বসন্ত বিলাস
মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ
আমার জাত গেছে বহু আগেই
যেদিন জ্যোৎস্নার কাছে বন্ধক রেখেছিলাম
সভ্যতার শেষ পরিচয়পত্র,
তারপর থেকে রাতের তারাদের সঙ্গে
গোপন সংসার পাতি,
আর মেঘের কপালে লিখে দিই
অপ্রকাশিত প্রেমের ইতিহাস।
মেঘডাকা পরীরা ভেসে যায়
শূন্যের সাদা পালতোলা নৌকায়,
কোনো অচেনা কাননের নিভৃত অলিন্দে
তারা ছড়িয়ে দেয় জোনাকির স্বর্ণমুদ্রা,
শরতের হলদে পোকাগুলো
তখন গন্ধ হয়ে ঝরে পড়ে
স্মৃতির প্রাচীন উঠোনে।
বসন্ত এলে আমি মেখে নিই
রৌদ্রের উষ্ণ অর্ঘ্য,
বাতাসের দোলায় শুনি
পৃথিবীর আদিম লোরি,
কোকিলের কণ্ঠে জেগে ওঠে
হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর নাম,
আর ঝরা পাতার শব্দে শব্দে
লিখে রাখি অস্তিত্বের দিনলিপি।
মনের গভীরে জমে থাকা
শত বর্ষের ধুলো ও গ্লানি
বৃষ্টির ফোঁটায় ধুয়ে যায়,
তবু শ্রাবণের কালো মেঘের মতো
কিছু বিষণ্নতা ভেসে থাকে,
যেন হৃদয়ের আকাশে
অমাবস্যার গোপন উপনিবেশ।
আমি খুঁজি বসন্ত-বিলাস
নতুন ভোরের জন্মমুহূর্ত,
তালপাতার বাঁশিতে ঘুমিয়ে থাকা
শৈশবের সবুজ সুর,
খুঁজি রৌদ্রদগ্ধ দুপুরে
আইসক্রিমওয়ালার ডালার টুংটাং শব্দ,
যেন হারিয়ে যাওয়া সময়
দরজায় কড়া নেড়ে ফিরে আসে।
আমি খুঁজি পারুলী খালের জল,
যেখানে ক্লান্তিরা নৌকা বেঁধে
শীতলতার ঘাটে বিশ্রাম নেয়।
আমি খুঁজি সেই বসন্ত-বিলাস
যেখানে রৌদ্রস্নানে সময়ের বয়স থেমে যায়,
সকাল ও বিকেল মিশে যায়
এক অনন্ত সোনালি প্রহরে,
আর মানুষ ফিরে পায়
নিজের হারিয়ে যাওয়া আত্মার ঠিকানা।