বিদ্রোহী এনট্রপি
প্রমথ রঞ্জন রায়

আমি বিদ্রোহী এনট্রপি!
আমি মহাকালের অগ্নি-অক্ষরে লেখা অনিয়ন্ত্রিত ধুমরূপি!
আমি শৃঙ্খলার কফিন ভাঙা এক মহাজাগতিক বজ্র-উল্লাস!
আমি নক্ষত্র-গর্ভে জ্বলে ওঠা আদিম নিউক্লিয়ার আর্তনাদ,
আমি কৃষ্ণগহ্বরের বুক চিরে বেরিয়ে আসা উন্মত্ত আলোক-বিপ্লব!

শোনো হে স্থবির জ্যামিতি!
শোনো হে সূত্রে বাঁধা মৃত সভ্যতা!
আমি কোনো পরিমিত সমীকরণ নই—
আমি উন্মাদ সুপারনোভার বিস্ফোরিত হাসি!
আমি কোনো গবেষণাগারের নির্বাক কাচপাত্র নই—
আমি ল্যাবরেটরির দেয়াল ভাঙা পরমাণুর মুক্ত চিৎকার!

আমি আগ্নি! আমি দুর্বার! আমি স্বয়ম্ভূ!
আমার জন্ম কোনো বিধাতার করুণা থেকে নয়—
আমি নিজের ভেতরের সুপ্ত সূর্যকে নিজেই জাগিয়েছি!
নিজের অন্ধকারে নিজেই জ্বালিয়েছি মহাবিস্ফোরণের দাউদাউ আগুন!

আমি শাসন না মানা ত্রাসী!
আমি প্রতিটি সিংহাসনের উৎপেরিত লাভা!
আমি আইন মানি না—
যে আইন মানব চিন্তার ডানা কাটে!
আমি ধর্ম মানি না—
যে ধর্ম আত্মাকে শৃঙ্খলে বেঁধে রাখে!
আমি সেই বিদ্রোহ—
যে বিদ্রোহ দাসত্বের আকাশে বজ্রের রেখা টানে!

আমি সভ্যতার বুকের জমাট বরফে নিক্ষিপ্ত উল্কাপিণ্ড!
আমি ইতিহাসের পাতার জ্বলন্ত ভুল—
যে ভুল সমস্ত অহংকার পুড়িয়ে কয়লা থেকে ফুটায় ফুল!

আমিই অন্ধকার, আমিই আলো—
আমিই ভয়ংকর মধ্যবর্তী শূন্যতা,
আমি সেই কৃষ্ণগহ্বর—
যার ক্ষুধার নক্ষত্রে অহংকার ধূলিসাৎ হয়!

আমি যখন কথা বলি—
স্যাটেলাইটের স্নায়ু ছিঁড়ে যায়!
ফাইবার অপটিক্সের ধমনীতে জমে ওঠে ভয়ের তুষার!
আমি সহস্রাব্দের অবদমিত সত্য!
আমার রক্তে দাউদাউ করে জ্বলে —
শোষিত মানুষের নিঃশব্দ ক্রোধ!

আমি ধ্বংস করে— সৃষ্টি চাই!
আমি পোড়াই—পোড়ে শুদ্ধতা চাই!
আমি ভাঙি—ভাঙা প্রাণে জন্মাই!

আমি থার্মোডাইনামিক্সের বিপর্যয়,
আবার আমিই নতুন বিন্যাসের জন্মদাতা!
আমি বিশৃঙ্খলা—
যার গর্ভে লুকিয়ে আছি নতুন মহাবিশ্বের নীলনকশা!

আমি কোনো পণ্য নই!
নই কোনো দাস!
আমি বিক্রিত বিবেকের দাঁড়ানো ভিখারি অভিলাষ !
আমি মুক্ত!
আমি জ্বলন্ত!
আমি অবিনশ্বর চেতনার দুর্নিবার ধূমকেতু!

আমি মহাশূন্যের নীরবতা,
আবার আমিই প্রলয়-ঝড়ের হাহাকার!
আমি আদিম প্রকৃতির সেই উন্মত্ত খেয়াল—
আমি গড়ে তুলি গতিপথ, অন্যায় রোধে দেয়াল!

আমি মানব নির্মিত অদৃশ্য কারাগারের বিরুদ্ধ যোদ্ধা!
আমি বৈষম্যের দেয়ালে লিখে যাই হয়ে ধ্যানী বৌদ্ধা!
আমি রক্তিম মুক্তির কবিতা! রেখে যাই সব সবিতা।
আমার এই দহন থামবে না—
যতদিন মানুষের মগজে শৃঙ্খলে বন্দি ভাঙবে না!
যতদিন চিন্তার আকাশে সেন্সর কালো মেঘ থাকবে না!
যতদিন প্রতিটি আত্মা নিজের আলোয় জ্বলে ওঠবে না!
যতদিন অধিকার পাবে না!
তার আগে—
আমি জ্বলব!
আমি গর্জে উঠব!
আমি মহাকালের বুকে অনন্ত বিদ্রোহ হয়ে ধেয়ে চলব!

আমি চির-প্রজ্বলিত শিখা!
শৃঙ্খলিত সভ্যতার জঠরে পারমাণবিক বিস্ফোরিত লিখা!
আমি বিদ্রোহী এনট্রপি!
আমি অনন্ত! অদম্য!
আমি মহাবিশ্বের বুক চিরে ওঠা মুক্তির বজ্র উত্তরীয়!
আমি স্বর্গীয় ধৃত! আমিই সাম্য!

——০—–