
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইসলামী জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, গ্রন্থ সংরক্ষণ, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে আল উলফাত ইসলামী গবেষণা গ্রন্থাগার, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। অরাজনৈতিক, অলাভজনক, সমাজসেবামূলক ও দ্বীনি দাওয়াহভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠান ইসলামী আদর্শ, জ্ঞানচর্চা এবং মানবিক মূল্যবোধের আলোকে একটি নৈতিক ও আদর্শ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রতিষ্ঠানটির আদর্শ আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত এবং এর মূল স্লোগান— “শিক্ষা, মানবিকতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার আলোকধারা।” এই আদর্শকে ধারণ করে গবেষণা, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজসেবাকে একই ধারায় এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা, আমীর ও মহাপরিচালক মুহাম্মদ আবু রিসাত। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের গবেষণা বিভাগ, গ্রন্থাগার বিভাগ, সাহিত্য বিভাগ, সাংস্কৃতিক বিভাগ এবং সমাজসেবা বিভাগ নিজ নিজ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
গবেষণা বিভাগের মাধ্যমে কুরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকহ, আকিদা, ইসলামের ইতিহাস, সমসাময়িক বিষয়, ইসলামী সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণামূলক কাজ, প্রশ্নোত্তর, গবেষণাপত্র, প্রবন্ধ রচনা, অনুবাদ, সম্পাদনা ও তথ্যসংকলনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
গ্রন্থাগার বিভাগে ইসলামী ও সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক মুদ্রিত ও ডিজিটাল গ্রন্থ, গবেষণাপত্র, পাণ্ডুলিপি, সাময়িকী, জার্নাল এবং দুর্লভ ঐতিহাসিক গ্রন্থ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গবেষক ও সদস্যদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা মূল্যবান গ্রন্থ সংরক্ষণেরও সুযোগ রয়েছে।
সাহিত্য বিভাগের মাধ্যমে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, গবেষণা, জীবনী, স্মৃতিচারণ, অনুবাদ এবং অন্যান্য সৃজনশীল সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করা হয়। অন্যদিকে সাংস্কৃতিক বিভাগ ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক হামদ, নাত, আলোচনা সভা, সেমিনার, শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা এবং শরিয়তসম্মত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সমাজসেবা বিভাগের আওতায় শিক্ষা সহায়তা, বই বিতরণ, রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, মেডিকেল ক্যাম্প, ত্রাণ বিতরণ, অসহায় মানুষের সহযোগিতা, দ্বীনি দাওয়াহ এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ইসলামী জ্ঞানচর্চার প্রসার, গবেষণাভিত্তিক দ্বীনি সেবা প্রদান, ইসলামী ও সাধারণ গ্রন্থ সংরক্ষণ, লেখক-গবেষক-আলেমদের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি, ইসলামী সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ, মানবসেবা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডার গড়ে তোলা।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশের আলেম, গবেষক, লেখক, শিক্ষার্থী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী এবং সমাজসেবীদের এই জ্ঞান ও মানবকল্যাণমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্ঞান, গবেষণা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বিত চর্চাই একটি আলোকিত ও আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Reporter Name 





















