগ করে সত্যের পথে ফিরে আসি। জ্ঞানে বিজ্ঞানে আমরা আবারো গ্রানাডার মতো দৃষ্টান্ত তৈরি করি।

 

তথ্যসূত্র: মাসিক আত তাহরীক, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা ও ব্রিটানিকা।