আজ ১৪ই রমজান: মাগফিরাতের বসন্তে রবের ক্ষমায় অবগাহন
তৌহিদ হাসান (মুহিব্বি)
রহমতের সিক্ত ধারা পেরিয়ে রমজানুল মোবারকের চৌদ্দতম দিন আজ। মাগফিরাতের বা ক্ষমার দশকের চতুর্থ দিবস। সময়ের দ্রুতলয় আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, পুণ্য অর্জনের এই মহিমান্বিত মাসটি কত দ্রুত বিদায় নিচ্ছে। মুমিন হৃদয়ে এখন একটাই হাহাকার—রবের ক্ষমা পাওয়া গেল কি না? কারণ, যার রমজান এলো অথচ সে নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারলো না, তার চেয়ে হতভাগ্য আর কেউ নেই।
মাগফিরাতের এই দিনগুলো আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের সময়। মানুষ তার প্রবৃত্তি আর শয়তানের প্ররোচনায় প্রতিনিয়ত কলুষিত হয়। কিন্তু রমজানের এই মাঝামাঝি সময়টি আসে সেই কলুষতা ধুয়ে-মুছে আত্মাকে স্ফটিকস্বচ্ছ করার বারতা নিয়ে।
মাগফিরাত: মহান রবের অবারিত করুণা
১৪ই রমজানের এই প্রহরে পবিত্র কুরআনের সেই অমিয় বাণী আমাদের আশার আলো দেখায়:
“হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন।”
— (সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫৩)
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ঘোষণা অনুযায়ী, রমজানের এই দ্বিতীয় দশকে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতের ফয়সালা করেন। আজকের এই দিনটি কেবল ক্ষুধার যাতনা সইবার নয়, বরং নিভৃতে চোখের জলে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার দিন।
১৪ই রমজানের বিশেষ আমল ও সামাজিক শিক্ষা
১. তাওবায়ে নাসুহা বা খাঁটি তওবা: ১৪ই রমজানের এই সময়ে আমাদের সংকল্প হোক—যে গুনাহগুলো আমাদের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে, তা থেকে চিরতরে ফিরে আসা। আল্লাহ তওবাকারীকে অত্যন্ত ভালোবাসেন।
২. হক-ইবাদ বা মানুষের অধিকার: মাগফিরাত পূর্ণতা পায় না যদি না আমরা মানুষের হক আদায় করি। কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে বা কারো প্রাপ্য নষ্ট করে থাকলে এই দিনগুলোতেই তা মিটিয়ে নেওয়া জরুরি।
৩. তিলওয়াত ও জিকির: কুরআনের এই মাসে প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় অর্থসহ তিলাওয়াত করা এবং ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ এর জিকিরে জিহ্বা সিক্ত রাখা।
৪. ইফতারের মুহূর্তকে কাজে লাগানো: ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তটি দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। নিজের ও উম্মাহর ক্ষমার জন্য এই সময়টি অত্যন্ত কার্যকর।
মুহিব্বি’র কলমে রমজান ভাবনা
রমজান আমাদের শেখায় ধৈর্য আর সহমর্মিতা। ১৪ই রমজানের এই পর্যায়ে এসে আমাদের আত্মোপলব্ধি হওয়া প্রয়োজন—আমাদের রোজা কি কেবল উপবাসে সীমাবদ্ধ, নাকি আমাদের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে? মিথ্যা, গীবত আর অহংকার বর্জন করে যদি আমরা নিজেদের সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়তে পারি, তবেই রমজানের সার্থকতা। মাগফিরাতের এই দিনগুলোই আমাদের প্রস্তুত করবে শেষ দশকের সেই কাঙ্ক্ষিত ‘লাইলাতুল কদর’-এর জন্য।
উপসংহার
আজকের এই চতুর্দশ রমজানে আমাদের কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা—হে আরশের মালিক! আপনি আমাদের জীবনের সমস্ত কালিমা ধুয়ে দিন। মাগফিরাতের এই বারিধারায় আমাদের সিক্ত করুন এবং আমাদের নামগুলো আপনার প্রিয় বান্দাদের তালিকায় লিখে নিন। আমিন।
লেখক: তৌহিদ হাসান (মুহিব্বি)
গল্পকার ও কলামিস্ট
টাঙ্গাইল সদর।