
মলিন পাতার স্মৃতি
— আবু ছাহাদ
ছোট্ট সেই ডাইরি খুলে
জাগে হৃদয় ঝড়ের দুলে—
আকাশছোঁয়া স্বপ্নগুলো
আজ কেন রে হলো ভুলে?
রঙিন পাতায় লেখা যত
হাসির গানের সুরে গাঁথা,
কোথায় তারা—মানুষগুলো
ফিরে না আর পথের সাথে।
সময় এলো দুঃখ ভরে
রঙিন দিন সব গেলো ঝরে,
ভাঙা কাগজ, নষ্ট বাঁধন—
তবু জাগে স্মৃতির বরষা-ঝরে।
পাতা উলটে উঠে আসে
দিনের সোনার আলো ভাসে,
সেই সব কথা—জীবন-গাথা
আজও বাজে বুকে শ্বাসে।
মলিন ডাইরি বুকের কোণে
ধরি যতনে গোপন ক্ষণে—
মনে শুনি কাঁদে সে হাওয়ায়
“ভুলো না আমায়, লিখো স্বপনে।
“ঝড়ের মাঝে বাঁচো”
আবু ছাহাদ
উঠো, ঘুম থেকে মানুষ!
হৃদয় ঝাঁপিয়ে পড়ো আলোতে,
ধুলো ঝেড়ে দাও নিরাশার সোনালী চাদরে।
পা মেলাও, চল তোমার পথিক হোক সাহসী,ঝড়-বৃষ্টি, অন্ধকার ভেদ করো অটল মন আর বিশ্বাসের তরে।
রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে
জীবনের শিখা জ্বলে অন্তরে,
প্রাণের তাড়নায় ভাঙো সব দেয়াল,ছুঁয়ে দেখো মুক্তির গান,গাও তোমার নিজের সুরে।
ভুল হবে, হারবে—এটাই জীবন!
তবু দমে যেও না, চলো অটল প্রাণে।
সাহস বুকে নিয়ে ছুটো স্বপ্নের স্রোতে,
ঝড়-বৃষ্টি কেটে যাবে—জ্বলে উঠবে মুক্তির আলোতে!
হাত বাড়াও অন্যের জন্য,
ভালোবাসার শিখায় প্রাণ গড়ো,
ভাঙো শীতলতার শৃঙ্খল,জীবন হবে রক্তমাখা আলোর গানে।
চিৎকার করো, দাও পৃথিবীকে জান,তুমি স্বাধীন, তুমি সাহসী, তুমি আলোয় পূর্ণমান।জীবনের জয়গান হবে রক্তমাখা,চিরন্তন সুরে, তুমি, মানুষ, বাঁচো, ঝড়ের মাঝে।
বাংলার মায়া
আবু ছাহাদ
শিশির ভেজা ধানের গন্ধ ভোরের হাওয়ায় ভাসে,সবুজ মাঠে রোদের হাসি সোনালি ছোঁয়া আঁকে।পুকুর ঘেঁষে তাল-নারকেল, বাঁশবনের ছায়া,গ্রামের পথে মাটির গন্ধ—এ যেন এক মায়া!
নদীর বুকে নৌকা চলে ঢেউয়ের তালে তালে,জেলেদের গান মিশে থাকে সন্ধ্যা-রাঙা জলে।কাদামাখা পায়ে কৃষক হাসে রোদে-জলে ভিজে,মাটির টানে জীবন গড়ে স্বপ্নগুলো জ্বালি।
বর্ষা এলে মেঘের দলে আকাশ ভরে যায়,মেঠোপথে কাদার গন্ধ প্রাণে গান বাজায়।শাপলা ফোটে বিলের বুকে সাদা-লাল রঙে,বাংলা হাসে প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ অঙ্গনে।
শরৎ আনে কাশফুলের ঢেউ শুভ্র হাসি,নীল আকাশে সাদা মেঘ—শান্ত ভালোবাসি।হেমন্তে আসে ধান ভরা মাঠ, পাখির ডাক,বাংলার বুকে প্রকৃতি লেখে জীবনের পাকে।
এই মাটি, এই জল, এই সবুজের গভীর টান,বাংলার প্রকৃতিতেই জেগে ওঠে আমার প্রাণ।ধূলিকণায় শেকড় আমার, আকাশে স্বপ্ন ডানা,এই বাংলার রূপেই লেখা জীবনের সব মানা।
“আমি বিদ্রোহ, আমি মানুষ”
আবু ছাহাদ
আমি এসেছি শূন্য ভেঙে, শঙ্খ ফুঁকে জন্ম দিনে,অন্ধকারের বুকে জ্বালালাম দীপ—অদম্য আগুন-সানে।মায়ের চোখে স্বপ্ন দেখেছি, বাবার ঘামে ভবিষ্যৎ,আমার কপালে লিখে দিলো সময়—“লড়াইই তোর সত্য পথ!”
শৈশব ছিলো নদীর মতো—হাসি ঢেউ, কান্না জল,মাটির গন্ধে শিখেছি আমি প্রথম জীবনের ছল।কাগজের নৌকা ভেসে গেছে, তবু স্বপ্ন ভাসেনি,ঝড় এলেও বুকের ভেতর আলো নিভে যায়নি।
যৌবন এলো বজ্র কণ্ঠে, রক্তে বাজে বিদ্রোহ,ভাঙি নিয়ম, প্রশ্ন করি—এই তো আমার সত্য !চোখে আগুন, কণ্ঠে গান, পায়ে পায়ে যুদ্ধ,ভুলের পথে হেঁটেই শিখি—সত্য কতটা শুদ্ধ।
স্বপ্ন কিছু ভাঙল মাঝপথে, কিছু দাঁড়াল জেগে,কিছু মানুষ থাকল পাশে, কিছু হারাল বেগে।তবু আমি থামিনি ভাই, বুকের ভেতর ঢোল,নজরুল-ছন্দে বলি আজ—আমি নই তো দুর্বল।
সময়ের ভারে আগুন কমে, দীপ জ্বলে নীরবে,অভিজ্ঞতার ছায়ায় বুঝি—জয় মানে ধৈর্যে।আনন্দ আসে অল্প হেসে, দুঃখ আসে ভারী,দুটোকেই বুকের মাঝে রাখি—আমার জীবন-সারী।
শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে দেখি রক্তমাখা পথের ধূল,ঘাম-আগুন-স্বপ্নে গড়া আমার জীবনের ফুল।ভাঙিনি আমি ঝড়ের ভয়ে, নত হইনি কারো তরে,শিকল ছিঁড়ে হাঁটতে শিখেছি—অভিশাপের ঘরে।
মৃত্যু এলে চোখে চোখ রেখে বলবো বজ্রস্বরে—“আমি হারিনি সময়ের কাছে—জিতেছি আমি লড়ে!ভেঙেছি আমি ভয় আর শাসন, মিথ্যার কালো ঘোর,আমি বিদ্রোহ, আমি মানুষ—আমার জয় অনিবার্য শপথে!”
শৈশব আমার প্রথম ঋণ
আবু ছাহাদ
শৈশব আমার দুরন্ত আগুন,
নগ্ন পায়ে দৌড়—নিয়মে না বাঁধুন!
ধূলির রাজ্যে মুকুট মাথায়,
রাজা ছিলাম রৌদ্র-ছায়ায়।
মায়ের আঁচল নীল আকাশ,
তারার মতো জ্বলত বিশ্বাস।
পাখির ডাকে ঘুম ভাঙত ভোর,
চোখের ফাঁকেই উঠত রোদ্দুর।
ভয় কি জানতাম? না রে না!
বুকের ভেতর আগুন জ্বলা,
কাঁটা পথে ফুল ফুটাতাম,
মরতে নয়—বাঁচতে শিখতাম।
ভাঙা বাঁশি হাতে তুলে,
যুদ্ধ ডাকত সুরের ঝুলে।
কাগজ নৌকা খালে ভাসাই,
স্বপ্ন পাড়ি সাগর ছোঁয়াই।
এক পয়সায় হাজার আশা,
মুখে মুখে বিদ্রোহ-ভাষা,
হাসি এলে বজ্র ফাটে,
কান্না এলে মেঘে কাটে।
বন্ধু ছিল রোদ আর ছায়া,
ঝগড়া-হাসি একসাথে মায়ায়,
আজকের দুঃখ কাল ভুলতাম,
নতুন ভোরের গান তুলতাম।
বিদ্যালয়ের ভাঙা বেঞ্চে,
স্বপ্ন বসত চোখের মঞ্চে,
খাতার পাতায় আগুন লেখা,
ভবিষ্যৎকে চোখে দেখা।
শাসন, শিকল, নিয়ম-কানুন—
শৈশব মানত না কোনো আইন,
বুকের ভেতর স্বাধীনতা,
প্রাণের নামেই ধর্ম-কথা।
ধুলো মাখা সেই দিনের গান,
আজও বাজে প্রাণের প্রাণ,
যতই জীবন হোক কঠিন,
শৈশব আমার প্রথম ঋণ।
“মুক্তির পথে মৃত্যুই সম্মান”
আবু ছাহাদ
আমি আগুন-রক্তে লেখা বাংলার সন্তান,আমার বুকে জাগে বিদ্রোহেরই গান,শেকল ভাঙার শপথে বাঁধা এই প্রাণ,দাসত্ব মানি না—আমি মুক্তির তুফান।
আমার কণ্ঠে ধ্বনিত নিপীড়িতের জান,ক্ষুধার্ত মুখে জন্ম নেয় আগুনের ভাষান,মজুরের ঘামে গড়ে ওঠে ইতিহাসের জান,এই আগুনেই পুড়বে শোষকের প্রাণ।
ওই শোসক, শোন—ফুরিয়ে গেছে তোদের স্থান,জনতার পায়ে কাঁপে সিংহাসন,একজন নয় আজ, জেগেছে সহস্র প্রাণ,এই বাংলাই আজ বিদ্রোহ সংগ্রাম।
আমি মাথা নত করি না ভয়ের বিধান,আমি দাঁড়িয়ে মরি স্বাধীনতার টান,মৃত্যু এলে হাসি মুখে করি আলিঙ্গন,কারণ মুক্তির পথে মৃত্যুই সম্মান।
এসো তরুণ, ধর বজ্রে নিশান,
ভাঙো নীরবতা, জ্বালো প্রতিবাদ-আগুন,আজ যদি না জ্বলে বিদ্রোহের দহন,কাল ইতিহাস দেবে আমাদের অপমান।
আমি বিদ্রোহী, আমি স্বাধীনতার প্রাণ,আমার কণ্ঠে ভাঙে অন্যায়ের যত শিকড়-প্রাচীর-দান।শেষ নিঃশ্বাসে উঠুক গর্জন—একটাই আর্তনাদ,মুক্ত হোক মানুষ ,জাগুক স্বাধীনতার প্রাণ !
আবু রিসাত, সম্পাদক ও প্রকাশক - দৈনিক স্বপ্ন ২৪.কম, সভাপতি - বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদ। 
















