নারী
কলমে-মাহজাবিন মিষ্টি
রংপুর
দৃষ্টি আছে—তবু আমি অন্ধ,
সময়ের ভিড়ে নিজের মুখটাই
অনেক সময় চিনতে পারি না।
ভালো থাকার সব আয়োজন থাকলেও
মনের আকাশে হঠাৎ
অকারণ এক বিষণ্ন মেঘ জমে।
পথ চিনেও আমি হেঁটে যাই অচেনা হয়ে,
সব জানার পরও থাকি
নীরব অজানার ভেতর লুকিয়ে।
স্বাধীন দেশের আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে
আমার শাড়ির আঁচল বাতাসে দোলে,
তবু অদৃশ্য শিকল বেঁধে রাখে ডানা।
ফুল হয়ে ফুটে থাকি প্রতিদিন।
কিন্তু সব সকাল
আমার জীবনে মধু নিয়ে আসে না।
ত্যাগের গল্পে আমার নাম লেখা থাকে,
তবু পৃথিবী সহজেই বলে—
আমি নাকি স্বার্থপর।
আপন হয়ে উঠলেও
কোনো এক অদ্ভুত সময়ে বুঝি
আমি যেন চিরকালই একটু পর।
কাছে থেকেও দূরে থাকি,
দূরে গিয়েও মনে হয়
এই ঘরই আমার একমাত্র ঠিকানা।
রানীর মতো সম্মান দেয় পৃথিবী,
তারপর নীরবে
দাসীর মতো দায়িত্ব তুলে দেয় হাতে।
ব্যথা জমে বুকের গভীরে,
তবু ঠোঁটে রেখে দিই
এক অনুশীলিত নরম হাসি।
ডিজিটালের আলোর যুগেও
আমি শাড়ির আঁচলে বেঁধে রাখি
মাটির গন্ধ আর শত বছরের সংস্কার।
কারণ আমি নারী—
এই বাংলার মাটিতে জন্মানো
সহনশীলতা, মমতা আর অদম্য শক্তির
এক নীরব, দীপ্ত কবিতা।