স্বপ্ন ২৪ ডেস্ক | রিপোর্টার: ডাঃ এস ইয়াসমিন রোজলিন

অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে সীমাবদ্ধতা কখনোই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সেই সত্যেরই উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর মজিলপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎদও রোডের বাসিন্দা মাসকুরা খাতুন

২০২৬ সালের সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট)-এ ৫৬৫ নম্বর পেয়ে তিনি অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ২৬,১১২ অর্জন করেছেন। তাঁর এই কৃতিত্ব পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমগ্র এলাকার জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।

মাসকুরার বাবা মুফতি ইসা আহমদ হালদার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত। মা মানজুরা বিবি হালদার একজন গৃহিণী। সীমিত আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবার হলেও সন্তানের স্বপ্নপূরণে বাবা-মা কখনোই উৎসাহ ও সহযোগিতার কমতি রাখেননি।

ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন মাসকুরা। মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি নিয়মিত অধ্যয়ন, কঠোর অনুশীলন এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। ২০২২ সালে আল-আমীন অ্যাকাডেমি, জয়নগর থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৫৫ নম্বর এবং ২০২৪ সালে আল-আমীন অ্যাকাডেমি, গঙ্গারামপুর (উলুবেড়িয়া) থেকে উচ্চমাধ্যমিকে ৪৬৯ নম্বর অর্জনের পর নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। দীর্ঘ পরিশ্রমের ফলস্বরূপ এবারের এই সাফল্য।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে মাসকুরা বলেন, “আল্লাহর রহমতে আজ এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে একজন দক্ষ, মানবিক ও সেবাপরায়ণ চিকিৎসক হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

মেয়ের সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা মুফতি ইসা আহমদ হালদার বলেন, “আমরা সবসময় শিক্ষার মাধ্যমে সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ আমাদের সেই পরিশ্রমের মর্যাদা দিয়েছেন।”

মাসকুরার এই অসাধারণ অর্জনে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকার মানুষ আনন্দিত। তাঁর এই সাফল্য আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

রিপোর্টার: ডাঃ এস ইয়াসমিন রোজলিন
প্রকাশক: স্বপ্ন ২৪