এক তরুণ কণ্ঠের প্রতিচ্ছবি: এম এ রহমান
ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ভরনিয়া মিলপাড়া গ্রামের নীরব পরিবেশ থেকে উঠে আসা এক সংবেদনশীল ও গভীরচিন্তাশীল তরুণ সৃজনশীল কণ্ঠ — এম এ রহমান (আব্দুর রহমান)। বয়সে তরুণ হলেও চিন্তার গভীরতা, আবেগের সূক্ষ্মতা এবং সৃজনশীল অনুশাসনের কারণে তিনি সমকালীন তরুণ সাহিত্য ও সংগীত অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পাঠ্যজীবনের পাশাপাশি এম এ রহমান নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কবি, গীতিকার, গল্পকার ও সংগীতশিল্পী হিসেবে। এখন পর্যন্ত তিনি ৩৫০টিরও বেশি গান, ৩০০টির অধিক কবিতা এবং বেশ কয়েকটি ছোটগল্প রচনা করেছেন। তাঁর লেখায় আবেগের গভীরতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। প্রেম, বিচ্ছেদ, প্রতারণা, অন্তর্দ্বন্দ্ব, প্রতিবাদ ও সামাজিক সচেতনতা তাঁর সৃষ্টিকর্মের প্রধান বিষয়। সহজ প্রকাশভঙ্গির পরিবর্তে তিনি সচেতনভাবে বেছে নেন পরিশীলিত, উচ্চাঙ্গ ও সাহিত্যসম্মত বাংলা ভাষা—যা তাঁকে সমসাময়িক অনেক তরুণ স্রষ্টা থেকে আলাদা করে।
এম এ রহমানের সাহিত্যচর্চার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর কাঠামোগত শৃঙ্খলা। তিনি কবিতার আঙ্গিক ও বিন্যাস সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। ছন্দের সামঞ্জস্য, দুরূহ ও সাহিত্যিক শব্দচয়ন এবং শব্দপুনরাবৃত্তি পরিহারের ক্ষেত্রে তিনি কঠোর মনোযোগ বজায় রাখেন। তাঁর বহুল আলোচিত কাব্যধারা ‘স্মৃতির দহন’ আবেগের তীব্রতা ও ভাষাগত দৃঢ়তার জন্য পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত।
তারুণ্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এম এ রহমান কেবল ব্যক্তিগত আবেগের কথাই বলেন না; তিনি প্রশ্ন তোলেন ন্যায়, বিশ্বাস, প্রেম, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ঘিরে। তাঁর লেখনী নিছক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এক সচেতন তরুণ নাগরিকের আত্মস্বাক্ষ্য। সময়ের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠ আরও দৃঢ় ও প্রভাবশালী হয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা অমূলক নয়।
তরুণ প্রজন্মের জন্য এম এ রহমানের যাত্রাপথ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সীমিত পরিবেশ, গ্রামীণ প্রেক্ষাপট বা আর্থিক সরলতা কোনো প্রতিভার অন্তরায় নয়—যদি থাকে একাগ্রতা, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস। তিনি প্রমাণ করছেন, কষ্টকে শক্তিতে রূপ দেওয়া যায়, অপমানকে অনুপ্রেরণায় পরিণত করা যায়, আর নিঃসঙ্গতাকেও সৃজনের আলোকবর্তিকায় বদলে ফেলা যায়।
আজ যখন অনেক তরুণ দ্রুত পরিচিতি পাওয়ার স্বপ্নে বিভ্রান্ত, তখন এম এ রহমান ধীরে, সচেতনভাবে নিজের ভিত নির্মাণ করছেন। তাঁর লেখায় যেমন আছে হৃদয়ের আর্তি, তেমনি আছে দায়িত্ববোধ ও প্রশ্ন করার সাহস। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে বাংলা সাহিত্য ও সংগীত অঙ্গনে তাঁর কণ্ঠ আরও দৃঢ় ও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে—এ প্রত্যাশা স্বাভাবিক।