আবেদন-স্মারকলিপির পরও মিলছে না এমপিও
এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বিএম ও কারিগরি শিক্ষকদের চরম দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত দেশের বিভিন্ন বিএম কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যোগদানের তিন থেকে চার মাস অতিবাহিত হলেও এখনো এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধা ও নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়ার পর তারা যথাযথভাবে যোগদান করেছেন এবং নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো এমপিও কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় তারা সরকারি বেতন-ভাতার বাইরে রয়ে গেছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক ইতোমধ্যে এমপিও সুবিধা পেলেও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এতে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে।

এ অবস্থায় দ্রুত এমপিওভুক্তি ও বকেয়া বেতন প্রদানের দাবিতে সম্প্রতি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর আবেদন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষকরা।

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ৩-৪ মাস ধরে বিনা বেতনে চাকরি করায় অনেক শিক্ষক পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কেউ ঋণ করে, আবার কেউ ধার-দেনার মাধ্যমে জীবনযাপন করছেন।

এদিকে দেশের উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন সময় দক্ষ জনশক্তি গঠন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন শিক্ষকরা। তাদের দাবি, কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও বাস্তবে এই খাতের নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিও জটিলতা দ্রুত নিরসন করা হচ্ছে না।

একজন শিক্ষক বলেন,
“আমরা সবাই এনটিআরসিএ সনদধারী ও বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছি, অথচ কয়েক মাসেও বেতন পাচ্ছি না। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।”

আরেক শিক্ষক বলেন,
“ঈদের আগে অন্তত বকেয়াসহ বেতন ও এমপিও কার্যক্রম সম্পন্ন করা হোক। মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

শিক্ষকরা দ্রুত এমপিওভুক্তির জটিলতা নিরসন এবং বকেয়াসহ বেতন চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।