গদ্যের মলাটে তুমি

আয়াজ আহমদ বাঙালি

আসাম, ভারত

 

 

মেঘ জমছে আমাদের চেনা আকাশের চিলতে কার্নিশে।

তুমি চলে যাওয়ার পর জ্যোৎস্নাও সে রকম আলো ছড়াচ্ছে না।

বইয়ের ভাঁজে শুকিয়ে যাওয়া গোলাপে আজও তোমার সুবাস আছে।

স্মৃতির অলিন্দে একা হেঁটে চলা ভীষণ ক্লান্তিকর!

শহরের নিয়ন আলোয় একাকীত্বেরই ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে।

কত সহজেই না তুমি বদলে নিলে পরিচিত বাঁক।

এখন চায়ের কাপে চুমুক দিলেই অবাধ্য ধোঁয়া তোমারই অবয়ব আঁকে।

ঝুম বৃষ্টি নামলে এখনও জানালার ধারে আগের মতো বসি!

পার্থক্য একটাই—কাঁচের ওপাশে এখন জলবিন্দুই খেলা করে।

যেসব কথা বুক পকেটে জমেছিল ওগুলো আজ নিভৃত ডায়েরির পাতায় বন্দী।

অভিমানী বাতাস এসে ঘরের পর্দা নাড়া দিলে মনে হয় তুমি ফিরে এসেছ!

যদিও দরজার ওপাশে শূন্যতা এবং অন্ধকারের নিবিড় বসবাস!

সময়ের চাকা ঘুরছে নিয়মে, মানুষও ব্যস্ত যে যার গন্তব্যে ছুটছে!

আমি শুধু থমকে আছি কল্পিত স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায়!

ভুল করে যদি এই চত্বরে আসো তাহলে ডায়েরি খুলে দেখো…!

সেটাতে গদ্যের ছন্দে বেঁচে আছে রূপকথার অসমাপ্ত গল্পই!

যদি এই কবিতা তোমার চোখে পড়ে কানে যায়

মনে লাগে …!

তাহলে ধরে নিয়ো আমি আর আগের মতো তোমাকে বুকে টেনে নিতে রাজি নই!