কবিতা: হিসাবের খাতা
কলমে: অনিমেষ বিশ্বাস
পকেটে জমানো কিছু খুচরো সপ্ন, মলিন ভাঁজ করা নোট,
মাস শেষে হিসেব মেলাতে গিয়েই বাড়ে গলার চোট।
ছেঁড়া গেঞ্জিটা গায়ে জড়িয়েই বাবা হাসিমুখে হাঁটে,
ব্যথার পাহাড় চেপে রেখে শুধু সংসারের ঘানি টানে।
মায়ের শাড়ির আঁচলটা আজ বড় বেশি জীর্ণ আর তামাটে,
নিজের শখগুলো বিসর্জন দিয়ে সুখ খোঁজে খুদ-কুঁড়োতে।
ইস্ত্রি করা সাদা শার্টে আড়াল করা যায় সব হাহাকার,
মধ্যবিত্তের ঘরে নোনা জলই হলো নিত্য অলংকার।
ঈদের নতুন জামাটা শুধু কেনা হয় ছোটদের তরে,
বড়দের ইচ্ছেগুলো ডুকরে মরে বন্ধ ঘরের কোণে।
সামাজিকতার মিছে মুখোশ টেনে লড়ে যেতে হয় রোজ,
কেউ রাখে না ক্ষয়ে যাওয়া ওই মানুষগুলোর খোঁজ।
অসুখ বিসুখেও দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে সব ব্যথা,
আভিজাত্যের আড়ালে চাপা থাকে তাদের না বলা কথা।
বাজারের ব্যাগে উপচে পড়া অভাব, হাতে অপূর্ণ তালিকা,
তবুও সম্মানের দায়ে সাজাতে হয় মিথ্যে সুখের মালিকা।
সব থেকেও কিছু না থাকার কি নিদারুণ যন্ত্রণা,
বুকের ভেতর মেঘ জমে রয়, নেই কোনো সান্ত্বনা।
হিসাবের খাতা বন্ধ হলেও দীর্ঘশ্বাস থামে না কভু,
অশ্রুসজল এই জীবন কি এভাবেই কাটবে হে প্রভু?