আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“অভিশপ্ত সভ্যতার গোরস্থান” কবিতাটি লিখছেন নাসরিন সুলতানা রহমান

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • ৮১ পড়া হয়েছে
৯৯

অভিশপ্ত সভ্যতার গোরস্থান
কলমে : নাসরিন সুলতানা রহমান

রামিসা তো ছিল এক শিশিরস্নাত কুসুম, নিশিপ্রহরের নির্মল দীপ্তি,
খাতার পাতায় আঁকত স্বপ্নলোক, অকলুষ ভবিষ্যতের নীরব প্রীতি।
কন্যাসন্তান জন্ম দিয়ে পিতা পেয়েছিল জীবনের অনির্বচনীয় ঋণ,
পুতুলরাজ্যে হারিয়ে যেত তার আঁধার, প্রভাত, গোধূলিতে সমগ্র দিন।

ওড়নার ভার নেওয়ারও হয়নি বয়স, জাগেনি কৈশোরের জ্যোৎস্না,
অথচ নরাধম সভ্যতার বিষদাঁতে বেঁধেছে নিষ্পাপ অস্তিত্বের বাসনা।
রাজপথের কুটিল দৃষ্টি চেনেনি সে, জানেনি লালসার অন্ধকার,
তবু কেন নিষ্পাপ পুষ্পের বুকে তোদের এত হিংস্র অগ্নিঝড়?

নিজ গৃহের পার্শ্ববর্তী দেয়াল—নিরাপত্তার দুর্ভেদ্য আবরণ,
সেখানেই মাদকাভিশপ্ত এক দানব জাগালো মৃত্যুর গোপন স্পন্দন।
পঁচিশ-ত্রিশ বছরের এক মানবাকৃতির বিভীষিকা,
নিষ্পাপ শিশুর বুকে নামালো পৈশাচিক বর্বরতার অশুভ মহাভারতিকা।

কীভাবে পারে মানুষরূপী কোনো অতল অমানব,
শিশুর আর্তনাদকে বানাতে নৃশংসতার উৎসব?
যে হাতে থাকার কথা ছিল আশ্রয়ের কোমল পরশধ্বনি,
সে হাতই রক্তমাখা অন্ধকারে লিখলো পিশাচ সভ্যতার কাহিনি।

রামিসার ছোট্ট মুখে ছিল প্রভাতের রৌদ্রকরুণ হাসি,
আজ সেখানে নীরব সমাধি, জমাটবাঁধা সময়ের উদাসী।
সভ্যতার মুখোশধারীরা আজ স্তব্ধ তার কান্নার অভিঘাতে,
মানবতার আকাশজুড়ে অভিশাপ ঝরে রক্তাক্ত প্রার্থনাপাতে।

মায়ের বুকে দাবানল জ্বলে, পিতার চোখে শূন্য মহাকাল,
বিচারের প্রতিশ্রুতি আজ কেবল কাগুজে শোকের জঞ্জাল।
ফুলেরা ঝরে পড়ে বিচারহীনতার কৃষ্ণগহ্বরে প্রতিনিয়ত,
আর ধর্ষকেরা বুক চিতিয়ে হাঁটে—লজ্জাকে করে উপহাস অবিরত।

আইনের প্রাচীরে মাথা ঠুকে ক্লান্ত অসংখ্য আর্ত প্রাণ,
ফাইলবন্দী দীর্ঘশ্বাসে চাপা পড়ে যায় শত সহস্র বেদনার গান।
দু’দিন সংবাদপত্রে জ্বলে ওঠে শোকের শিরোনাম,
তারপর আবার নির্বিকার নগর—অন্ধ, বধির, অবচেতন অবিরাম।

প্রতিটি দেয়াল সাক্ষ্য দেবে এই পচে যাওয়া সমাজের ভাষ্য,
যেখানে শিশুরাও আজ ভোগবাদী লালসার নির্মম উপবাস্য।
আমি তো এসেছিলাম পবিত্র সুবাস হয়ে জান্নাতি বাগানের এথায়,
তুই ধর্ষক! পাপের আগ্নেয়গিরি বুকে নিয়ে পালাবি কোথায়?

রামিসা আজ নক্ষত্র হয়ে জ্বলে মহাশূন্যের নীল গহ্বরে,
মানব আইনে নয়—তার রক্তাক্ত আবেদন জমা স্রষ্টার দরবারে।
“কেন পাঠালে আমায় এমন নিষ্ঠুর অন্ধকার নীড়ে?
আড়ি আজ তোমার সাথেও—এই নিষ্ঠুর পৃথিবীকে ঘিরে।”

কলমসমাজ লিখে রাখে আগুনদগ্ধ এই শোকসংগীত,
যেন যুগান্তরের পর যুগ পেরিয়েও না হারায় এই আর্তচিত্ত।
আমরা কবে মানুষ হবো প্রতিবাদের বজ্র উচ্চারণে?
কবে বিবেক জাগবে ধ্বংসস্তূপের শেষ আহ্বানে?

যেদিন সত্য জেগে উঠবে অবদমিত বিবেকের অগ্নিশিখায়,
সেদিন হয়তো মানুষ নামের প্রাণীটুকু ফিরবে মানবিক মহিমায়।
তনু গেল, আছিয়া গেল আবার গেল রামিসা
আগামীতে যাবে না আপনার মা তার কি ভরসা?

এমন গেলে প্রতিটি নিশীথ কাঁদবে নিঃশব্দ অন্ধকার প্রহরায় –
রামিসা আর আসমার মতো রক্তমাখা অসমাপ্ত আর্তনাদকারীর প্রার্থনায়।
অভিশপ্ত সভ্যতার এই আজব গোরস্থানে,
মানুষের বিবেক ক্ষয়ে পরিণত হয়েছে নিস্তব্ধ শ্মশানে।।

এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

🎉 Shapno24 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 🎉

আগামী ৩১ জুলাই www.shapno24.com এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

🎊 শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করুন 🎊

নিজের নাম দিয়ে আকর্ষণীয় Greeting Card তৈরি করুন।

Greeting Card তৈরি করুন

“অভিশপ্ত সভ্যতার গোরস্থান” কবিতাটি লিখছেন নাসরিন সুলতানা রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
৯৯

অভিশপ্ত সভ্যতার গোরস্থান
কলমে : নাসরিন সুলতানা রহমান

রামিসা তো ছিল এক শিশিরস্নাত কুসুম, নিশিপ্রহরের নির্মল দীপ্তি,
খাতার পাতায় আঁকত স্বপ্নলোক, অকলুষ ভবিষ্যতের নীরব প্রীতি।
কন্যাসন্তান জন্ম দিয়ে পিতা পেয়েছিল জীবনের অনির্বচনীয় ঋণ,
পুতুলরাজ্যে হারিয়ে যেত তার আঁধার, প্রভাত, গোধূলিতে সমগ্র দিন।

ওড়নার ভার নেওয়ারও হয়নি বয়স, জাগেনি কৈশোরের জ্যোৎস্না,
অথচ নরাধম সভ্যতার বিষদাঁতে বেঁধেছে নিষ্পাপ অস্তিত্বের বাসনা।
রাজপথের কুটিল দৃষ্টি চেনেনি সে, জানেনি লালসার অন্ধকার,
তবু কেন নিষ্পাপ পুষ্পের বুকে তোদের এত হিংস্র অগ্নিঝড়?

নিজ গৃহের পার্শ্ববর্তী দেয়াল—নিরাপত্তার দুর্ভেদ্য আবরণ,
সেখানেই মাদকাভিশপ্ত এক দানব জাগালো মৃত্যুর গোপন স্পন্দন।
পঁচিশ-ত্রিশ বছরের এক মানবাকৃতির বিভীষিকা,
নিষ্পাপ শিশুর বুকে নামালো পৈশাচিক বর্বরতার অশুভ মহাভারতিকা।

কীভাবে পারে মানুষরূপী কোনো অতল অমানব,
শিশুর আর্তনাদকে বানাতে নৃশংসতার উৎসব?
যে হাতে থাকার কথা ছিল আশ্রয়ের কোমল পরশধ্বনি,
সে হাতই রক্তমাখা অন্ধকারে লিখলো পিশাচ সভ্যতার কাহিনি।

রামিসার ছোট্ট মুখে ছিল প্রভাতের রৌদ্রকরুণ হাসি,
আজ সেখানে নীরব সমাধি, জমাটবাঁধা সময়ের উদাসী।
সভ্যতার মুখোশধারীরা আজ স্তব্ধ তার কান্নার অভিঘাতে,
মানবতার আকাশজুড়ে অভিশাপ ঝরে রক্তাক্ত প্রার্থনাপাতে।

মায়ের বুকে দাবানল জ্বলে, পিতার চোখে শূন্য মহাকাল,
বিচারের প্রতিশ্রুতি আজ কেবল কাগুজে শোকের জঞ্জাল।
ফুলেরা ঝরে পড়ে বিচারহীনতার কৃষ্ণগহ্বরে প্রতিনিয়ত,
আর ধর্ষকেরা বুক চিতিয়ে হাঁটে—লজ্জাকে করে উপহাস অবিরত।

আইনের প্রাচীরে মাথা ঠুকে ক্লান্ত অসংখ্য আর্ত প্রাণ,
ফাইলবন্দী দীর্ঘশ্বাসে চাপা পড়ে যায় শত সহস্র বেদনার গান।
দু’দিন সংবাদপত্রে জ্বলে ওঠে শোকের শিরোনাম,
তারপর আবার নির্বিকার নগর—অন্ধ, বধির, অবচেতন অবিরাম।

প্রতিটি দেয়াল সাক্ষ্য দেবে এই পচে যাওয়া সমাজের ভাষ্য,
যেখানে শিশুরাও আজ ভোগবাদী লালসার নির্মম উপবাস্য।
আমি তো এসেছিলাম পবিত্র সুবাস হয়ে জান্নাতি বাগানের এথায়,
তুই ধর্ষক! পাপের আগ্নেয়গিরি বুকে নিয়ে পালাবি কোথায়?

রামিসা আজ নক্ষত্র হয়ে জ্বলে মহাশূন্যের নীল গহ্বরে,
মানব আইনে নয়—তার রক্তাক্ত আবেদন জমা স্রষ্টার দরবারে।
“কেন পাঠালে আমায় এমন নিষ্ঠুর অন্ধকার নীড়ে?
আড়ি আজ তোমার সাথেও—এই নিষ্ঠুর পৃথিবীকে ঘিরে।”

কলমসমাজ লিখে রাখে আগুনদগ্ধ এই শোকসংগীত,
যেন যুগান্তরের পর যুগ পেরিয়েও না হারায় এই আর্তচিত্ত।
আমরা কবে মানুষ হবো প্রতিবাদের বজ্র উচ্চারণে?
কবে বিবেক জাগবে ধ্বংসস্তূপের শেষ আহ্বানে?

যেদিন সত্য জেগে উঠবে অবদমিত বিবেকের অগ্নিশিখায়,
সেদিন হয়তো মানুষ নামের প্রাণীটুকু ফিরবে মানবিক মহিমায়।
তনু গেল, আছিয়া গেল আবার গেল রামিসা
আগামীতে যাবে না আপনার মা তার কি ভরসা?

এমন গেলে প্রতিটি নিশীথ কাঁদবে নিঃশব্দ অন্ধকার প্রহরায় –
রামিসা আর আসমার মতো রক্তমাখা অসমাপ্ত আর্তনাদকারীর প্রার্থনায়।
অভিশপ্ত সভ্যতার এই আজব গোরস্থানে,
মানুষের বিবেক ক্ষয়ে পরিণত হয়েছে নিস্তব্ধ শ্মশানে।।