মিশন হেক্সা
এমএম শহিদুল ইসলাম সুলতান
বিশ বছরের ট্রফি খরা কাটাতে
ব্রাজিলিয়ান তারকারা ২০২৬ বিশ্বকাপ আসছে মাতাতে।
বিশ্বকাপে মিশন হেক্সা পূরণ করতে নামছে ব্রাজিল,
প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে গোল করবে
আকাশে যেমন করে শিকার করে বাজপাখি আর চিল।
ফুটবল বিশ্বে বিস্ময় বালক নেইমার জুনিয়র,
তুমি কিঞ্চিৎ নাই সন্দেহ,অনেক প্রত্যাশা তোমাকে ঘিরে।
হতাশ হতে চাই না আর আমরা কেহ।
যুগের পরে আসে যুগ,কেড়ে নিতে ব্রাজিলের সুখ,
করছে কত রণকৌশল।
প্রতিপক্ষের সব রণকৌশল করে ধূলিসাৎ
নেইমারের ক্রীড়া নৈপুণ্যে ব্রাজিল টিম
নিবে বিজয়ী ম্যাচের স্বাদ।
লাটিন আমেরিকার ঐতিহ্য ফুটবলে ব্রাজিল-মেক্সিকো।
ফুটবলে জার্মানি,ইতালি আর ব্রাজিল
আকাশে শিকারীর খোঁজে উড়তে থাকা ইগল,বাজপাখি এবং হন্যে চিল।
ফুটবল বিশ্বে শিল্পের ছোঁয়া,রংতুলির আচর,
তিনবারের বিশ্বকাপ জয়ী পেলে না হয় দৃষ্টিগোচর।
ফুটবল ইতিহাসের পাতা ঘাটিয়ে-ঘাটিয়ে গল্প করি,
ফ্যান-ফলোয়ারেরা মাতিয়ে-মাতিয়ে।
১৯৫৮ ফুটবল আসরে ১৭ বছরের বিস্ময়কর বালক
বিশ্বমঞ্চে ফুটবলে দেখিয়ে প্রতিভার ঝলক,
ফাইনালে করে জোড়া গোল,অল্প বয়সে বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে সোরগোল।
বিশ্বকাপে অমন পারফরম্যান্সের ফলে
১টি গোল্ডেন বল আর ক্যারিয়ার শেষে ফ্রান্স ফুটবল কর্তৃক এই প্রতিভাকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করার জন্য ৭টি ব্যালন ডি’অর পুরস্কার মেলে।
ইতিহাসে রেকর্ডের বরপুত্র ফুটবল কিংবদন্তী রোনালদো নাজারিও!
বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের হয়ে ১৫ গোলের কৃতিত্ব যার দখলে,
ফুটবল বোদ্ধারা স্মরণ করি আমরা সকলে।
ফুটবল খেলাকে শিল্পে রূপ দিতে “ফোলহা সেকা” ফ্রি কিক আবিষ্কার করলেন দিদি ইথর
ফুটবল মেধার জোরে।
২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ী ক্যাপ্টেন কাফুর কথা বলি,
৩ বার ফাইনাল খেলা প্লেয়ার,ডানপাশের রাইটব্যাক অবিনশ্বর।
প্রতিভা আর পরিশ্রমের জোরে রোনালদিনহোরা আজও আছে ফুটবল বিশ্বজুড়ে।
রোমারিও – বক্সের ভিতরে ভয়ংকর স্ট্রাইকার,
১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ী,৫ গোল করা প্লেয়ার।
ব্রাজিলের ডাক্তার পেশার আরেক ফুটবলার সক্রেটিস,
৮২,৮৬ দলের অধিনায়ক ও কার্যকরী মিডফিল্ডার।
ফ্রি-কিক মাস্টার জিকো,”দ্য হোয়াইট পেলে”খ্যাত ব্রাজিলের একটা ছেলে,
ফুটবল নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষকে দেয় খেলে।
গারিঞ্চা – দ্য জয় অফ দ্য পিপল,২ বার বিশ্বকাপ জয়ী,
ড্রিবলিংয়ের জাদুকর,বিশ্বের সেরা রাইট উইঙ্গার।
ভাভা – টানা দুই ফাইনালে স্কোরার ম্যান, দুটি বিশ্বকাপ জেতা লিজেন্ড।
রবার্তো কার্লোসের ১.৯৭ মিটারের কারিশমাটিক বাঁকানো শট!
ইতিহাস স্মরণ করে,ফুটবল বিশ্বকে মনে করিয়ে দেয়
ব্রাজিলের ফুটবল সত্ত্বার গৌরব।
মাত্র বাইশ বারের অংশগ্রহণে ব্রাজিল সবার শীর্ষে ট্রফি অর্জনে,
ব্রাজিলের কেউ নাই আশেপাশে।
১৯৫০ সালে আদেমির ৯ গোল করে,
১৯৩৮ সালে লিওনিদাস ৭ গোল করে,
ফুটবল বিশ্বকাপ আসরে ব্রাজিলের বিস্ময়কর প্রতিভাবানরাও শীর্ষ চারে আছে রে।
তাই আমরা ব্রাজিলিয়ান সাপোর্টাররা দেই হাতে তালি,
প্রাপ্তির খাতা মোটেও কিন্তু নয় খালি।
সবশেষে যুক্তির বাইরে বলি,
আমি কেন ব্রাজিলের সাপোর্ট করি ভাই,
অমুসলিম দেশ হয়েও তারা মানবতার ক্যান্সার
ইসরায়েল আর আমেরিকার পক্ষে অবস্থান করেন নাই।
২০২৬ আসুক,বাজুক শঙ্খ,
হেক্সা আসবেই – এই তো মনস্ক!
ভামোস ব্রাজিল।