রেললাইয়ের পাশে বসে থাকা মেয়েটি,
ছেঁড়া জামা, হাতে এক মলিন ফুল।
স্বপ্ন ছিলো পুতুল নিয়ে খেলার,
আজ সে ভিক্ষা চায়, রাত কাটায় ভুলভাল কূল।
আকাশের নিচে তার কোন ছাদ নেই,
ভাতের গন্ধে জেগে ওঠে তার ক্ষুধা।
রাস্তার বাতিতে মুখটা মলিন আলোয়,
কেউ দেখে না, তবু সে মানুষ—এটাই তার দুর্ভাগ্যের সূত্রা।
কেউ বলে—”ও তো পথের মেয়ে”,
কেউ হাসে, কেউ দেয় দোষের দাগ।
কেউ জিজ্ঞেস করে না তার নাম,
শুধু দেহটাই যেন পণ্য এই সমাজের রাগ।
বৃষ্টির রাতে যখন কুকুরও আশ্রয় খোঁজে,
সে তখন ভিজে যায় নীরব বেদনায়।
ভয় পায় অন্ধকার, ভয় পায় মানুষ,
তবু সকাল হলে ফেরে রোদে জীবনের প্রহেলিকায়।
কোথায় তার স্কুল, কোথায় বইয়ের ঘ্রাণ?
খেলার মাঠও তো তার কাছে নিষিদ্ধ।
সে তো মানুষ হতে চেয়েছিলো একদিন,
কিন্তু সমাজ দিলো তাকে “অপরাধী”র বিধি।
আজ এই কন্যা শিশু দিবসে বলি—
ওরা অপরাধ নয়, ওরাই আলো!
যাদের চোখে এখনো আশার দীপ্তি,
ওদের হাতেই ফুটবে আগামীর ভালো।
চলো, একটু হাত বাড়াই আমরা,
ভালোবাসার ছায়া দিই ওদের কপালে।
যেন কোনো কন্যা শিশুর রাত না কাটে—
অবহেলার, নির্যাতনের অন্ধ কুয়াশায় অপালায়।