প্রবন্ধের শিরোনাম : ইনকিলাব
লেখক: রওনাকুল ইসলাম রেজভী
আজ যখন পড়ার টেবিলে বসলাম, দেখলাম টেবিলের এক কোণে আমার ডায়েরি আর কলমটা পড়ে আছে। মনে মনে ভাবলাম, একটু সাহিত্যচর্চা করি; একটা প্রবন্ধ লিখি।
যখন কলমটা হাতে নিলাম, হঠাৎ অতীতের স্মৃতিগুলো মনের কোণে উঁকি দিতে লাগল। কোথা থেকে লেখা শুরু করব, কোন ঘটনা দিয়ে শুরু হবে এই প্রবন্ধ—তা ভাবতে ভাবতেই অনেকটা সময় কেটে গেল। হয়তো অনেকে ভাবছেন, অতীতে কী এমন হয়েছিল? তাহলে শুনুন—
আমার প্রিয় মাতৃভূমি অত্যন্ত সুন্দর। সুদূর অতীত থেকেই এই দেশটার ওপর কিছু অশুভ শক্তির কুনজর ছিল। আমার মাতৃভূমির ইতিহাস বড়ই হৃদয়বিদারক। আজ থেকে প্রায় পৌনে তিনশ বছর আগের কথা, তখন আমি ছিলাম না ঠিকই, কিন্তু ইতিহাস পড়েছি। ১৭৫৬-৫৭ সালের কথা; নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন আমার মাতৃভূমির শেষ স্বাধীন নবাব। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেশ পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু কিছু বিশ্বাসঘাতক ও গাদ্দারের কারণে তাঁকে সিংহাসন হারাতে হয়, দিতে হয় নিজের প্রাণ। এভাবেই একটি স্বাধীন দেশ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়। শুরু হয় জালিমের অবর্ণনীয় জুলুম, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
দীর্ঘ ২০০ বছরের ত্যাগ, সংগ্রাম আর অগণিত প্রাণের বিনিময়ে অবশেষে ১৯৪৭ সালে আমরা ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হই। কিন্তু হায়! সেই স্বাধীনতাও বেশিদিন স্থায়ী হলো না। এক জালিমের কবল থেকে মুক্ত হতে না হতেই আমরা অন্য এক জালিমের খপ্পরে পড়লাম।
শুরুতেই তারা আঘাত হানল আমাদের প্রিয় মাতৃভাষার ওপর। শুরু হলো আবারও সংগ্রাম। ভাষার জন্য প্রাণ দিলেন অনেকে। পৃথিবীর ইতিহাসে বোধহয় আমরাই একমাত্র জাতি, যারা মাতৃভাষার জন্য রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়েছি। রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষা টিকে রইল ঠিকই, কিন্তু জালিমদের শোষণ থামল না। দীর্ঘ ২৩-২৪ বছর এভাবেই আমরা জুলুম সহ্য করেছি। কিন্তু মানুষ আর কত সহ্য করবে?
অবশেষে এক বীরের কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা এল। শুরু হলো মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস তরুণ, যুবক, বৃদ্ধসহ অসংখ্য সংগ্রামী জনতার রক্ত আর মা-বোনদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পুনরায় বিজয় অর্জন করলাম। ফিরে পেলাম আমাদের স্বাধীনতা।
বিজয় অর্জিত হলেও বিদেশি আধিপত্যবাদ থেকে আমাদের পুরোপুরি রেহাই মেলেনি। রক্তের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আমরা যে সুন্দর ভূখণ্ডটি পেলাম, যেন তার ঐতিহ্যই আমরা ভুলতে বসেছি। আসলে আমাদের এই জাতিটি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে—একদিকে জালিম ও বিশ্বাসঘাতক গোষ্ঠী, আর অন্যদিকে জুলুমের শিকার নিপীড়িত জনতা। স্বাধীনতার আগেও যেমন লক্ষ্য লক্ষ্য বিপ্লবী শাহাদাত বরণ করেছেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও এই জালিমদের হাতেই অনেক ভাইকে শহীদ হতে হয়েছে।
এমনই কিছু বীরের নাম না বললেই নয়, যাদের কণ্ঠস্বর ছিল আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন। তারা হলেন—আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, ওসমান হাদি সহ আরও অসংখ্য তরুন তরুণী। অবশেষে মওলানা ভাসানীর সেই বিখ্যাত কথাটি মনে পড়ে— “আমরা বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করতে জানি, কিন্তু স্বাধীনতা রক্ষা করতে জানি না।”
তবে ২০২৪ সালে যে গণবিপ্লবটি হয়েছে, এরপর আর কোনো শাসক বা শক্তি এই প্রিয় মাতৃভূমিতে জালিম হওয়ার সাহস পাবে না। আর যদি কেউ হতে চায়, তবে এই ‘জেন-জি’ (Gen-Z) প্রজন্ম তাদের ছেড়ে দেবে না, ইনশাআল্লাহ। পরিশেষে, যারা বা যে ব্যক্তিরা আবারও জালিম হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলি—জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা ভুলে যাবেন না।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!