আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামগঞ্জে মা–মেয়ের নৃশংস হ/ত্যা : শোকের ছায়ায় সোনাপুর বাজার এলাকা ডেক্স রিপোর্ট – সারমিন আখি সম্পাদিকা ও প্রকাশক, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদ

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৪৪:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৬৮৩ পড়া হয়েছে
৩০৫

লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ও ইছাপুর ইউনিয়নের সীমানা ঘেঁষা খামারবাড়ী সংলগ্ন সোনাপুর বাজার এলাকায় ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক নৃশংস হ/ত্যা/কাণ্ড। স্থানীয় খ্যাতনামা ব্যবসায়ী “মিজান ক্রোকারিজ”-এর মালিক মিজানুর রহমানের স্ত্রী জুলেখা বেগম (৫৫) ও কলেজপড়ুয়া কন্যা তানহা আক্তার মীম (২০)-কে নিজ গৃহে জ/বা/ই করে হ/ত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনাস্থল থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামালসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ লুট করে নেয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত জুলেখা বেগম ছিলেন গৃহিণী, আর তানহা আক্তার মীম রামগঞ্জ মডেল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কোনো এক সময়ে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে বলে জানান নিহতের পুত্র ফরহাদ হোসেন রাব্বী।

রাব্বী জানান,
“প্রতিদিনের মতো আমি বাবার সঙ্গে দোকানে ছিলাম। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি ফিরে দেখি গেট খোলা, ঘরের সবকিছু এলোমেলো। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে উপরে যেতেই দেখি মা ও বোন র/ক্তা/ক্ত অবস্থায় নিথর পড়ে আছেন। আমার চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে, কিন্তু তখন সব শেষ।”

নিহতের বড় মেয়ে রুমি সুলতানার স্বামী ও রামগঞ্জ বাজারের ‘খাদেম ফ্যাশন’-এর মালিক গোলাম মর্তুজা মামুন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,

“আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। রাব্বীর বিয়ের জন্য সম্প্রতি প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ কেনা হয়েছিল। সম্ভবত সেই স্বর্ণালঙ্কারের লোভেই এই নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত।”

 

খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল বারী বলেন,

“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত ডা/কাতির ঘটনা। তবে অন্যান্য দিকও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।”

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান,

“মা–মেয়ের ম/রদেহ উদ্ধার করে ময়/নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের ম/র্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ডা/কাতি নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত তা যাচাই করা হচ্ছে। অতি দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

 

 বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ তানজিমুল ইসলাম এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতি গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক শোকবার্তায় বলেন,

“এ ধরনের নির্মম ঘটনা আমাদের সমাজ ও মানবতার জন্য এক গভীর আঘাত। একজন মা ও মেয়েকে এভাবে নৃশংসভাবে হ/ত্যা করা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি গোটা জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। আমরা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।”

 

এই নৃশংস ঘটনায় সোনাপুর বাজারসহ আশপাশের গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া।
মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন,

“মানুষ কতটা পাষাণ হলে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে?”

পুরো এলাকা এখন এক নিঃশব্দ আর্তনাদে ভরে গেছে,
একটি পরিবারের হাসি, ভালোবাসা ও স্বপ্ন এক রাতেই ডুবে গেল রক্তে ও অন্ধকারে।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

রামগঞ্জে মা–মেয়ের নৃশংস হ/ত্যা : শোকের ছায়ায় সোনাপুর বাজার এলাকা ডেক্স রিপোর্ট – সারমিন আখি সম্পাদিকা ও প্রকাশক, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদ

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৪৪:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
৩০৫

লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ও ইছাপুর ইউনিয়নের সীমানা ঘেঁষা খামারবাড়ী সংলগ্ন সোনাপুর বাজার এলাকায় ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক নৃশংস হ/ত্যা/কাণ্ড। স্থানীয় খ্যাতনামা ব্যবসায়ী “মিজান ক্রোকারিজ”-এর মালিক মিজানুর রহমানের স্ত্রী জুলেখা বেগম (৫৫) ও কলেজপড়ুয়া কন্যা তানহা আক্তার মীম (২০)-কে নিজ গৃহে জ/বা/ই করে হ/ত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনাস্থল থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামালসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ লুট করে নেয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত জুলেখা বেগম ছিলেন গৃহিণী, আর তানহা আক্তার মীম রামগঞ্জ মডেল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কোনো এক সময়ে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে বলে জানান নিহতের পুত্র ফরহাদ হোসেন রাব্বী।

রাব্বী জানান,
“প্রতিদিনের মতো আমি বাবার সঙ্গে দোকানে ছিলাম। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি ফিরে দেখি গেট খোলা, ঘরের সবকিছু এলোমেলো। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে উপরে যেতেই দেখি মা ও বোন র/ক্তা/ক্ত অবস্থায় নিথর পড়ে আছেন। আমার চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে, কিন্তু তখন সব শেষ।”

নিহতের বড় মেয়ে রুমি সুলতানার স্বামী ও রামগঞ্জ বাজারের ‘খাদেম ফ্যাশন’-এর মালিক গোলাম মর্তুজা মামুন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,

“আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। রাব্বীর বিয়ের জন্য সম্প্রতি প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ কেনা হয়েছিল। সম্ভবত সেই স্বর্ণালঙ্কারের লোভেই এই নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত।”

 

খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল বারী বলেন,

“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত ডা/কাতির ঘটনা। তবে অন্যান্য দিকও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।”

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান,

“মা–মেয়ের ম/রদেহ উদ্ধার করে ময়/নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের ম/র্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ডা/কাতি নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত তা যাচাই করা হচ্ছে। অতি দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

 

 বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ তানজিমুল ইসলাম এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতি গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক শোকবার্তায় বলেন,

“এ ধরনের নির্মম ঘটনা আমাদের সমাজ ও মানবতার জন্য এক গভীর আঘাত। একজন মা ও মেয়েকে এভাবে নৃশংসভাবে হ/ত্যা করা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি গোটা জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। আমরা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।”

 

এই নৃশংস ঘটনায় সোনাপুর বাজারসহ আশপাশের গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া।
মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন,

“মানুষ কতটা পাষাণ হলে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে?”

পুরো এলাকা এখন এক নিঃশব্দ আর্তনাদে ভরে গেছে,
একটি পরিবারের হাসি, ভালোবাসা ও স্বপ্ন এক রাতেই ডুবে গেল রক্তে ও অন্ধকারে।