আমি জানি,
চাঁদ এক উপগ্রহ,
তবু সে যেন আমারই প্রতিচ্ছবি —
কারও আলো ধার করে
নিজেকে পুরোপুরি সত্যি মনে করা।
আমার জন্ম হয়েছিল এক ফোঁটা রক্ত থেকে,
তবু সেই রক্তই শিখিয়েছে
কীভাবে আলো হয়ে জেগে থাকতে হয়।
আমি ছিলাম নিঃশব্দ,
তবু আমার কান্নার শব্দে
প্রথমবার পৃথিবী আমাকে চিনেছিল।
চাঁদ যেমন আকাশে হারিয়ে যেতে যেতে
অদ্ভুত এক শীতলতা রেখে যায়,
আমিও তেমনি মানুষের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাই,
একটু আলো, একটু ব্যথা রেখে।
আমার প্রশ্নগুলো চাঁদের মতোই গোল—
ফিরে আসে নিজের কাছেই,
কখনো ক্ষীণ, কখনো পূর্ণ।
আমি কে?
একটি নামের ভেতর বন্দি আত্মা,
নাকি কোনো অজানা শক্তির ক্ষণস্থায়ী স্পন্দন?
আমি কখনো চাঁদকে দেখি না,
বরং তার নীরবতাকে অনুভব করি।
কারণ চাঁদ যেমন কথা বলে না,
আমিও শিখেছি নীরবতাকেই ভাষা বানাতে।
আমার ভেতর চাঁদের আলো ঝরে,
রক্তের সঙ্গে মিশে যায় সাদা নরম আভা—
যেন স্মৃতি ও বেদনা এক হয়ে গেছে।
আমি শুধু জানতে চাই—
যদি আমি সত্যিই এক ফোঁটা রক্তের সন্তান,
তবে কেন আমার চোখে
এতটা আকাশ জমে থাকে?