আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রবন্ধ *অক্টোবরের ২৮ তারিখ বাঙালি জাতির জন্য কলঙ্কময় দিন* —*জনি সিদ্দিক*

  • Reporter Name
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৭০৯ পড়া হয়েছে
১৬৯৭

 

*প্রাক কথা:*
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। দিনটি ছিল তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদ শেষের দিন, যখন সংবিধান অনুযায়ী দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সেদিন রাজপথের সহিংসতায় চাপা পড়ে যায়, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। এই দিনটিকে ‘কলঙ্কময়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এর নজিরবিহীন নৃশংসতা ও সুদূরপ্রসারী অগণতান্ত্রিক পরিণতির কারণে।

*প্রেক্ষাপট ও সংঘাতের সূত্রপাত:*
২৮ অক্টোবরের অস্থিরতার মূলে ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে তৎকালীন বিরোধী দল, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে বিদায়ী জোটের তীব্র মতপার্থক্য। সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান-এর প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে আওয়ামী লীগ তাকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে। তাদের দাবি ছিল, বিচারপতি হাসানের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বাধা হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াতে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ‘লগি-বৈঠা’ নিয়ে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান। এই আহ্বান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে চরমে নিয়ে যায়। ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপি এই তিনটি দলই ঢাকায় পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ঘোষণা করে। সংঘাতের চরম আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কোনো পক্ষই পিছু হটেনি।

*লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও নৃশংস দৃশ্য:*
দিনের শুরুতেই পল্টন-বায়তুল মোকাররম এলাকায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষে প্রধানত বাঁশের লগি ও বৈঠা ব্যবহৃত হয়, যার কারণে ঘটনাটি ‘লগি-বৈঠা আন্দোলন’ নামে পরিচিত।
এই সংঘাতের সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক ছিল প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা। জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের প্রায় ডজন খানেক নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে লগি-বৈঠা দিয়ে আঘাত করে, পিটিয়েহত্যা করা হয়। এর চেয়েও বেশি হৃদয়বিদারক ছিল হত্যার পর লাশের ওপর একদল যুবকের উল্লাস নৃত্যর দৃশ্য, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এই নৃশংসতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহনশীলতার ইতিহাসে এক কালো দাগ এঁকে দেয়। এছাড়া, এই সহিংসতায় ছাত্র মৈত্রীর (আওয়ামী লীগ জোটের অংশ) একজন কর্মীসহ উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি নিহত হন। এই বর্বরতা আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।

*রাজনৈতিক পরিণতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি:*
২৮ অক্টোবরের সহিংসতা দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। প্রধান রাজনৈতিক জোটগুলোর অনমনীয় মনোভাব এবং রাজপথের সংঘাত দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এই অরাজকতাই মূলত ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারির পথ প্রশস্ত করে এবং সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে। সংক্ষেপে, ২৮ অক্টোবরের সহিংসতা দেশে গণতন্ত্রের পথকে রুদ্ধ করেছিল। বর্তমানে দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা কর্মী প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলে পড়ে। এই ঘটনার পর বেশ কিছু মামলা দায়ের করা হলেও, পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় সেগুলোর অধিকাংশই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি ২৮ অক্টোবরের কলঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনো নৃশংস হত্যাকাণ্ড যখন বিচারের সম্মুখীন হয় না, তখন তা ভবিষ্যতে এমন সহিংসতার পুনরাবৃত্তির জন্য এক ধরনের প্রশ্রয় দেয়।

*ন্যায়বিচার ও ভবিষ্যতের দাবি:*
২৮ অক্টোবর কেবল একটি দিন নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, অসহিষ্ণুতা ও নৃশংসতার প্রতীক। এই দিনের কলঙ্ক থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হলে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি ও পদক্ষেপ অপরিহার্য:
১. দোষীদের নিরপেক্ষ বিচার: ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় যারা সরাসরি হত্যা ও সহিংসতায় জড়িত ছিল, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে একটি নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচারহীনতার অবসানই পারে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে।
২. রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সংলাপ: ভবিষ্যতে যেকোনো রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে দলগুলোর প্রতি সহিংসতা পরিহার করে সংলাপে ফেরার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। লগি-বৈঠার মতো মরণাস্ত্র ব্যবহারের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
৩. আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার: ক্ষমতাসীন বা বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অঙ্গীকার করতে হবে। ক্ষমতার পরিবর্তন যেন নিয়মতান্ত্রিক পথে হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়ন: এই দিনের নৃশংস ঘটনাটিকে সব রাজনৈতিক দলের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রাজনৈতিক সহনশীলতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে, যাতে তারা ঘৃণা ও প্রতিহিংসার রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে।

*শেষকথা:*
২৮ অক্টোবরের স্মৃতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষের জীবন ও গণতন্ত্রের মূল্য যেকোনো ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। এই কলঙ্কময় দিনের পরিপূর্ণ ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার পথে অগ্রগমনই হবে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। ভবিষ্যতে প্রত্যাশা করি যেন ২৮ অক্টোরের মতো দিন আর কখনোই দেশে না আসে।

কবির ভাষায় বলতে চাই —

চুনকালি দেয়

রক্ত মাখা
অক্টোবরে
রাজপথে ভাই
খুন করে,
জসিমসহ
আরও কত
লগির ঘায়ে
তৈরি ক্ষত
মায়ের চোখে
জল ঝরে!
আর কতকাল
ঝরবে এমন
রক্তজবার লাল?
জাতির মুখে
চুনকালি দেয়
খুনের সুখে
দুষ্ট লোকের পাল ৷৷

Facebook Comments Box
এই বিষয়ের ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাংবাদিকের তথ্য জানুন

প্রবন্ধ *অক্টোবরের ২৮ তারিখ বাঙালি জাতির জন্য কলঙ্কময় দিন* —*জনি সিদ্দিক*

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
১৬৯৭

 

*প্রাক কথা:*
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। দিনটি ছিল তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদ শেষের দিন, যখন সংবিধান অনুযায়ী দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সেদিন রাজপথের সহিংসতায় চাপা পড়ে যায়, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। এই দিনটিকে ‘কলঙ্কময়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এর নজিরবিহীন নৃশংসতা ও সুদূরপ্রসারী অগণতান্ত্রিক পরিণতির কারণে।

*প্রেক্ষাপট ও সংঘাতের সূত্রপাত:*
২৮ অক্টোবরের অস্থিরতার মূলে ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে তৎকালীন বিরোধী দল, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে বিদায়ী জোটের তীব্র মতপার্থক্য। সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান-এর প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে আওয়ামী লীগ তাকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে। তাদের দাবি ছিল, বিচারপতি হাসানের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বাধা হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াতে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ‘লগি-বৈঠা’ নিয়ে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান। এই আহ্বান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে চরমে নিয়ে যায়। ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপি এই তিনটি দলই ঢাকায় পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ঘোষণা করে। সংঘাতের চরম আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কোনো পক্ষই পিছু হটেনি।

*লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও নৃশংস দৃশ্য:*
দিনের শুরুতেই পল্টন-বায়তুল মোকাররম এলাকায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষে প্রধানত বাঁশের লগি ও বৈঠা ব্যবহৃত হয়, যার কারণে ঘটনাটি ‘লগি-বৈঠা আন্দোলন’ নামে পরিচিত।
এই সংঘাতের সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক ছিল প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা। জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের প্রায় ডজন খানেক নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে লগি-বৈঠা দিয়ে আঘাত করে, পিটিয়েহত্যা করা হয়। এর চেয়েও বেশি হৃদয়বিদারক ছিল হত্যার পর লাশের ওপর একদল যুবকের উল্লাস নৃত্যর দৃশ্য, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এই নৃশংসতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহনশীলতার ইতিহাসে এক কালো দাগ এঁকে দেয়। এছাড়া, এই সহিংসতায় ছাত্র মৈত্রীর (আওয়ামী লীগ জোটের অংশ) একজন কর্মীসহ উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি নিহত হন। এই বর্বরতা আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।

*রাজনৈতিক পরিণতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি:*
২৮ অক্টোবরের সহিংসতা দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। প্রধান রাজনৈতিক জোটগুলোর অনমনীয় মনোভাব এবং রাজপথের সংঘাত দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এই অরাজকতাই মূলত ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারির পথ প্রশস্ত করে এবং সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে। সংক্ষেপে, ২৮ অক্টোবরের সহিংসতা দেশে গণতন্ত্রের পথকে রুদ্ধ করেছিল। বর্তমানে দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা কর্মী প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলে পড়ে। এই ঘটনার পর বেশ কিছু মামলা দায়ের করা হলেও, পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় সেগুলোর অধিকাংশই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি ২৮ অক্টোবরের কলঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনো নৃশংস হত্যাকাণ্ড যখন বিচারের সম্মুখীন হয় না, তখন তা ভবিষ্যতে এমন সহিংসতার পুনরাবৃত্তির জন্য এক ধরনের প্রশ্রয় দেয়।

*ন্যায়বিচার ও ভবিষ্যতের দাবি:*
২৮ অক্টোবর কেবল একটি দিন নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, অসহিষ্ণুতা ও নৃশংসতার প্রতীক। এই দিনের কলঙ্ক থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হলে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি ও পদক্ষেপ অপরিহার্য:
১. দোষীদের নিরপেক্ষ বিচার: ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় যারা সরাসরি হত্যা ও সহিংসতায় জড়িত ছিল, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে একটি নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচারহীনতার অবসানই পারে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে।
২. রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সংলাপ: ভবিষ্যতে যেকোনো রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে দলগুলোর প্রতি সহিংসতা পরিহার করে সংলাপে ফেরার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। লগি-বৈঠার মতো মরণাস্ত্র ব্যবহারের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
৩. আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার: ক্ষমতাসীন বা বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অঙ্গীকার করতে হবে। ক্ষমতার পরিবর্তন যেন নিয়মতান্ত্রিক পথে হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়ন: এই দিনের নৃশংস ঘটনাটিকে সব রাজনৈতিক দলের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রাজনৈতিক সহনশীলতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে, যাতে তারা ঘৃণা ও প্রতিহিংসার রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে।

*শেষকথা:*
২৮ অক্টোবরের স্মৃতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষের জীবন ও গণতন্ত্রের মূল্য যেকোনো ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। এই কলঙ্কময় দিনের পরিপূর্ণ ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার পথে অগ্রগমনই হবে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। ভবিষ্যতে প্রত্যাশা করি যেন ২৮ অক্টোরের মতো দিন আর কখনোই দেশে না আসে।

কবির ভাষায় বলতে চাই —

চুনকালি দেয়

রক্ত মাখা
অক্টোবরে
রাজপথে ভাই
খুন করে,
জসিমসহ
আরও কত
লগির ঘায়ে
তৈরি ক্ষত
মায়ের চোখে
জল ঝরে!
আর কতকাল
ঝরবে এমন
রক্তজবার লাল?
জাতির মুখে
চুনকালি দেয়
খুনের সুখে
দুষ্ট লোকের পাল ৷৷

Facebook Comments Box