মায়ের শূন্যতা
মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ

 

মা, তুমি চলে গেছ আজ পাঁচটি বছর,

তবুও সময় থেমে আছে সেই দিনটিতে

যেদিন হঠাৎ নিভে গেল ঘরের আলো,

আর আমার আকাশটা হয়ে গেল অনন্ত শূন্যতিতে।

কাল ঈদ

চারদিকে আনন্দের ঢেউ, নতুন জামার গন্ধ,

হাসির কোলাহল ভাসে মানুষের মুখে,

কিন্তু আমার বুকের ভেতর

কেবলই এক নীরব কান্নার শব্দ।

মা, তুমি যদি থাকতে

এই ঈদে তোমার পাশে বসে

হাজারো না বলা কথা খুলে বলতাম,

বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টগুলো

তোমার আঁচলে চুপচাপ ঢেলে দিতাম।

আজ সেই কথাগুলোই

অভিমান হয়ে বুকের দেয়ালে ধাক্কা খায়,

প্রতিদিন একটু একটু করে

আমাকে নিঃশেষ করে যায়।

 

আমি ক্লান্ত, মা

অদৃশ্য এক শূন্যতার ভারে

দিন দিন ভেঙে পড়ছি ভিতরে ভিতরে,

তোমাকে না পেয়ে পৃথিবীটা

আমার কাছে কেমন নির্জন অচেনা ঘরে।

 

পুরো বাড়িটা আজও তোমার

বারান্দার সেই চেয়ারে তোমার ছায়া,

রান্নাঘরের প্রতিটি হাঁড়িতে

তোমার স্পর্শের মায়া,

উঠোনের ধুলোর গন্ধে

মিশে আছে তোমার ভালোবাসার ছোঁয়া।

 

মা, তুমি নেই

তবুও সবখানে তুমি আছো,

প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি স্মৃতিতে

আমার হৃদয়ের গভীরে বেঁচে আছো।

 

আমি যখন দূরের পথে হেঁটে যাই,

শান্তি খুঁজে পাই না কোথাও,

তখনই ছুটে যাই তোমার কাছে

নীরব সেই কবরের ছায়াতলে।

 

চুপচাপ বসে বলি সব কথা,

অন্তরের সব ব্যথা, সব যন্ত্রণা

জানি না তুমি শুনতে পাও কি না,

তবুও বললে বুকটা হালকা হয়,

চোখের জলেই খুঁজি তোমার সান্ত্বনা।

মা, তুমি কি জানো

এই পৃথিবীর কোনো ঈদ, কোনো আনন্দ

আমার হৃদয় ছুঁতে পারে না আর,

কারণ আমার সব আনন্দ, সব সুখ

রয়ে গেছে তোমার সাথেই

তোমার সেই অদৃশ্য পারাপারে।

 

ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল “মা”