রোজ বিকেল ৩ টা
রিফাত ইসলাম

প্রতিদিনের মতো আজও আমি অপেক্ষায়।
জানালাটা বেশ উঁচু—ওখান থেকে তাকে দেখা যাবে না, আমি জানি।
তাই ভরদুপুরে নিজেকেই একটা অজুহাত দিলাম—
আজ একটু অন্য জায়গায় বসে পড়ি।

চারপাশ শান্ত।
নিজেই নিজেকে বললাম,
“সবাই যেখানে চেয়ার টেবিলে বসে পড়ে,
আমি না হয় জানালার কাছেই একটা জায়গা করে বসি।”

বলেই নিজের উপর নিজেই খুশি।

ঘড়িতে তখন দুইটা আটান্ন।
মন ছটফট করছে।
মানুষটা মনে হয় এইমাত্রই যাবে আমার চোখের সামনে দিয়ে।
জানালা পেরোতে তার সময় লাগবে—মোটে দুই সেকেন্ড।

আচ্ছা…
এই সময়টায় যদি পৃথিবীর সবকিছু থেমে যেত!
যদি আমার জানালাটা হতো চীনের মহাপ্রাচীরের মতো প্রশস্ত—
তাহলে হয়তো চোখ দুটো একটু বেশি সময় নিয়ে
দেখতে পারতো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটা।

ওইতো—
আসছে।

কি অপরূপ চোখ!
শেষ বিকেলের সূর্যাস্তও এত কোমল নয়।
সারাদিনের ক্লান্তি যেন গলে যায় তার এক ঝলক চাওয়া–চাওয়ায়।

তার তাকানোর ভঙ্গি এমন—
যেন যুদ্ধে বিজয়ের খবর পাওয়া মাএই
একটা তীর এসে গেঁথে গেছে ঠিক বুকের বাঁ পাশে।

আহ!
এখন যদি কেউ আমাকে জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে নিতে পারতো—
হয়তো বেঁচে যেতাম।
কিন্তু না…
তা আর হলো না
তার এক ফোঁটা মুচকি হাসিই
আমাকে আর বাঁচতে দিল না।

মনে হলো—
প্রাণভোমরা যেন এখনি উড়াল দিলো বলে।
আর ভালো লাগছে না
মেয়েটা গুটি গুটি পায়ে জানালার দূরত্ব পার হয়ে চলে গেল।
আর ভালো লাগছে না… ধ্যাত!

আবার অপেক্ষা।
আবার বিকেল ৩ টা অব্দি অপেক্ষা।

এই অপেক্ষা তুমি এমন কেন?
তোমার ঘড়ির কাটাগুলোকে বলতে পারো না
আরেকটু দ্রুত এগোতে?

আমার প্রাণ যায় যায়—
আর তুমি যেন শুনতেই পাও না!

এই অপেক্ষা তুমি এমন কেন?