আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ৩১ পড়া হয়েছে
৪১

কবিতার নাম: “জোছনার জিজ্ঞাসা”
লেখক- মোঃ তানজিমুল ইসলাম

আজ চাঁদ এসে দাঁড়াল নীল গগনের দ্বারে,
রূপালি আলো ঢেলে দিল নীরব রাতের পারে।
মৃদু হেসে বলল আমায় স্নিগ্ধ অভিমানে,
“কোথায় তোর সেই মায়াবতী বাবুর আম্মু, যে থাকত তোর প্রাণে?

যাকে তুই আমার সাথে তুলেছিলি গর্বভরে,
বলেছিলি ‘চাঁদের চেয়েও সে সুন্দরী রে!’
আজ কেন তোর চোখে শুধু কষ্টেরই ছায়া?
কোথায় গেল সেই মুখ, সেই মমতার মায়া?”

আমি চেয়ে রই আকাশপানে, কথা আসে না মুখে,
স্মৃতিরা ঢেউ তোলে নীরব ব্যথার সুখে।
বললাম ধীরে “চাঁদ, তোরও তো কলঙ্ক আছে বুকে,
তার মুখ ছিল নির্মল, ভোরের শিশির-সুখে।

তুই আলো দিস, কিন্তু সে আলো ধার,
তার চোখের দীপ্তি ছিল নিজস্ব অপার।
তুই ক্ষয়ে গিয়ে আবার পূর্ণিমাতে আসিস,
সে একবার দূরে গিয়ে চিরতরে ভাসিস।

তার হাসি ছিল বসন্তের কুসুমের ঘ্রাণ,
তার কণ্ঠ ছিল নদীর কলতান গান।
সে রাগ করলে মেঘ জমত আকাশে,
আমি মান ভাঙাতাম ভালোবাসার ভাষে।

চাঁদ আবার জিজ্ঞেস করে স্নিগ্ধ স্বরে,
“এখনো কি সে-ই তোর হৃদয়ের ঘরে?”
আমি বলি “ভালোবাসা তো মরে না কখনো,
দূরে গেলেও থাকে সে মনের গহনে গোপন।

সে আজ অন্য কারও স্বপ্নের আলো,
অন্য কারও ঘরে সুখেরই ভালো।
তবু আমার প্রতিটি নিশ্বাসে তার নাম,
রাত জেগে বাজে সে অশ্রুর অবিরাম।

যখন গভীর রাতে নিস্তব্ধতা নামে,
তার স্মৃতি এসে বসে হৃদয়ের থামে।
জানালায় তুই তখন উঁকি দিয়ে হাসিস,
আমার বুকের গোপন ব্যথা দেখে ভাসিস।

যাকে তোর সাথে তুলেছিলাম অহংকারে,
সে ছিল আমার সিজদার দোয়ার ধারে।
তার ওড়নার ছোঁয়ায় ভোর হতো রঙিন,
তার একটুখানি হাসি করত জীবন রঙীন।

সে যদি কাঁদত, কাঁদত মন আমার,
সে যদি হাসত, ফুটত সুখের হার।
তার অভিমানে জমত মেঘের দল,
তার ছোঁয়ায় গলে যেত দুঃখের জল।

চাঁদ চুপ হয়ে থাকে কিছুক্ষণ থেমে,
তার আলো যেন ম্লান হয়ে যায় নিমেষে।
বলল শেষে “তুই সত্যিই ভালোবেসেছিস,
নিজেকে পুড়িয়ে তারেই রচেছিস।”

আমি বলি “হারাইনি, এ-ই তো জয়,
যে সত্যি ভালোবাসে, সে ক্ষয় পায় না কয়।
সে থাকুক সুখে, এ আমার প্রার্থনা,
তার সুখেই লুকানো আমার বাঁচা-গড়া।”

আজও যদি সে আকাশের দিকে চায়,
হয়তো তোকে দেখে মৃদু হাসি পায়।
কিন্তু জানিস চাঁদ, তোর সব জোছনা ক্ষণিক,
তার একফোঁটা হাসি ছিল চিরকালীন অনন্তিক।

তাই আর প্রশ্ন করিস না আমায় বারবার,
স্মৃতির ভাঁজেই রয়ে গেছে তার ভালোবাসার দ্বার।
তুই আকাশে থাক, তোর রূপে মহান,
মায়াবতী রয়ে গেছে হৃদয়ে অম্লান।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
৪১

কবিতার নাম: “জোছনার জিজ্ঞাসা”
লেখক- মোঃ তানজিমুল ইসলাম

আজ চাঁদ এসে দাঁড়াল নীল গগনের দ্বারে,
রূপালি আলো ঢেলে দিল নীরব রাতের পারে।
মৃদু হেসে বলল আমায় স্নিগ্ধ অভিমানে,
“কোথায় তোর সেই মায়াবতী বাবুর আম্মু, যে থাকত তোর প্রাণে?

যাকে তুই আমার সাথে তুলেছিলি গর্বভরে,
বলেছিলি ‘চাঁদের চেয়েও সে সুন্দরী রে!’
আজ কেন তোর চোখে শুধু কষ্টেরই ছায়া?
কোথায় গেল সেই মুখ, সেই মমতার মায়া?”

আমি চেয়ে রই আকাশপানে, কথা আসে না মুখে,
স্মৃতিরা ঢেউ তোলে নীরব ব্যথার সুখে।
বললাম ধীরে “চাঁদ, তোরও তো কলঙ্ক আছে বুকে,
তার মুখ ছিল নির্মল, ভোরের শিশির-সুখে।

তুই আলো দিস, কিন্তু সে আলো ধার,
তার চোখের দীপ্তি ছিল নিজস্ব অপার।
তুই ক্ষয়ে গিয়ে আবার পূর্ণিমাতে আসিস,
সে একবার দূরে গিয়ে চিরতরে ভাসিস।

তার হাসি ছিল বসন্তের কুসুমের ঘ্রাণ,
তার কণ্ঠ ছিল নদীর কলতান গান।
সে রাগ করলে মেঘ জমত আকাশে,
আমি মান ভাঙাতাম ভালোবাসার ভাষে।

চাঁদ আবার জিজ্ঞেস করে স্নিগ্ধ স্বরে,
“এখনো কি সে-ই তোর হৃদয়ের ঘরে?”
আমি বলি “ভালোবাসা তো মরে না কখনো,
দূরে গেলেও থাকে সে মনের গহনে গোপন।

সে আজ অন্য কারও স্বপ্নের আলো,
অন্য কারও ঘরে সুখেরই ভালো।
তবু আমার প্রতিটি নিশ্বাসে তার নাম,
রাত জেগে বাজে সে অশ্রুর অবিরাম।

যখন গভীর রাতে নিস্তব্ধতা নামে,
তার স্মৃতি এসে বসে হৃদয়ের থামে।
জানালায় তুই তখন উঁকি দিয়ে হাসিস,
আমার বুকের গোপন ব্যথা দেখে ভাসিস।

যাকে তোর সাথে তুলেছিলাম অহংকারে,
সে ছিল আমার সিজদার দোয়ার ধারে।
তার ওড়নার ছোঁয়ায় ভোর হতো রঙিন,
তার একটুখানি হাসি করত জীবন রঙীন।

সে যদি কাঁদত, কাঁদত মন আমার,
সে যদি হাসত, ফুটত সুখের হার।
তার অভিমানে জমত মেঘের দল,
তার ছোঁয়ায় গলে যেত দুঃখের জল।

চাঁদ চুপ হয়ে থাকে কিছুক্ষণ থেমে,
তার আলো যেন ম্লান হয়ে যায় নিমেষে।
বলল শেষে “তুই সত্যিই ভালোবেসেছিস,
নিজেকে পুড়িয়ে তারেই রচেছিস।”

আমি বলি “হারাইনি, এ-ই তো জয়,
যে সত্যি ভালোবাসে, সে ক্ষয় পায় না কয়।
সে থাকুক সুখে, এ আমার প্রার্থনা,
তার সুখেই লুকানো আমার বাঁচা-গড়া।”

আজও যদি সে আকাশের দিকে চায়,
হয়তো তোকে দেখে মৃদু হাসি পায়।
কিন্তু জানিস চাঁদ, তোর সব জোছনা ক্ষণিক,
তার একফোঁটা হাসি ছিল চিরকালীন অনন্তিক।

তাই আর প্রশ্ন করিস না আমায় বারবার,
স্মৃতির ভাঁজেই রয়ে গেছে তার ভালোবাসার দ্বার।
তুই আকাশে থাক, তোর রূপে মহান,
মায়াবতী রয়ে গেছে হৃদয়ে অম্লান।