অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ ইচ্ছাশক্তি প্রকাশনী
বই, বিশ্বাস ও ভালোবাসার এক অনন্য সাহিত্যযাত্রা
ইচ্ছাশক্তি প্রকাশনী / Ichchashakti Publication কেবল একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি স্বপ্নের নাম, একটি সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন। যাঁরা শুরু থেকেই এই প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত আছেন, লেখক, সম্পাদক, পাঠক এবং নীরবে পাশে থাকা শুভানুধ্যায়ীরা, এই অগ্রযাত্রার প্রকৃত অংশীদার তাঁরাই। সবার আন্তরিক ভালোবাসা, আস্থা ও নিরলস সহযোগিতার ফলেই ইচ্ছাশক্তি প্রকাশনী আজ সাহিত্যের পরিসরে একটি সুদৃঢ় ও সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে।
একটি প্রকাশনার পথচলা কখনোই সহজ নয়। প্রতিটি বইয়ের পেছনে থাকে গভীর ভাবনা, দীর্ঘ পরিশ্রম, অগণিত সংশোধন এবং সময়ের কঠিন পরীক্ষা। ইচ্ছাশক্তি প্রকাশনী সেই পথেই হেঁটেছে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধকে মূল শক্তি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রকাশনা শুধু বই প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং লেখক ও পাঠকের মধ্যে একটি আন্তরিক ও মানবিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, যেখানে সাহিত্য হয়ে উঠেছে অনুভব ও সংলাপের ভাষা।
এই ধারাবাহিক সাহিত্যযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর মাধ্যমে। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় উৎসব, যেখানে ভাষা আন্দোলনের চেতনা, ইতিহাস ও সৃজনশীলতা একসাথে মিলিত হয়, সেই বইমেলায় ইচ্ছাশক্তি প্রকাশনী এবার নিজস্ব স্টল নিয়ে উপস্থিত হতে যাচ্ছে।
ইচ্ছাশক্তি প্রকাশনীর স্টল শুধুমাত্র বই বিক্রির স্থান নয়; এটি হবে একটি প্রাণবন্ত সাহিত্য মিলনমঞ্চ। এখানে পাঠক ও লেখকের সরাসরি সাক্ষাৎ, প্রাণখোলা আড্ডা, বই নিয়ে আলোচনা, নতুন লেখার গল্প এবং সাহিত্যচর্চার নানামুখী অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ থাকবে। বইয়ের পাতায় বন্দি শব্দগুলো যেন এই স্টলে এসে বাস্তব আলাপচারিতায় নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ তানজিমুল ইসলাম বলেন,
লেখক ও পাঠকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে বইমেলায় আগত লেখক ও পাঠকদের জন্য চকলেটসহ আরও নানা ধরনের উপহার রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, লেখক ও পাঠকরাই সাহিত্যের মূল প্রাণশক্তি; তাঁদের সম্মান জানানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই আয়োজন ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হবে।
বইমেলার দিনগুলোতে ইচ্ছাশক্তি প্রকাশনী বিশ্বাস করে, সাহিত্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন পাঠক তার সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই এই স্টলে থাকবে সব বয়সী পাঠকের জন্য মানসম্মত ও বৈচিত্র্যময় বই, থাকবে নতুন লেখকদের সৃষ্টিশীল কাজের পরিচয় এবং থাকবে সাহিত্যের বিভিন্ন ধারার ভাবনা ও প্রকাশ। ইনশাআল্লাহ, প্রতিটি দিনই হয়ে উঠবে নতুন কিছু জানা, শেখা ও অনুভব করার সুযোগ।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ শুরু হচ্ছে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। মেলার স্থান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে ইচ্ছাশক্তি প্রকাশনীর স্টল থাকবে সকল সাহিত্যপ্রেমীর জন্য উন্মুক্ত, আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য ও অতিথেয়তায় পরিপূর্ণ পরিবেশে।
ইচ্ছাশক্তি প্রকাশনী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বই কেবল কাগজে বাঁধা কিছু পৃষ্ঠা নয়; বই মানুষের চিন্তাকে আলোকিত করে, মূল্যবোধ জাগ্রত করে এবং সমাজকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। এই বিশ্বাসকে ধারণ করেই প্রকাশনী প্রতিটি পাঠকের কাছে পৌঁছাতে চায় এবং প্রতিটি লেখকের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ ইচ্ছাশক্তি প্রকাশনীর জন্য শুধু একটি আয়োজন নয়; এটি কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও স্বপ্ন ভাগাভাগি করার একটি উন্মুক্ত মঞ্চ, যেখানে বই, মানুষ ও অনুভূতি একসূত্রে গাঁথা থাকবে।
বইমেলায় দেখা হবে, শব্দের আড্ডায়, বইয়ের আলোয়, আর ইচ্ছাশক্তির বন্ধনে।