আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবাসীদের নিয়ে কবিতাটি লিখেছেন আবু রিসাত

৩২৬

প্রবাসী
আবু রিসাত

দেশের ছেলে থাকে ভিন দেশে,
ছেড়ে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,
করে যে উপার্জন।

ঝড়, বৃষ্টি, রোদ, ঠান্ডা উপেক্ষা করে করতে হয় কাজ —
এরই নাম দিয়েছি আমরা “দূর প্রবাস”।
খেয়ে না খেয়ে বাড়িতে পাঠাতে হয় টাকা,
অনেকেই ডাকে তাঁদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’।

সারা বছর থাকতে হয়
বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান ছাড়া।
আরো তো আছেই —
বন্ধু-বান্ধবসহ নানান আত্মীয়-স্বজনরা।

একটি পলক দেখার লাগি
পাগলপারা থাকে মন সর্বদা।
ইচ্ছা থাকলেও হয় না উপায়,
যায় না দেশে ফেরা।

আবার তাঁদের মাঝে কেউ গেলে মারা,
হয় না যে শেষ দেখা।
বিদেশের মাটিতেই গুমরে মরতে হয়,
নিয়ে এক বুক বেদনা।

আবার কতো চন্দ্র-দিবস চলে যায়,
হয় না বাড়িতে সবাইকে নিয়ে ঈদ করা।
এমনই সব সুখ, শখ, আহ্লাদ ত্যাগ করে,
মেটাতে হয় সকলের চাহিদা।

এটাই প্রবাস জীবন,
যেখানে মিলে বাস্তব শিক্ষা।

কত প্রবাসীর বউ মনে করে
স্বামীর টাকাতে হক একান্তই শুধু তার।
স্বামীর টাকা নষ্ট করে,
মেটায় শখের নেশা।
স্বামীর টাকা পরকে দিবে,
তবুও দিতে দিবে না স্বামীর পরিবার মা-বাবাকে,
স্বামী সুখে থাক দুঃখে থাক,
শুধু টাকা পাঠাক বারো মাস তার নামে‌।

আবার কত প্রবাসীর বউ করে পরকীয়া,
এটা এখন সমাজের মরণব্যাধি,
এভাবেই চলছে তাদের জীবন,
হাঁসিয়া- কাঁদিয়া।

আবার কতোক
প্রবাসী বেচারার সন্তানরাও যায় না কিছুতে কম।
বাবার টাকায় ফুটানি করে,
বলতেই হবে বাহাদুরিতে আছে অনেক দম।

চাইলেই টাকা পাবে অনায়াসে,
নেই তো কোন ঘাত প্রতিঘাত।
বাবা বুঝি দূর প্রবাসে,
লাগিয়েছে টাকার গাছ।

এক ঝাঁকাতেই পকেট ভরে,
এভাবেই চলে বারো মাস।
সুখে থাকি আর দুখে থাকি ,
এভাবেই চলে দিন গড়িয়ে সপ্তাহ,
মাসের পর মাস‌।
এটাই তাদের প্রবাস জীবন,
বাড়িতে টাকা পাঠানোই তাদের কাজ।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

প্রবাসীদের নিয়ে কবিতাটি লিখেছেন আবু রিসাত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:২১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
৩২৬

প্রবাসী
আবু রিসাত

দেশের ছেলে থাকে ভিন দেশে,
ছেড়ে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,
করে যে উপার্জন।

ঝড়, বৃষ্টি, রোদ, ঠান্ডা উপেক্ষা করে করতে হয় কাজ —
এরই নাম দিয়েছি আমরা “দূর প্রবাস”।
খেয়ে না খেয়ে বাড়িতে পাঠাতে হয় টাকা,
অনেকেই ডাকে তাঁদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’।

সারা বছর থাকতে হয়
বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান ছাড়া।
আরো তো আছেই —
বন্ধু-বান্ধবসহ নানান আত্মীয়-স্বজনরা।

একটি পলক দেখার লাগি
পাগলপারা থাকে মন সর্বদা।
ইচ্ছা থাকলেও হয় না উপায়,
যায় না দেশে ফেরা।

আবার তাঁদের মাঝে কেউ গেলে মারা,
হয় না যে শেষ দেখা।
বিদেশের মাটিতেই গুমরে মরতে হয়,
নিয়ে এক বুক বেদনা।

আবার কতো চন্দ্র-দিবস চলে যায়,
হয় না বাড়িতে সবাইকে নিয়ে ঈদ করা।
এমনই সব সুখ, শখ, আহ্লাদ ত্যাগ করে,
মেটাতে হয় সকলের চাহিদা।

এটাই প্রবাস জীবন,
যেখানে মিলে বাস্তব শিক্ষা।

কত প্রবাসীর বউ মনে করে
স্বামীর টাকাতে হক একান্তই শুধু তার।
স্বামীর টাকা নষ্ট করে,
মেটায় শখের নেশা।
স্বামীর টাকা পরকে দিবে,
তবুও দিতে দিবে না স্বামীর পরিবার মা-বাবাকে,
স্বামী সুখে থাক দুঃখে থাক,
শুধু টাকা পাঠাক বারো মাস তার নামে‌।

আবার কত প্রবাসীর বউ করে পরকীয়া,
এটা এখন সমাজের মরণব্যাধি,
এভাবেই চলছে তাদের জীবন,
হাঁসিয়া- কাঁদিয়া।

আবার কতোক
প্রবাসী বেচারার সন্তানরাও যায় না কিছুতে কম।
বাবার টাকায় ফুটানি করে,
বলতেই হবে বাহাদুরিতে আছে অনেক দম।

চাইলেই টাকা পাবে অনায়াসে,
নেই তো কোন ঘাত প্রতিঘাত।
বাবা বুঝি দূর প্রবাসে,
লাগিয়েছে টাকার গাছ।

এক ঝাঁকাতেই পকেট ভরে,
এভাবেই চলে বারো মাস।
সুখে থাকি আর দুখে থাকি ,
এভাবেই চলে দিন গড়িয়ে সপ্তাহ,
মাসের পর মাস‌।
এটাই তাদের প্রবাস জীবন,
বাড়িতে টাকা পাঠানোই তাদের কাজ।