চলে গেলেন “গনতন্ত্রের মা”

মহসিন আলম মুহিন

 

গৃহবঁধু থেকে দেশের কর্ণধার-

কতগুণে গুনাম্বিতা আমার গনতন্ত্রের মা’র।।

ধৈর্য্য, সহ্য, সবুরের এক মহান মহীয়সী নারী,

স্বামীহারা হয়েও দুই পুত্র আর দেশের জনগনকে নিয়ে দিলেন দুঃখের সাগর পাড়ি।।

নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী,

অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি

তাইতো তিনি আপোষহীন নেত্রী।।

স্বৈরাচার হঠাও, দেশ বাঁচাও নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা,

আলেম ওলামাদের কদর, সাথে

নারী শিক্ষার প্রসার এবং বৃত্তি প্রদান করে দিলেন নারী শিক্ষার মর্যাদা।।

জেল, জুলম, শত অত্যাচারেও ত্যাগ করেননি দেশ,

আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস এবং জনগণে প্রতি আস্থা ছিলো বেশ।।

মানুষের জন্য মানুষের কল্যানে ব্যয় তার রাজনৈতিক জীবন,

তাইতো তাঁকে হারিয়ে কাঁদে দেশের

জনগণ।।

শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়ন ও ধানের শীষের তুমি ছিলে যোগ্য কান্ডারী,

তোমার আদর্শ রেখে গেলে আরও রেখে গেলে তোমার নয়নমনি তারেকের মতো উত্তরসূরী।।

তোমাকে হারিয়ে হারিয়ে ফেলেছি কথা বলা লেখনী ভাষা,

মহান রবের কাছে প্রার্থনা জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান করুন গনতন্ত্রের মাকে এই মনের আশা।।

 

কবিতায় খুঁজি

মহসিন আলম মুহিন 

 

হারাবার নেই ভয় ঘুরতে ঘুরতে

ঘুরে এলাম কতটা পিচ্ছিল পথ,

মেঘের আলয় কালো মেঘের ছায়া

বিদ্যুতের চোখ রাঙানি মায়া,

অমাবস্যার রাতের অন্ধকার নাগ-নাগীনির

বিষে ভরা-দীর্ঘশ্বাসের মহল সবখানে তাঁর কায়া।।

 

বৃষ্টিরা ছুঁয়ে দেয় উত্তপ্ত প্রেম, শিলা বৃষ্টি

শীতল করে প্রাণ,

নীলাম্বর ডেকে নেয় বুকের ভিতর,

অপ্রত্যাশিত আবেগ দিয়ে

ভুলিয়ে দেয় না পাওয়ার বেদনা।।

 

দারুচিনি দ্বীপে, হিমালয়ের বুকে,

শালবনের শোভায়,পাহাড়ের মমতায়,

সবুজে ঘেরা লেকে,

নদী সাগরের মিশে যাওয়া আকাঙ্ক্ষায়

হাওয়াই জাহাজের আসনে বসা বিশাল উচ্চতায়।।

 

সমস্ত সত্তা জুড়ে ক্লান্তি নামে

রাতের বিশ্বাসের নিঃশ্বাসে আড়ষ্ট

কোমল তনু,

গভীর ঘুমে হালকা হয় আদিম আশার,

হংস যুগলের ডুব খেলা স্বপ্নে হারায়।।

 

কোন মিলনের আসরের সানাইয়ের

সুরে ফুটে উঠে প্রিয়ার হিয়া,

ভ্রমরার গুঞ্জনে কাননে কাননে

ফুলের আলিঙ্গনে বিরহ-যাতনা থামায়।।

 

ঘাস ফুলেরা জড়িয়ে ধরে রাখে

আগামীর পথ,

প্রজাপতিরা ডানা ঝাপটায়,

হিমেল হাওয়ায় উড়তে থাকে

না পাওয়ার স্বাদ কবিতায়-

আবার সুর উঠে বিচ্ছেদের হালখাতায়।।

 

কেন আড়ালে থাকো

মহসিন আলম মুহিন

 

আশা দিয়ে তুমি আড়ালে চলে গেলে,

কিসের ছুতায়, কি দোষ খুঁজে পেলে।।

ভরা ভাদরে বলো কেন আছো দূরে সরে,

নদী’ যৌবনা, তবুও মিশে না কেন সাগরে।।

নয়নের জলে বেদনারা ভিজে ভিজে সিক্ত-

ফল নাহি মেলে, সবই লাগে যেন রিক্ত।।

ফুল আসে, কেন ফল নাই গাছের ডালে,

ঘুঙুর পড়া পাখিরা বসে না কেন চালে।।

কেন আড়ালে থেকে বিরহের দাও জ্বালা,

তোমারই বিহনে অন্তর পুড়ে হলো কালা।।

মেঘে ঢাকা চাঁদ যায় না দেখা চোখ ভরে,

বিষাদ লাগে, সারাক্ষণ মনটা শুধুই পোড়ে।।