আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামের দৃষ্টিতে পোশাক-পরিচ্ছদ জনি সিদ্দিক

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৫৯ পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

৫১০৮

 

ইসলামের দৃষ্টিতে পোশাক-পরিচ্ছদ
জনি সিদ্দিক

ইসলামে পোশাকের ব্যাপারেও বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ এ ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন— “হে আদম সন্তানগণ! আমি তোমাদের জন্য লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশভূষার জন্য পোশাক-পরিচ্ছদ দান করেছি। আর তাকওয়ার পোশাকই উত্তম; তা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।” (সূরা আরাফ- ২৬)।
ইসলামে পোশাক ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। প্রথম ও মূল নীতিমালা হলো গুপ্তাঙ্গ ঢেকে রাখা। এটিই পোশাকের মূল উদ্দেশ্য। পুরুষের জন্য নাভির নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং মহিলাদের জন্য গায়রে মাহরামের ক্ষেত্রে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখা ফরজ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে সূরা নূরের ৩০-৩১ আয়াতে বিস্তারিত বিবরণ আছে।
মেয়েদের সুন্নতি পোশাক হলো— ১. হাতের কবজি ও পায়ের পাতা পর্যন্ত ঢাকা ম্যাক্সি বা কামিজ, ২. ইজার বা সালোয়ার এবং ৩. বড় চাদর বা ওড়না। মুমিন নারীগণ ঘরের কাজে সাধারণত এই পোশাকেই থাকতেন। আর বাইরে বেরোলে এগুলোর উপরে বড় চাদর বা জিলবাব পরিধান করতেন। তবে এখন যেহেতু বোরকার মাধ্যমেই পুরো শরীর আবৃত করা যায় সেহেতু বোরখাও উত্তম; তবে বেশি আকর্ষণীয় ও পাতলা বোরখা পরিধান করা যাবে না। এটি শুধু মেয়েদের জন্যই নয় বরং এই নিয়ম নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।
এবার আমি পোশাকের অনুকরণ প্রসঙ্গে বলি। আমাদের মাঝে কিছু লোক অমুসলিমদের পোশাক পড়তে ভালোবাসে। কিন্তু কুরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী কাজটি ভালো নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- “যদি কেউ কোনো সম্প্রদায়ের অনুকরণ করে তবে সে উক্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।” (আবু দাউদ ৪/৪৪)। অতএব উক্ত হাদিস মোতাবেক শুধু পোশাক কেন অন্য কোনো ক্ষেত্রেও কোনো দিক দিয়েই বিধর্মীদের অনুসরণ-অনুকরণ করা যাবে না। এ ব্যাপারে কুরআন করিমেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এভাবে ছেলেরা কখনোই টাখনুর নিচে কাপড় রাখতে পারবে না বরং উপরে রাখতে হবে। এবং মেয়েদের রাখতে হবে টাখনুর নিচে। যদি কেউ এর উল্টো করে তবে তার প্রতি আল্লাহ রহমতের নজর দেবেন না। তেমনিভাবে কোনো প্রাণীর ছবি সম্বলিত পোশাকও পরিধান করা যাবে না, চাই সে ছেলে হোক অথবা মেয়ে হোক। আর ছেলেদের জন্য রেশমি কাপড় হারাম করা হয়েছে।
এখন নামাজ আদায়ের পোশাক সম্পর্কে বলব। নামাজ আদায় করার পোশাকসহ ঘুরে বেড়ানোর জন্যও যে সকল পোশাক ব্যবহার করা উচিত তা হলো রাসূল (সা.) এর স্টাইল ও রুচি। আমাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব তিনি যে সকল পোশাক-পরিচ্ছদ পরে নামাজ আদায় করেছেন সেগুলো নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর ইচ্ছাতে। কেননা আল্লাহ কুরআনে বলেছেন— “হে আদম সন্তানগণ! তোমরা প্রত্যেক মসজিদের নিকট সৌন্দর্য (পোশাক) গ্রহণ করো।”(সূরা আরাফ: ৩১)। এখানে আল্লাহ তাআলা পোশাকের ধরন বলেননি কিন্তু রাসূলে পাক (সা.) ও তাঁর সাহাবাগণ একই ধরনের পোশাকে নামাজ আদায় করেছেন, আর সেটা হলো জুব্বা বা কামিস। অতএব নিশ্চয়ই এতে আল্লাহ খুশি হয়েছিলেন বা পরতে বলেছিলেন বলেই তারা সবাই ওই একই পোশাক পরিধান করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই শার্ট-প্যান্টের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যদিও সেটা দ্বারা সতর ঢাকা হয়। তথাপি আমাদের আলেম সমাজ শার্ট-প্যান্টকে বিধর্মীদের কালচার মনে করেন। আর যারা এগুলো পরিধান করে তাদেরকে তারা আল্লাহভীরু বলে সাব্যস্ত করেন না। তবে অনেকেই এর বিপরীতও ভাবেন। তবে যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু সালামের সুন্নতকে অবজ্ঞা করেন, অবহেলা করেন তারা পথ ভ্রষ্ট। কেননা, আল্লাহ বলেছেন, “রাসূলের আনুগত্য মানেই আমার আনুগত্য।” অর্থাৎ সর্বোপরি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একান্ত প্রয়োজন রাসূলের সুন্নাতকে পুরোপুরি পালন করা এবং ফরজ ও ওয়াজিবগুলো তো বটেই। আর এজন্য সকল নিজস্ব মতামত, সমস্যা ও যুক্তির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। আল্লাহ পাক যেন আমাদের সঠিকভাবে ইসলাম পালনের তৌফিক দেন— আমীন।

 

 

তথ্যসূত্র:
১। খুৎবাতুল ইসলাম — ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর।
২। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহসজ্জা — ঐ।
৩। এহইয়াউস সুনান — ঐ।
আল-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঝিনাইদহ।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

ইসলামের দৃষ্টিতে পোশাক-পরিচ্ছদ জনি সিদ্দিক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
৫১০৮

 

ইসলামের দৃষ্টিতে পোশাক-পরিচ্ছদ
জনি সিদ্দিক

ইসলামে পোশাকের ব্যাপারেও বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ এ ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন— “হে আদম সন্তানগণ! আমি তোমাদের জন্য লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশভূষার জন্য পোশাক-পরিচ্ছদ দান করেছি। আর তাকওয়ার পোশাকই উত্তম; তা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।” (সূরা আরাফ- ২৬)।
ইসলামে পোশাক ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। প্রথম ও মূল নীতিমালা হলো গুপ্তাঙ্গ ঢেকে রাখা। এটিই পোশাকের মূল উদ্দেশ্য। পুরুষের জন্য নাভির নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং মহিলাদের জন্য গায়রে মাহরামের ক্ষেত্রে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখা ফরজ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে সূরা নূরের ৩০-৩১ আয়াতে বিস্তারিত বিবরণ আছে।
মেয়েদের সুন্নতি পোশাক হলো— ১. হাতের কবজি ও পায়ের পাতা পর্যন্ত ঢাকা ম্যাক্সি বা কামিজ, ২. ইজার বা সালোয়ার এবং ৩. বড় চাদর বা ওড়না। মুমিন নারীগণ ঘরের কাজে সাধারণত এই পোশাকেই থাকতেন। আর বাইরে বেরোলে এগুলোর উপরে বড় চাদর বা জিলবাব পরিধান করতেন। তবে এখন যেহেতু বোরকার মাধ্যমেই পুরো শরীর আবৃত করা যায় সেহেতু বোরখাও উত্তম; তবে বেশি আকর্ষণীয় ও পাতলা বোরখা পরিধান করা যাবে না। এটি শুধু মেয়েদের জন্যই নয় বরং এই নিয়ম নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।
এবার আমি পোশাকের অনুকরণ প্রসঙ্গে বলি। আমাদের মাঝে কিছু লোক অমুসলিমদের পোশাক পড়তে ভালোবাসে। কিন্তু কুরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী কাজটি ভালো নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- “যদি কেউ কোনো সম্প্রদায়ের অনুকরণ করে তবে সে উক্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।” (আবু দাউদ ৪/৪৪)। অতএব উক্ত হাদিস মোতাবেক শুধু পোশাক কেন অন্য কোনো ক্ষেত্রেও কোনো দিক দিয়েই বিধর্মীদের অনুসরণ-অনুকরণ করা যাবে না। এ ব্যাপারে কুরআন করিমেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এভাবে ছেলেরা কখনোই টাখনুর নিচে কাপড় রাখতে পারবে না বরং উপরে রাখতে হবে। এবং মেয়েদের রাখতে হবে টাখনুর নিচে। যদি কেউ এর উল্টো করে তবে তার প্রতি আল্লাহ রহমতের নজর দেবেন না। তেমনিভাবে কোনো প্রাণীর ছবি সম্বলিত পোশাকও পরিধান করা যাবে না, চাই সে ছেলে হোক অথবা মেয়ে হোক। আর ছেলেদের জন্য রেশমি কাপড় হারাম করা হয়েছে।
এখন নামাজ আদায়ের পোশাক সম্পর্কে বলব। নামাজ আদায় করার পোশাকসহ ঘুরে বেড়ানোর জন্যও যে সকল পোশাক ব্যবহার করা উচিত তা হলো রাসূল (সা.) এর স্টাইল ও রুচি। আমাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব তিনি যে সকল পোশাক-পরিচ্ছদ পরে নামাজ আদায় করেছেন সেগুলো নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর ইচ্ছাতে। কেননা আল্লাহ কুরআনে বলেছেন— “হে আদম সন্তানগণ! তোমরা প্রত্যেক মসজিদের নিকট সৌন্দর্য (পোশাক) গ্রহণ করো।”(সূরা আরাফ: ৩১)। এখানে আল্লাহ তাআলা পোশাকের ধরন বলেননি কিন্তু রাসূলে পাক (সা.) ও তাঁর সাহাবাগণ একই ধরনের পোশাকে নামাজ আদায় করেছেন, আর সেটা হলো জুব্বা বা কামিস। অতএব নিশ্চয়ই এতে আল্লাহ খুশি হয়েছিলেন বা পরতে বলেছিলেন বলেই তারা সবাই ওই একই পোশাক পরিধান করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই শার্ট-প্যান্টের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যদিও সেটা দ্বারা সতর ঢাকা হয়। তথাপি আমাদের আলেম সমাজ শার্ট-প্যান্টকে বিধর্মীদের কালচার মনে করেন। আর যারা এগুলো পরিধান করে তাদেরকে তারা আল্লাহভীরু বলে সাব্যস্ত করেন না। তবে অনেকেই এর বিপরীতও ভাবেন। তবে যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু সালামের সুন্নতকে অবজ্ঞা করেন, অবহেলা করেন তারা পথ ভ্রষ্ট। কেননা, আল্লাহ বলেছেন, “রাসূলের আনুগত্য মানেই আমার আনুগত্য।” অর্থাৎ সর্বোপরি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একান্ত প্রয়োজন রাসূলের সুন্নাতকে পুরোপুরি পালন করা এবং ফরজ ও ওয়াজিবগুলো তো বটেই। আর এজন্য সকল নিজস্ব মতামত, সমস্যা ও যুক্তির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। আল্লাহ পাক যেন আমাদের সঠিকভাবে ইসলাম পালনের তৌফিক দেন— আমীন।

 

 

তথ্যসূত্র:
১। খুৎবাতুল ইসলাম — ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর।
২। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহসজ্জা — ঐ।
৩। এহইয়াউস সুনান — ঐ।
আল-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঝিনাইদহ।