
শিরোনাম : আমি কি শুধু নারী
মনোয়ারা খাতুন রানু
আমি আজকাল আমার মধ্যে থাকি না
আমার ভেতর চলে নিরবিচ্ছিন্ন অশান্তির এক যুদ্ধ
বিষণ্ণতা আমার বুকের ভেতর খায়
আত্মার ভেতর হতাশার ঝড়
আমি কেবলই রক্ত মাংসের এক মানবী
অনুভূতির ঢেউ মৃত্যুরূপ করেছে।
আমাকে খুঁজে ফিরি দূর থেকে হৃদয়ের
পাথেয় কল্পনায়, পাই না খুঁজে আমার অস্তিত্ব।
আমি কে, কী আমার পরিচয় ভেবে নষ্টালিষ্ট
আমি কি শুধু একখণ্ড নারী
আমি কি মানুষ নই, নারীত্ব তো মানুষই
আমার কি ইচ্ছে থাকতে নেই
ঢাকা মেলে আকাঙ্ক্ষার উড়তে নেই
আমারই ইচ্ছে করে দু’হাত মেলে ঘুরে বেড়াতে।
কেন আমার স্বপ্নগুলো আটকে যাক
সমাজের বাঁধা শীতলতাতে
কেন আমার চোখের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়
অনুপুঙ্খ শৃঙ্খলের আঁধারে?
আমি তো শুধু ভালোবাসতে চাই
একটু স্বাধীনতার স্বাদ নিতে চাই,
যেন বাতাসের মতো ছুটে বেড়াই পৃথিবীর বুকে।
আমার হাসি কবে মাথা ঘুরে নিয়ন্ত্রণ দণ্ডিপালায়?
আমার কল্পনা কবে পোড়ায় দাপা মিথ্যে বলিদানের নিচে?
যদি আমি তোড়ে ভাসি উঁচু উঁচুতে,
তবে কাঁদতে বুক ভরে,
চাই লিখে যেতে ভোরের গল্প
যেখানে আমি শুধু নারী নই,
আমি পূর্ণ মানুষ।
আমার ভেতর আগুন আছে, আলো আছে
কেউ দেখুক বা না দেখুক—
আমি জানি, আমার ভেতর এক পৃথিবীর জন্ম নেয় প্রতিদিন।
আমার হাতেও শক্তি আছে,
আমার স্বপ্নেও শিশির আছে,
আমার ইচ্ছে আকাশ ছুঁতে পারে—
তাহলে কেন আমাকে থামিয়ে রাখা হবে?
আমি কি শুধু রান্নাঘরের ধোঁয়ায় হারিয়ে যাব?
আমি কি শুধু সমাজের বাঁধা কল্পনাতে থমকে থাকব?
না— আমি তো চাই অনেক দূর যেতে।
আমি তো চড়ুইয়ের মতো হয়ে উঠতে,
চাই জীবনের প্রতিটি বাঁকে নিয়ে নিজস্ব ছাপ,
যেন ভালোবাসা দিয়ে মেলবো অদেখা পৃথিবীর দ্বার।
নারীও তো মানুষ,
নারীও তো স্বপ্ন দেখে,
নারীও তো আকাশ ছুঁতে পারে।
তবু আজও আমার ভেতরের যুদ্ধ থামে না
আমার চোখটা কেন দুইটি ভেদে পড়ে—
একটিতে সমাজের শেকল
অন্যটিতে ভালোবাসা পাওয়ার মতো ভেজা চাওয়া মন।
আমি কি সত্যিই একদিন সত্যি নিজের ভেতরে খুঁজে পেতে?
আমার ভেতরের মানুষটিকে খুঁজে?
হয়তো একদিন পারব—
কারণ আমি কেবল নারী নই,
আমি পূর্ণ মানুষ।
আমার ভেতর এক সুন্দর স্বপ্ন লুকিয়ে আছে।
Reporter Name 
















