কারবালার পূর্বাভাস
— সফেদ বিহান

মা ফাতেমা, হযরত আলী,
সাথে ইমাম দুই ভাই,
নূর নবীজির সাথে বসা—
খুশির সীমা নাই।

সেই সময়ে এলেন খোদার
জিবরাইল আমিন,
কাফনের কাপড় হাতে,
মুখে দুঃখের চিন।

এক টুকরো কাপড় নবীজি
নিজের জন্য রাখেন,
হযরত আলী, মা ফাতেমা,
হাসান—এই তিন জনাকে দেন।

মা ফাতেমা কেঁদে বলেন,
“ওগো আব্বাজান,
আমার হুসাইনের জন্য
কাফন নেই কি একখান?”

নবীজি বলেন ফাতেমাকে,
“ও জগতের মা,
আমার হোসেন শহীদ হবে,
কাফন পাবে না।”

পবিত্র শির কেটে নেবে
দেহ ফালা ফালা,
কাফন কোথায় পাবে বলো
মরু কারবালা?

কেঁদে বলেন মা ফাতেমা,
“ওগো আব্বাজান,
আপনি কি করবেন না রক্ষা
ইমাম হুসাইনের প্রাণ?”

কাঁদিয়া বলেন নূর নবীজি,
“শোনো, ফাতেমা আমার,
আমি তখন থাকব না
এই দুনিয়াতে আর।”

আবার বলেন মা ফাতেমা,
নূর নবীজির ধারে,
হযরত আলী থাকবেন নিশ্চয়
কঠিন এই সমরে।

কেঁদে বলেন প্রিয় নবী,
“শোন মা আমার,
হযরত আলীও থাকবেন না
তখন পৃথিবীতে আর।”

তখন বলেন মা ফাতেমা,
কেঁদে বারেবার,
আমি যাব উদ্ধার করতে
হুসাইনকে আমার।

নবী বলেন, “আমার পরে
ছাড়বে তুমি ধরা,
তুমি যাবে কেমন করে
দুঃখের কারবালা?”

ভিজে গেল মা ফাতেমার
পবিত্র দুই চোখ,
নূর নবীজির চোখের জলে
ভাসে দাড়িমুখ।

মা ফাতেমা বলেন আবার,
“ওগো আব্বাজান,
ইমাম হাসান যাবে তখন
কারবালার ময়দান?”

হুসাইনের পাশে গিয়ে
দাঁড়াবেন হাসান,
কে আছে এই ত্রিভুবনে
যে মারবে হুসাইনকে?

প্রিয় নবী কেঁদে বলেন—
“প্রিয় ফাতেমায়,
হাসানও থাকবেন না মাগো,
তখন এই ধরায়।”

মা ফাতেমা কেঁদে বলেন—
“ওগো আব্বাজান,
হুসাইন শোকে কে কাঁদিবে,
বলো গো আমায়।”

হুসাইন শোকে কাঁদবে মাগো
আমার উম্মত,
কিয়ামত পর্যন্ত কাঁদবে তারা
করে হুসাইনের মহব্বত।