প্রতি বছর ৮ মার্চ বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়; বরং নারীর অধিকার আদায়, ত্যাগ এবং সাফল্যের এক অনন্য স্মারক।

আজ ৮ মার্চ, ২০২৬। আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারী অধিকার নিয়ে বলতে গেলে হয়তো লিখে শেষ করা যাবে না। বর্তমান সমাজে নারী যেন অনেক ক্ষেত্রে ভোগ্যপণ্য হিসেবে বিবেচিত। পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি নারীকে দিয়েছে এক অনিরাপদ জীবন। রাস্তাঘাট, বাস, ট্রেন, এমনকি হাসপাতালের মতো সেবামূলক কর্মক্ষেত্রেও আজ নারী নিরাপদ নয়। শুধু একজন নারী কেন, তিন বছরের কন্যা শিশুও এই সমাজের কিছু কুলাঙ্গারের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছে। তার একটাই অপরাধ—সে নারী হয়ে জন্মেছে।

নারীকে আমি সব সময় হরিণের সাথে তুলনা করি। কারণ, হরিণ যেমন নিজের মাংসের জন্য নিজের শত্রু, ঠিক তেমনি একজন মেয়ে নারী হয়ে জন্মায় বলেই যেন অনেক সময় নিজের অস্তিত্বের লড়াইয়ে একাকী হয়ে পড়ে।

এই সমাজ নারীকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে এখনো সক্ষম হয়নি। আইনের শাসন অন্যায়ের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না। যুগ যুগ ধরে কাগজে-কলমেই নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার সীমাবদ্ধ রয়েছে। কেবল কাগজে নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনেও নারীর অধিকার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ এবং অফিস-আদালতসহ সর্বস্তরে নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবেই প্রতিটি নারী দেশমাতৃকায় পুরুষের পাশাপাশি কাজ করে সাফল্যের উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে সক্ষম হবে।

এর জন্য আমাদের প্রয়োজন নারীর নিরাপত্তা, যথাযথ অধিকার, নারী ক্ষমতায়ন এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ। তবেই একজন নারী বিশ্বে মাথা উঁচু করে নিজেকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

— মাহমুদা রানি
বি.এ (অনার্স), এম.এ (বাংলা সাহিত্য)