– যে কোনো একটা রঙের নাম বল

– নীরবতা।

 

– যে কোনো একটা শব্দের নাম বল

– অপেক্ষা।

 

– যে কোনো একটা পথের নাম বল

– ফিরে-আসা।

 

– যে কোনো একটা ঘড়ির সময় বল

– ঠিক যখন ভুল হয়।

 

– এবার আমি তোমার ভাগ্য পড়তে পারি।

– পড়ো।

 

– খুব সাধারণ হবে তোমার জীবন।

 

মেঝেতে ধুলো,

জানালায় রোদ,

টেবিলে ঠান্ডা চা।

 

তুমি বলবে, চলি।

রাস্তা বলবে, দাঁড়াও।

 

তুমি বলবে, ভালো আছি।

আয়নাটা কিছু বলবে না।

 

দুপুরে ভাতের সাথে

একটু লবণ বেশি পড়বে,

তুমি হাসবে,

কারণ ঝাল লাগলে কাঁদা যায়।

 

রাতে ঘুম আসবে না,

তবু আলো নিভিয়ে রাখবে

যেন কেউ এসে পড়ে—

তোমার চোখের ভেতর।

 

দিন যাবে

ক্যালেন্ডারের পাতা ছিঁড়ে নয়,

চুপচাপ ভাঁজ হয়ে।

 

তারপর—

 

হঠাৎ একদিন

ডান কাঁধের কাছে

হালকা ব্যথা,

ডাক্তারের ভাষায় কিছুই না।

 

কিন্তু ওই ব্যথা

ধীরে ধীরে নামবে

হাত, বুক,

শব্দের ভেতর।

 

একটা ছায়া

যার পা নেই,

কিন্তু হাঁটে।

 

যার মুখ নেই,

কিন্তু ডাকে।

 

তুমি প্রশ্ন করবে—

– তুমি কে?

 

সে বলবে না কিছু,

শুধু খুলে দেবে

তোমার পুরনো বাক্স।

 

ভেতরে থাকবে—

অপঠিত চিঠি,

অর্ধেক সাহস,

আর একটা মানুষ

যাকে তুমি রেখে এসেছিলে

“পরে দেখব” বলে।

 

– সেই ছায়াটা কি আমি?

 

– না।

 

– তবে?

 

– তুমি যাকে

নিজের জন্য সময় না বলে

ধীরে ধীরে

ভবিষ্যতের কাছে বন্ধক রেখেছিলে।