হারানো পাখির খোঁজে
— সফেদ বিহান

ঘরের কোণে একটি আমগাছ ছিল। তার ডালগুলো ছাতার মতো বাঁকা হয়ে নেমে আসত। প্রতিদিন বিকেলে, সন্ধ্যার আগে, আমি সেই ডালে বসে থাকতাম। চারপাশে তখন এক অদ্ভুত পরিবর্তন—পাখিরা ফিরছে, মানুষ ঘরে ঢুকছে, আর প্রকৃতি ধীরে ধীরে সন্ধ্যার রঙে নিজেকে সাজাচ্ছে।

এই সময়টায়, আমার ভেতরেও কিছু বদলে যেত। এক ধরনের নিঃশব্দ নিঃসঙ্গতা এসে বসত মনে। যেন পৃথিবী আমাকে কিছু বলতে চাইছে, অথচ তার কোনো ভাষা নেই। মনে হতো, আমি কোনো অদৃশ্য ডাকে সাড়া দিচ্ছি—যার উৎস অজানা, অথচ টানটা অস্বীকার করা যায় না।

একদিন, সেই নিস্তব্ধ মুহূর্তে, আমি দেখলাম একটি দোয়েল পাখি। সে যেন হঠাৎ করেই এসে উপস্থিত হলো। ডাল থেকে ডালে লাফিয়ে লাফিয়ে, শিষ দিয়ে সে চারপাশ ভরিয়ে তুলছিল। তার চলাফেরায় ছিল এক অদ্ভুত খোঁজ—যেন সেও কিছু একটা খুঁজছে।

তখন মনে হয়েছিল, আমরা দুজনই একই—আমি আর সেই পাখি। দুজনেই এক অদৃশ্য অপূর্ণতার ভেতর কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছি।

কিন্তু একদিন, পাখিটা আর এল না। আমি তাকে খুঁজেছি—লেবু গাছের ডালে, ঝোপের আড়ালে, বিকেলের প্রতিটি আলোছায়ায়। তবু পাইনি। দিন কেটে গেছে, মাস পেরিয়েছে—শেষে বুঝেছি, সে আর ফিরবে না।

এখন, আমি আর সেই জায়গায় থাকি না। আমগাছটাও নেই। তবু কখনো সন্ধ্যায় জানালার পাশে দাঁড়ালে, সেই নিঃসঙ্গতা আবার ফিরে আসে। আর ঠিক তখনই মনে হয়—পাখিটা যেন কোথাও যায়নি, এখনও আছে, অদৃশ্য হয়ে।

সফেদ বিহান
বনগ্রাম, কটিয়াদি, কিশোরগঞ্জ।