শিমুল ডালে রঙিন পলাশ
লেখিকা : নাজমুন নাহার খান
চুলে ধরেছে পাক ধরেছে, দাঁতগুলো সব নড়বড়ে,
চশমা ছাড়া ঝাপসা দেখি, লাঠি ছাড়া পা সরে।
হাড়ের ভেতর মড়মড়ানি, গিন্নি ডাকে— ‘ওগো শোনো’,
কানের ভেতর খিল লেগেছে, শুনছি না তো আর কোনো।
হঠাৎ দেখি পাশের বাড়ির খুকুমণির বিয়ের সাজ,
মনে পড়ে সেই আদ্যিকালের পুরনো সব পিরিত-কাজ!
আয়না নিয়ে একলা ঘরে সিঁথি কাটি ফিটফাট,
ছেঁড়া পাঞ্জাবি বদলে ফেলি, মনে এখন রাজার ঠাট।
গিন্নি বলেন, ‘আক্কেল হবে? বয়সটা কি দেখেছ আয়নায়?’
আমি বলি, ‘মন তো আজও ফড়িং হয়ে উড়তে চায়।’
ডায়াবেটিস আর প্রেশার ভুলে জিলিপি কিনি ভরপেটে,
পঁচাত্তরেও ইচ্ছে জাগে ঘুরি একটু গড়ের মাঠে হেঁটে।
লোকে বলে ‘ভীমরতি’ ওই বুড়োটা কি পাগল হলো?
আমি বলি, ‘জীবনটা তো শেষের দিকেই বেশি ভালো।’
ভাটার টানেও যদি একটু জোয়ার এসে ধাক্কা দেয়,
মরার আগে বাঁচতে চাওয়া— ক্ষতিটা ঠিক কোথায় ভাই?
সবাই তো আর গাম্ভীর্য নিয়ে গম্ভীর হতে পারে না!
জীবনটাকে একটু হালকা মেজাজে দেখাই বোধহয় সার্থকতা।